জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হলের সামনে থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বাসায় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলামের (৩২) বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-এর ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষের (৪৪তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের আবাসিক। ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি তার বিভাগের এক নারী শিক্ষিকার কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই শিক্ষিকা জানান, ‘অভিযুক্তের সঙ্গে শিক্ষার্থীর পূর্বে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়। মঙ্গলবার রাতে তারিকুল ইসলাম ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে “শেষবারের মতো কথা বলার’ অজুহাতে তাকে বাইরে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
একপর্যায়ে ইফতার সামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগীকে ইসলামনগরের একটি বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত তার মুখে টেপ লাগিয়ে হাত বেঁধে মারধর করেন এবং তার হাতে গরম পানি ঢেলে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নির্যাতনের এক পর্যায়ে পুড়ে যাওয়া স্থানে ওষুধ আনার কথা বলে অভিযুক্ত বাইরে যান এবং কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। ওই সুযোগে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে প্রায় ৩–৪ সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে। আমাদের কেন্দ্রে এ ধরনের বার্ন ইনজুরির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে রেফার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জেনেছি। তবে এখনো আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত বলে জেনেছি। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আমানউল্লাহ/রিফাত/