যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় মাটিভর্তি ছয়টি ট্রাক জব্দ করার এক দিন পর পুলিশ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এর মধ্যস্থতা করেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ঝিকরগাছা উপজেলা শাখার ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর।
গত সোমবার (৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে ঝিকরগাছা-বাঁকড়া আবুল ইসলাম সড়কের নারাঙ্গালী মোড় সড়ক থেকে ট্রাকগুলো জব্দ করে পুলিশ। এর মধ্যে চারটি ট্রাকে মাটি ভর্তি এবং দুটি খালি ছিল। ঝিকরগাছা থানায় জায়গাসংকটের কারণে ট্রাকগুলো উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন মো. হুমায়ুন কবীর। তিনি ঝিকরগাছা থানার পুলিশকে ‘অনৈতিক সুবিধা’ দিয়ে মামলা থেকে বিরত থাকার ব্যবস্থা করেছেন।
এদিকে যথাসময়ে মামলা না হওয়া, সময়ক্ষেপণে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোয় সমস্যা এবং সংশ্লিষ্টদের ক্ষমাপ্রার্থনার কারণে মুচলেকা নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
যশোর জেলা শাখার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্যসচিব মো. আসলাম উদ্দিন রবিন ও সদস্য মাহমুদ হাসান জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ তারা সোমবার গভীর রাতে একটি ত্রাণ কার্যক্রম শেষে ঝিকরগাছায় ফিরছিলেন। ওই সময় (রাত সাড়ে ১২টা) ঝিকরগাছা-বাঁকড়া আবুল ইসলাম সড়কের নারাঙ্গালী মোড়ে মাটিবোঝাই একটি ট্রাক দেখতে পান। সেখানে থামার পর আরও পাঁচটি ট্রাক দেখতে পেয়ে সেগুলোকেও থামানো হয়। এর মধ্যে চারটি ট্রাকে মাটিবোঝাই ছিল। অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের কারণে ইউএনও গাড়িগুলো জব্দ ও গাড়ির বিরুদ্ধে পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তবে পুলিশ সে বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। বরং জব্দ গাড়ির ড্রাইভার-হেলপারদের সঙ্গে পুলিশকে উপজেলা মোড়ে চা-নাশতা করতে দেখা গেছে। তারা জানান, গাড়িগুলোর মালিক ঝিকরগাছা হাজিরালী এলাকার গোল্ড ব্রিকসের (মহসীন ভাটার)।
পুলিশের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবীর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে যশোরের বিভিন্ন সাংবাদিকের সঙ্গে তার পরিচয় আছে বলে জানান। এমনকি এ প্রতিবেদককে একপর্যায়ে গালিগালাজ করেন।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘সোমবার রাত দেড়টার দিকে ছয়টি ট্রাক পুলিশের টহল টিমের কাছে দেন ইউএনও। পরে ট্রাকগুলো উপজেলা পরিষদে রাখা হয়। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো লেনদেনের অভিযোগ ঠিক না।’
জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার বলেন, ‘মামলার বাদী না পাওয়ায় এবং সংশ্লিষ্টদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গত ৭ আগস্ট দলীয় বিশৃঙ্খলার দায়ে মো. হুমায়ুন কবীরকে ঝিকরগাছা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।