জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং ছাত্রীদের যাতায়াতকে সহজ করতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে বৈদ্যুতিক গাড়ি সেবা চালু হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আব্দুর রাজ্জাক আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন। নতুন এই উদ্যোগকে ক্যাম্পাসে টেকসই পরিবহনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শাহজাদা মাহমুদুল হাসান। পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন, যন্ত্রাংশ সংযোজন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নির্মাণ–সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে রুয়েটের নিজস্ব প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহার করে। ফলে এটি কেবল একটি পরিবহন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার একটি বাস্তব প্রতিফলনও।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানিসংকটের বর্তমান বাস্তবতায় ক্যাম্পাসে চলাচলকারী কিছু ডিজেলচালিত বাসের ট্রিপ কমিয়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়ে যায়। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ তাদের আবাসিক হলগুলো একাডেমিক ভবন থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে অবস্থিত। এই সমস্যাকে সামনে রেখে রুয়েটের গবেষক দল কম খরচে পরিচালনাযোগ্য, পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানিনির্ভরতা কম এমন একটি বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, গাড়িটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা, যা বাজারে প্রচলিত বৈদ্যুতিক যানবাহনের তুলনায় কম। ১২ আসনের এই গাড়িটি নির্ধারিত রুটে প্রতি ২০ মিনিট পরপর চলাচল করবে এবং ছাত্রীদের আবাসিক হল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দেবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই সেবা ব্যবহারের জন্য ছাত্রীদের কোনো ভাড়া দিতে হবে না, যা তাদের আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও দেবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানই নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ফলে জ্বালানি খরচ কমবে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং ক্যাম্পাসে শব্দদূষণও কমবে।
প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক শাহজাদা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আউটকাম বেসড এডুকেশনের (ওবিই) লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার একটি টেকসই সমাধান দিতে পেরেছি। কারণ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলো একাডেমিক ভবন থেকে দূরে হওয়ায় এই সেবাটি তাদের জন্য উপকারী হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও গাড়ি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রুট পারমিট পাওয়া গেলে এই গাড়ি ক্যাম্পাসের বাইরেও চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাইরে থেকে গাড়ি না কিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাত থেকেই এটি তৈরি করা হয়েছে, যা একদিকে ব্যয় সাশ্রয় করেছে, অন্যদিকে গবেষণাকে উৎসাহিত করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’