রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি করার অভিযোগে এক কিশোরকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে কটূক্তির অভিযোগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
রবিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে রংপুরের একটি বেসরকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মহানবীকে (সা.) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন।
শনিবার (২৬ জুলাই) ওই পোস্টটির স্কিনশর্ট ভাইরাল হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, ‘রবিবার কিশোরকে আটকের পর বিচারের দাবিতে উত্তেজিত জনতা তার বাড়িতে যান। ওই কিশোরের বাড়ি মনে করে পাশের একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান তারা। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান বলেন, ‘ওই কিশোর ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর লেখা ও ছবি দিয়েছে-এমন অভিযোগ পায় পুলিশ। এর পর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানায় আনা হয়। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।’
সরেজমিনে দেখা যায়, আজ (রবিবার) বিকেল ৪টার দিকে ওই এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছেন। পাশেই আলদাদপুর নতুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও আলদাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দাঁড়িয়ে আছে গংগাচড়া উপজেলার পুলিশ।
গংগাচড়া পুলিশ বলছে, বিক্ষুব্ধ জনতার ইট পাটকেলের আঘাতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা বলেন, যারা ভাঙচুর করেছেন তারা কেউই এই উপজেলার নয়। অন্য উপজেলা থেকে এসেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জ্যোতিষ চন্দ্র শীলের ছেলে মনোরঞ্জন শীল, শ্রী কমলাকান্তের ছেলে শ্রী প্রশান্ত রায়, বিনোদ চন্দ্র রায়ের ছেলে সুবল চন্দ্র রায়, অতুল চন্দ্র রায়ের ছেলে শ্রী সুশান্ত চন্দ্র রায়, শ্রী কান্দুরা রায়ের ছেলে ধনঞ্জয় রায়, দুখু চন্দ্রের ছেলে হরিদাস রায়, মিত্র মোহনের ছেলে শ্রী ধরণী মহন্ত, শ্রী মণীশ চন্দ্র রায়ের ছেলে কৃষ্ণ রায়, দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে রবীন্দ্রনাথ রায়ের বাড়িতে হামলা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গংগাচড়ার রুহিলা রাণী রায় মাটিতে কান্না করতে করতে বলেন, ‘ওরে বাবা এগুলা কি করল। হামার বাড়িতে আর কিছু থাকল না। এত ক্ষতি কেমন করি পূরণ করিম বাবারে।’
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পার্শ্ববর্তী খিলালগঞ্জ বাজারে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে মাইকিং করেন উত্তেজিত জনতা।
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান বলেন, ‘রবিবার রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত আমরা ছিলাম। পরিস্থিতি শান্ত করার পর আমরা চলে যাই। আজকে (সোমবার, ২৮ জুলাই) আমাদের কাছে আবার ম্যাসেজ আসে তারা হাজার হাজার লোক নিয়ে বের হবেন জোহরের নামাজের পর। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা পুলিশের ফোর্স মোতায়েন করি ও সেনাবাহিনীর সাহায্য চাই। আমরা দুপুর ১টা থেকে এখানে অবস্থান করছি। আমাদের একজন পুলিশ কনস্টেবল আলী হোসেন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘যারা উত্তেজিত জনতা রয়েছে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি তারা এই বিষয়গুলো বুঝবে।’
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৭২ পদাতিক ডিভিশনের ৩০ বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবু সাজ্জাদ নোয়াব বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’
সেলিম/পপি/