চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কে পিচ কার্পেটিং করার পর দিন হাত দিয়ে টান দিলেই কার্পেটিং উঠে আসছে। তাই সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের চকঝগড়ু এলাকার সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করেই পিচ ঢালাই দিয়েছেন ঠিকাদার। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চকঝগড়ু এলাকা থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহালদশায় ছিল। প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয় ৭০ লাখ টাকা।
যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ঠিকাদার নিয়োগের পর ওই সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়। সড়কটিতে নতুন করে ইটের খোয়া ফেলে বুলডোজার দিয়ে সমান করা হয়। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঠিকাদার দুই থেকে আড়াই মাস কাজ বন্ধ রাখেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ঠিকাদার আবারও কাজ শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে যে সময়টায় কাজ বন্ধ রেখেছিল ঠিকাদার, ওই সময়ের মধ্যে রাস্তায় ব্যাপক ধুলোবালি ও ময়লা-আবর্জনা জমা হয়। এসব আবর্জনা পরিষ্কার না করেই ঠিকাদারের নিয়োগ করা শ্রমিকরা পিচ কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেন। এতে পিচ দেওয়ার দুই দিন পর গত সোমবার হাত দিয়ে টান দিলে কার্পেটিং উঠে আসে। শুরুর দিকে এলাকাবাসী শ্রমিকদের এভাবে কাজ করতে নিষেধ করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। এর ফলে এলাকাবাসী একসঙ্গে জড়ো হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আড়াই কিলোমিটার সড়কটির বেশির ভাগ পিচ কার্পেটিং কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ঠিকাদার। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আর মাত্র ৩০০-৩৫০ মিটার পিচ কার্পেটিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। সড়কটির গুরুত্ব অনেক, কারণ এটি দুই উপজেলার সংযোগ সড়ক। একই সঙ্গে এই সড়ক দিয়ে কৃষকরা তাদের ফসল বাড়িতে নিয়ে যান। এরপরও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কারকাজে অনিয়ম হয়েছে। ঠিকমতো পরিষ্কার না করেই ধুলোবালির ওপরেই পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। যার কারণে হাত দিলেই পিচ মিশ্রিত পাথর (পিচ ঢালাই) উঠে যাচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিহাদ আলী বলেন, ‘কাদামাটি পরিষ্কার না করেই রাস্তায় পিচঢালাই দেওয়া হয়েছে। হাত দিলেই এসব পিচ-পাথর চলে আসছে। এখনই যদি এভাবে পিচঢালাই উঠে যায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে এই রাস্তা কীভাবে টিকবে। কেমনে চলবে ৮-১০ চাকার ট্রাক।’
বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জোহরুল ইসলাম বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা সড়ক সংস্কারকাজ আটকে দিয়েছেন। এ খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আছেন। আমিসহ ওই প্রকৌশলীরা রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে একটি গ্যাপ দেখতে পেলাম। এরপর থেকেই কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকৌশলীর মুখে শুনেছি, ওই রাস্তাটি সংস্কারে ৭০ লাখ টাকা আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে।’
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ঠিকাদার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয় ওই রাস্তার তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আজহারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি ধরেননি।
তবে এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোরার হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়রা অনিয়মের অভিযোগ তুললে রাস্তাটির সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’