ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ
Nagad desktop

তিন মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০৩ এএম
তিন মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি
চট্টগ্রাম বন্দরে রাখা কনটেইনার। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসে মোট ৯ লাখ ২৭ হাজার ৭১৩ টিইইউস (২০ ফুট দীর্ঘ) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ২৬ হাজার ৫২৮ টিইইউস। অর্থাৎ এবার বেড়েছে ১ লাখ ১ হাজার ১৮৫ টিইইউস বা ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৬ টন। যেটা আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ হাজার ৩১টি। যেটা গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনাকারী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এনসিটিতে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৯ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৯৫ টিইইউস। অর্থাৎ ৪১ হাজার ৭৫৪ টিইইউস বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এই সময়ে এনসিটিতে মোট ১৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৬টি বেশি। প্রবৃদ্ধির হার ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ। বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এটি এনসিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

পঞ্জিকাবর্ষের হিসেবে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর- এই নয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫০ টিইইউস, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৬২৫ টিইইউস বেশি। প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
একই সময়ে বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০ কোটি ২৭ লাখ ৪ হাজার ২৫৯ টন এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩ হাজার ১৬১টি। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে এর বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ধর্মঘট, কাস্টমসের কলমবিরতি এবং শাটডাউনের মতো ঘটনাও বন্দরের কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছিল। কিন্তু বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের একান্ত সহযোগিতায় বন্দর কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। ফলে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। জাতীয় রাজস্বের বড় অংশ আসে এখান থেকেই। বন্দর আধুনিকায়ন, জাহাজের গড় অবস্থানকাল হ্রাস, ইয়ার্ড ও জেটি সুবিধা সম্প্রসারণ, নিরাপদ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় আমদানি-রপ্তানিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দরের প্রতিটি টার্মিনাল এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে সময় ও খরচ উভয়ই কমেছে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক উভয়ই উপকৃত হচ্ছেন। দেশের অর্থনীতিতে বন্দরের অবদান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে সার্বিক অপারেশনাল কর্মদক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এর মধ্যে আছে বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, বে-ইয়ার্ড সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল অপারেশন কন্ট্রোল সিস্টেম। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে ৫০ লাখ টিইইউস ছাড়িয়ে যাবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি-রপ্তানি প্রবাহের মাপকাঠি হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। তাদের মতে, ‘বিশ্ববাণিজ্যে চাপ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্থিতিশীল থাকা বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক।’

চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত বন্দর হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশই এ বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিকায়ন অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ বন্দরগুলোর কাতারে পৌঁছে যাবে। সূত্র: বাসস

রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা
র‌্যালিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের সমর্থকরা। ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপ যখন বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেই উন্মাদনার রঙ লেগেছে রাজশাহীর রাজপথেও।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি আর শতাধিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বহরে নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজশাহীর ফুটবলপ্রেমীদের সংগঠন ‌‌ফুটবল ফ্যানস অব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ গ্র্যান্ড র‍্যালি’। বিকেলে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন মোড় থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এতে অংশ নেন বিভিন্ন দলের সমর্থক, ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ-যুবক ও সাধারণ মানুষ।

র‍্যালিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার সমারোহ দেখা যায়। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার সাজিয়ে অংশ নেন এ আয়োজনে।

বিশ্বকাপের থিম সং, সমর্থকদের স্লোগান আর উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে পুরো নগরী যেন রূপ নেয় এক ক্ষুদ্র ফুটবল কার্নিভালে।

আয়োজকরা জানান, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও বন্ধনেরও মাধ্যম। ভিন্ন দেশের সমর্থক হলেও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া ফুটবলপ্রেমী জুবায়ের রশীদ বলেন, 'রাজশাহীতে ফুটবলপ্রেমীদের এমন মিলনমেলা সত্যিই আনন্দের। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থক হলেও আমাদের পরিচয় একটাই, আমরা ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।'

র‍্যালি চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে রঙিন পতাকা ও সুসজ্জিত যানবাহনের বহর উপভোগ করেন তারা। কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান অংশগ্রহণকারীদের। এতে পুরো নগর জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আমান/

চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
চা শ্রমিক সন্তানদের মধ্যে ইনার হইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজ স্যানেটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

সিলেটে চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে ইনার হুইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজ ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫।

শুক্রবার (১২জুন) বিকেলে নগরীর দলদলী চা বাগানের ১৫ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের স্যানেটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয়।

ইনার হুইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজের প্রেসিডেন্ট জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শাকিলা ববির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনার হুইল ক্লাব অব মৌলভীবাজার এর ইসি মেম্বার শাহরিন সুলতানা।

অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি-১ ইমরানা বেগম পিংকি, সহসভাপতি-২ নিপা মনির, ট্রেজারার জান্নাতুল ফেরদৌসী শাম্মী, আইএসও রহিমা খাতুন লুবনা, ক্লাব করেসপন্ডেন্ট বুশরা নূর ইসি মেম্বার সুমি বেগম।

স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমি ফল বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পিরিয়ডকালীন পরিছন্নতা, নিজের সাধ্য অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ভালোভাবে লেখাপড়া করে সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে কথা বলেন শাকিলা ববি ও শাহরিন সুলতানা।

