শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১০ জন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ নিয়ে গত ২ অক্টোবর ‘দৈনিক খবরের কাগজ’-এ ‘শিক্ষা ছুটি শেষে ফেরেননি নোবিপ্রবির ১০ শিক্ষক’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং বকেয়া অর্থ ফেরত দিতে শুরু করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ১০ শিক্ষকের মধ্যে ৭ জন ইতোমধ্যেই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে তিনজন শিক্ষক নগদ ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৯ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন কিস্তিতে টাকা পরিশোধের আবেদন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক সাইফুর রহমান জমা দিয়েছেন ২৮ লাখ ১১ হাজার ৭১৮ টাকা, ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক মো. ইমদাদুল হক খান দিয়েছেন ১৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরাফাত রহমান দিয়েছেন ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৯ টাকা।
অন্যদিকে সিএসটিই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষক ইয়াছিন কবির ২০ লাখ ২ হাজার টাকা ১৯টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন করেছেন। বিজিই (বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরাদন সরকার ২৪ কিস্তিতে ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিজিই বিভাগের আরেক সহকারী অধ্যাপক খাদিজাতুল কোবরার কাছে পাওনা ৩২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তিনি নিজের সুবিধামতো কিস্তিতে টাকা পরিশোধের আবেদন করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নীতিমালার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এদিকে এখনো বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সাড়া পাওয়া যায়নি, যাদের কাছে পাওনা রয়েছে প্রায় ৯৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. তামজিদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের বারবার তাগিদ দিচ্ছি। সংবাদ প্রকাশের পর তারা টাকা দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দিলে বিষয়টি ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও রয়েছে। টাকা আদায়ে আমরা আশাবাদী।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যারা এখনো টাকা পরিশোধ করেননি, তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। যথাসময়ে টাকা ফেরত না দিলে সরকারি আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মামলা করে টাকা উদ্ধার করা হবে।’