রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি চলছে।
রবিবার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে রামেক হাসপাতাল চত্বরে রামেকহা ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের ডাকে তারা কর্মবিরতি পালন করেন।
তাদের দাবিসমূহ হলো, ১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে।
২. স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৩. নতুন পে স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকগণের বেতন আনুষাঙ্গিক ভাতা সহ নবম গ্রেডের সমমান নির্ধারণ করে প্রতিমাসের বেতন প্রতিমাসেই পরিশোধ করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে (শ্রম আইন ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং নতুন পে-স্কেল এর আদলে অনুসরণ করতে হবে)।
৪. বিএমডিসি ও বিসিপিএস এর সকল ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তি ফি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনতে হবে।
৫. বিসিএস স্বাস্থ্যে ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২ বছর বর্ধিতকরণ করতে হবে অর্থাৎ ৩৪ বছর করতে হবে।
৬. বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশের খসড়া আইনে রূপান্তর করে এই আইন অনুযায়ী বিএমডিসি বহির্ভূত সকল অবৈধ ডাক্তার পরিচয় দানকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান নানা সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরীক্ষার ফি কমানোর দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির, ডেন্টাল ইউনিটের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ শেখ, রামেক শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রমিজ মুত্তাকিন, সেক্রেটারি আবিদ হাসান, রামেক শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহারুল ইসলাম লিমন সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা রামেক হাসপাতালের পরিচালক ও রামেকের অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এদিকে ইন্টার্নদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা আংশিক ব্যাহত হচ্ছে। তবে রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের সেবা চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জরুরি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এনায়েত করিম/অন্তরা