১ হাজার ৪৯ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট জেলা মাগুরা। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চলছে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য। যত্রতত্র ইজিবাইক পার্কিং, অনভিজ্ঞ চালক, ফুটপাতের জায়গা দখল করে ব্যবসাসহ নানা কারণে শহরে যানজট লেগেই থাকছে। এতে স্কুল ও অফিসগামী মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।
যানজটের মূল কারণ ইজিবাইক ও অটোরিকশা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে ছয় থেকে সাত হাজার ইজিবাইক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহর। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দুই থেকে ৩ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ৩ হাজার ব্যাটারিচালিত ভ্যান গাড়ি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের প্রধান সড়কের ভায়না মোড় থেকে চৌরঙ্গী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইজিবাইক সবচেয়ে বেশি চলাচল করে। প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এই সড়কে। চৌরঙ্গী সড়কে এলোমেলো দাঁড়িয়ে থাকে ইজিবাইক। পথচারীদের চলাচলের জন্যও কোনো জায়গা থাকছে না।
শুধু এ সড়কেই নয়, শহরের পুরাতন বাজার, থানার সামনে, মাগুরা সরকারি কলেজ ও জজকোর্টের সামনে, ঢাকা রোড, হাসপাতালের সামনে নতুন বাজার সড়কেও একই দৃশ্য। ভায়নার মোড় অতিক্রম করেই শহরের ভেতরে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজ, সদর থানা, পৌরসভা, এসপি অফিস, জজকোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংক, মাতৃসদন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে যেতে হয়।
শহরের যানজট নিয়ে অন্তত ১০-১৫ জন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে খবরের কাগজ। তারা জানান, শহরের সব কটি সড়কজুড়ে ইজিবাইক চলাচল করছে। রাস্তার মোড়গুলোতে অবৈধ স্ট্যান্ডে সারা দিনই যানজট লেগে থাকে। ইজিবাইকের চালকরা নিয়মকানুন মানে না। তারা নিয়ম বুঝতেও চায় না। ১২-১৩ বছরের শিশুরা থাকছে চালকের আসনে। নিজেদের মর্জিমতো গাড়ি চালায় তারা। অদক্ষ চালক ও অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের কারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
মাগুরা ইজিবাইক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘শহরের যানজট নিরসনে ২০১৮ সালে চালক ও ইজিবাইককে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য আবেদন আহ্বান করে পৌরসভা। সে সময় প্রায় দুই হাজার ইজিবাইক নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়। তাদের পৌরসভার পক্ষ থেকে নম্বর প্লেট দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শহরে যানজট নিরসনের জন্য দুটি রঙে বিভক্ত করে ইজিবাইকগুলোকে শহরে এক দিন এক দিন করে চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। সে সময় নিবন্ধন বাবদ কারও কাছ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা, কারও কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ২ হাজার বা ১ হাজার টাকাও নেওয়া হতো। এই টাকা দিয়ে ২২ জনের একটি টিম শহরে কাজ করত যানজট নিরসনের জন্য। যাদের প্রতিদিন ৪০০ টাকা হারে সপ্তাহে এক দিন পৌর কর্তৃপক্ষ বেতন দিত। সেই সময়টাতে শহরে কিছুটা যানজট নিরসন করা সম্ভব হয়েছিল। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন শহরে ঢোকার মতো অবস্থা নাই। পৌরসভার নতুন প্রশাসক যদি আমাদের দায়িত্ব দেন, আমরা যানজট নিরসনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।’
নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইকচালক গোলাম নবী বলেন, ‘অতীতে একবার ৩ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে নিবন্ধন করেছিলাম। এরপরেও হাইওয়েতে উঠলে পুলিশ মামলা দেওয়ার ভয় দেখাত। এখন আবার নতুন করে পৌরসভা নিবন্ধন করার জন্য বলছে। এখন আয় হচ্ছে কম। তার ওপর নিবন্ধনের ঝামেলা আমাদের জন্য বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
আরেক ইজিবাইকচালক শহরের পুলিশ লাইনসের বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, ‘একবার নিবন্ধন করতে ৩ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া লাগছে। এখন আবার নতুন করে ৩ হাজার টাকা দেওয়া লাগবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঝামেলার মধ্যে আছি। ’
জানতে চাইলে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল কাদের খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।’
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, যানজট নিরসনের জন্য ইতোমধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। ইজিবাইকগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লাল-সবুজের দুটি রং করে পর্যায়ক্রমে এসব যানবাহন চলাচলের পরিকল্পনা করা হয়েছে।