সৌরচালিত গাড়ির জগতে এক চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন অ্যাপটেরা মোটরের সহ-সিইও স্টিভ ফ্যামব্রো। তিনি দেখিয়েছেন, তার বাড়ির ছাদে বসানো সোলার প্যানেলের চেয়ে বাড়ির সামনে রাখা তার সৌরচালিত গাড়িটি (এসইভি) বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে অ্যাপটেরা যে প্রযুক্তির স্বপ্ন দেখে আসছে, এটি তার এক বাস্তব উদাহরণ।
স্টিভ ফ্যামব্রো জানান, এক সকালে ৮টার কিছু পরে তিনি লক্ষ করেন, তার বাড়ির ছাদ থেকে মাত্র ১৩৬ ওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ঠিক একই সময়ে বাইরে রাখা অ্যাপটেরা গাড়িটি ৩০০ ওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। একপর্যায়ে দেখা যায়, গাড়িটি ৩৬৩ ওয়াট বিদ্যুৎ তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। সাধারণত বাড়ির ছাদে বসানো সোলার প্যানেলগুলো দুপুরের কড়া রোদের কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট কোণে বসানো হয়। ফলে সকালের মৃদু আলো বা তির্যক সূর্যরশ্মি থেকে সেগুলো বেশি বিদ্যুৎ পায় না। অন্যদিকে, অ্যাপটেরা গাড়ির সামনের অংশ, ড্যাশবোর্ড এবং ছাদ জুড়ে বাঁকানো সোলার প্যানেল থাকায় তা দিনের যেকোনো সময়ে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।
অ্যাপটেরার এই গাড়িতে ৭০০ ওয়াটের সোলার প্যাকেজ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিদিন অন্তত ৬৪ কিলোমিটার পথ চলার মতো বাড়তি শক্তি পাওয়া সম্ভব। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন বাস্তব পরীক্ষায় এই তথ্যের সত্যতা মিলেছে। যদিও সারা দিনের হিসাবে বাড়ির ছাদের প্যানেল বেশি বিদ্যুৎ দেবে, তবে সকালের কম আলোতে গাড়ির জ্যামিতিক নকশা একে বাড়তি সুবিধা দেয়। ফলে ব্যবহারকারীকে বারবার চার্জিং স্টেশনে যাওয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না।
সম্প্রতি অ্যাপটেরা তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নতুন একটি ইভি স্টার্টআপ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে থাকলেও তাদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থেমে নেই। গত ৩ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার কার্লসব্যাডে তাদের অ্যাসেম্বলি লাইন থেকে প্রথম সৌরচালিত ইভি সফলভাবে তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। কোম্পানির সহ-সিইও ক্রিস অ্যান্থনি ২০২৫ সালকে তাদের জন্য রূপান্তরের বছর হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাধারণ যাতায়াত ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী করতে অ্যাপটেরার এই উদ্ভাবন অটোমোবাইল খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আবরার জাহিন