জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) খাবারে মাছি পাওয়া নিয়ে এক জাকসু নেতার বিরুদ্ধে হোটেল কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে পরদিন শিক্ষার্থীদের একাংশ বটতলার প্রায় অর্ধশত দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে বটতলার একটি খাবারের দোকানে খেতে গিয়ে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক হালিমে মাছি দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানের এক কর্মচারীর দিকে হালিমভর্তি বাটি ছুড়ে মারেন। এতে কর্মচারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
ঘটনার পর বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যার দিকে একদল শিক্ষার্থী বটতলার দোকানগুলো বন্ধ রাখার আহ্বান জানায়। পরে অন্তত ৫০টি দোকান বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। এক পক্ষ অভিযুক্ত জাকসু নেতার শাস্তির দাবিতে অবস্থান নেয়, অন্য পক্ষ দোকান বন্ধের বিরোধিতা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানায়। উভয় পক্ষের মধ্যে স্লোগান ও বাকবিতণ্ডায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাকসু নেতার আচরণের প্রতিবাদে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মীও যুক্ত হন।
অন্যদিকে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী দোকান খোলা রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।
এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী খবরের কাগজকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বটতলার হোটেলগুলোতে খাবার খান। কেউ অন্যায় করলে তার যথাযথ বিচার হওয়া উচিত, তবে জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক নয়।
একই সঙ্গে নিচু বটতলার দোকানগুলো শেরে বাংলা হলের আওতাধীন হওয়ায় ওই হলের একদল শিক্ষার্থী দাবি করেন, অন্য হলের শিক্ষার্থীদের এসব দোকান বন্ধ করার অধিকার নেই। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে দোকান বন্ধের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা শিক্ষার্থীদের দাবি, দোকানদারেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এক ঘণ্টার জন্য দোকান বন্ধ রেখেছিলেন প্রতিবাদের অংশ হিসেবে।
যদিও কয়েকজন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একদল শিক্ষার্থী এসে দোকান বন্ধ করতে বলেন; কেন বন্ধ রাখা হচ্ছে সে বিষয়েও তারা স্পষ্ট ধারণা পাননি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আরাফাত খান বলেন, অভিযুক্ত নেতা অন্যায়ভাবে একজন কর্মচারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, ঘটনার বিচার দাবি করা হলেও জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।
তবে হোসনে মোবারক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে বাটি ছোড়েননি; খাবারের মান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই এমনটি করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে। পরে প্রায় চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান, উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আজ তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
আমানউল্লাহ খান/অমিয়/