ইউরোপ বা এশিয়ার দেশগুলোতে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে স্কুটার অত্যন্ত জনপ্রিয়। যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র তবে ভিন্ন। সেখানে স্কুটারকে মূলধারার বাহন হিসেবে গণ্য করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি নিছক শৌখিন বাহন হিসেবেও দেখা হয়। তবে এই ধারণাটি হয়তো খুব শিগগিরই বদলে যেতে পারে। বিখ্যাত বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লাইভওয়্যার তাদের নতুন বৈদ্যুতিক ‘ম্যাক্সি-স্কুটার’ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুটার বাজারকে নতুন রূপ দিতে যাচ্ছে।
লাইভওয়্যারের আসন্ন এই ম্যাক্সি-স্কুটারটি কেবল দেখতে আধুনিক নয়, এর কারিগরি সক্ষমতাও চমকপ্রদ। প্রতিষ্ঠানটি এই স্কুটার তৈরিতে তাদের ‘এস২’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। এই একই আর্কিটেকচার বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাইভওয়্যার তাদের শক্তিশালী বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল তৈরি করে থাকে। ফলে বাহ্যিক দিক থেকে এটি স্কুটার মনে হলেও, এর ভেতরে থাকছে পুরোদস্তুর মোটরসাইকেলের গঠন।
ধারণা করা হচ্ছে, লাইভওয়্যারের ‘এস২ ডেল মার’ মোটরসাইকেলের মতো এই স্কুটারটির গতি ও ত্বরণ অত্যন্ত ক্ষিপ্র হবে। এস২ ডেল মার মাত্র ৩ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে ঘণ্টায় ০ থেকে ৯৬ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে। নতুন স্কুটারটিতেও এমন শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং হাইওয়েতে চলার মতো সক্ষমতা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেলের মতো এতে বিশাল কোনো ফুয়েল ট্যাংক নেই, যা চালকের বসার ভঙ্গিতে প্রভাব ফেলে। এর ‘স্টেপ-থ্রু’ ফ্রেম বা নিচু কাঠামোর কারণে এতে ওঠানামা করা খুব সহজ। কোনো গিয়ার বদলানোর ঝামেলা নেই, শুধু থ্রটল ঘোরালেই এটি চলবে। যারা মোটরসাইকেল চালাতে ভয় পান, তাদের জন্য এই স্কুটার একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। সাইকেল চালাতে জানেন, এমন যে কেউ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই ম্যাক্সি-স্কুটার চালাতে পারবেন।
শহরের রাস্তাঘাট স্কুটার চালানোর জন্য বেশ উপযোগী। শহরের ভেতরে ছোটখাটো কাজ সারার জন্য বা ভিড় এড়িয়ে চলার জন্য এটি আদর্শ। লাইভওয়্যারের এই স্কুটারটিতে বড় চাকা ও উন্নত সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সাধারণ ছোট স্কুটারের মতো এটি রাস্তায় নড়বড়ে মনে হবে না, বরং বেশ স্থিতিশীল ও নিরাপদ অনুভূতি দেবে। পাশাপাশি এতে চালকের পেছনে আরেকজন যাত্রীর বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে, যা আরামদায়ক ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে বৈদ্যুতিক বাইকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মানুষ এখন স্টিলের বাক্সের মতো গাড়ির বাইরে বিকল্প বাহন খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে লাইভওয়্যারের স্কুটারটি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এতে ই-বাইকের সুবিধার সঙ্গে মোটরসাইকেলের গতি ও শক্তি দুটিই পাওয়া যাবে। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কম এবং শব্দহীন হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধবও।
তাইওয়ানের বিখ্যাত স্কুটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কাইমকোর সঙ্গে অংশীদারত্বের কারণে লাইভওয়্যার এই স্কুটারটির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএমডব্লিউর মতো দামি ব্র্যান্ডের তুলনায় এটি সাশ্রয়ী হতে পারে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এই ম্যাক্সি-স্কুটারটি বাজারে আসার কথা রয়েছে। অটোমোবাইল বিশ্লেষকদের মতে, এই স্কুটার চালকদের স্কুটার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।