অবিরাম কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীতে গত এক সপ্তাহ থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছেন নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষরা। নিচু এলাকায় আমন ধানসহ শীতের আগাম সবজির ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
রবিবার (৬ অক্টোবর) গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের ৪৯ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীতে ৪৮ সেন্টিমিটার, করতোয়ায় ৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিস্তার পানি ১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। সবগুলো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই পরিমাণ পানি বৃদ্ধি পায়। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক মুঠোফোনে জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার নদ- নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। করতোয়া, ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ সকাল থেকে তিস্তার পানি কমছে। অতিবৃষ্টি আর উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ঘাঘট, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধা সদর উপজেলা,সাঘাটা ও ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদীবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে কাঁচা রাস্তায় কাঁদা হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে ওই সব এলাকার মানুষ।
সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এ বছর দুইবার বন্যায় শিকার হয়েছি। নতুন করে আবার নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ধরে বাড়ছে পানি। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেলে কয়েক দিনের মধ্যেই নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ওঠার শঙ্কা রয়েছে।’
ফুলছড়ি উপজেলার ভাসারপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল (৫৫) বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। নদীর পানি কিছুটা কমেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে আবার বাড়তে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলে আমনের ধান ও শাক-সবজি সব ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আগের বন্যার ক্ষতিই পুষিয়ে উঠতে পারিনি। তাতেই ফের নদীতে পানি আসছে।’
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো কোনো নদ-নদীর পানি বিপদৎসীমা অতিক্রম করেনি। বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ৬শ টন চাল, শুকনো খাবারের প্যাকেট মজুত রয়েছে। আমরা সার্বক্ষনিক নজর রাখছি।
এদিকে রংপুরের আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার (৫ অক্টোরব) থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
রফিক খন্দাকার/সাদিয়া নাহার/অমিয়/