ক্লাবের প্রেসিডেন্ট জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এটা আমাদের প্রথম প্রজেক্ট। চা শ্রমিকদের সন্তানদের মধ্যে স্যানেটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমী ফল বিতরণ করে আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করেছি। গত মাসের ১২ তারিখ আমাদের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান মোশায়লা করিম, ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারি ইসমত আরা মিলি, ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস অর্গানাইজার শাহনাজ পারভীন মিতা, ওয়েবমাস্টার শারমীন হোসেন, ইনার হুইল ক্লাব অব দিলকুশার প্রেসিডেন্ট জিনাত সুলতানাসহ ডিস্ট্রিক্ট নেতারা ক্লাব ফরমেশন ও ভিজিট করেন এবং আমাদের প্রথম প্রজেক্টের জন্য আর্থিক অনুদান দেন। সেই আনুদানেই আজ সম্পন্ন হলো আমাদের প্রথম প্রজেক্ট।

শাকিলা ববি/তামান্না রুপা/

চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স

বিশেষ শর্তের বেড়াজালে আটকে গিয়ে চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি খামারের খাদ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট এবং ওষুধ সরবরাহ দরপত্র প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়ছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দিয়ে দরপত্র আহ্বানের কারণে অনেকেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন। 

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও দরপত্রে কারিগরি শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ কমে যাচ্ছে। 

একাধিক ঠিকাদার আলাপকালে জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গরু ও ছাগলের খামার, পাহাড়তলীতে আঞ্চলিক মুরগির খামার, ফেনীর সোনাগাজীতে হাঁসের খামার, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সীতাকুণ্ড ও রাঙামাটিতে মুরগি খামার, বরইছড়িতে শূকরের খামার, বান্দরবানে গয়ালের খামারসহ বিভিন্ন সরকারি খামারের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার খাদ্য, ওষুধ এবং ফুড সাপ্লিমেন্ট কেনা হয়। একটি নির্দিষ্ট চক্র বছরের পর বছর ধরে কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতিযোগিতাহীন ব্যবসা করে যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরবরাহ করা প্রাণিখাদ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, ই-জিপি প্রক্রিয়া সব যোগ্য ঠিকাদারের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অযৌক্তিক বা প্রতিযোগিতাবিরোধী শর্ত বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দরপত্র কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। 

ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন খামারের খাদ্য উপকরণ ক্রয়ের দরপত্রে ‘টক্সিন বাইন্ডার, প্রোটিন কনসেনট্রেন্ট, লাইমস্টোন, লিভার টনিক, এমাইনো এসিডসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং সাপ্লিমেন্ট কেনার জন্য এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা বাজারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব শর্তের কারণে নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। অথচ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) অনুযায়ী কারিগরি স্পেসিফিকেশন এমন হতে হবে যেন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয়। 

সর্বশেষ সীতাকুণ্ডে মুরগির খামারের কাজটি পেতে এমন শর্ত দেওয়া হয়, যা শুধু সীতাকুণ্ড পৌরসভার একজন রাজনীতিবিদের বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ ও আব্দুলাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স পূরণ করতে পারে। 

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন্না ট্রেডার্স, সাওদা এন্টারপ্রাইজ, ফারুক এন্টারপ্রাইজ, তাসুমো ফ্যাশনস ও এনকিউএন এন্টারপ্রাইজ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ ধরনের বিশেষ শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করে।

আবেদনে বলা হয়, দরপত্রের বিশেষ শর্ত নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাইজামান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এক চিঠিতে বিষয়টি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেক টাচ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘দরপত্রের বিশেষ শর্তের কারণে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারছি না। এতে সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কাজ পাচ্ছে। শর্ত শিথিল করার জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।’ 

আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবরার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্বত্বাধিকারী মো. আশরাফুল শিহাব খবরের কাগজকে জানান, সীতাকুণ্ড পোলট্রি খামার ভুট্টা ভাঙা, লাইমস্টোন এবং ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট সরবরাহের দরপত্র কিনেছেন তিনি। ৬০ লাখ টাকার এই দরপত্র কিনেও তিনি জমা দেননি। দরপত্রে চাওয়া ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট (ডিসিপি) বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না। দরপত্রের শর্তে এই পণ্যটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনপত্র চাওয়া হয়েছে। শর্তে ডিসিপির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য যে কোম্পানির সঙ্গে মেলে ওই কোম্পানি শুধুমাত্র একজন ঠিকাদারকেই অনুমোদনপত্র দেয়। কিন্তু তিনি অনুমোদনপত্র পাননি। এ কারণে দরপত্র কেনার পরও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

তিনি জানান, ছোট একটি আইটেমের উদ্ভট শর্তের কারণে দরপত্রটিতে অন্য কেউ প্রতিযোগিতা করতে পারেননি। 

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড মুরগি খামারের উপপরিচালক কামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিনি যোগদান করার আগেই দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে ঠিকাদারদের অভিযোগ থাকলে আমরা সেটি নিয়ে চিন্তা করব।’ 

জানতে চাইলে পাহাড়তলী আঞ্চলিক মুরগি খামারের উপপরিচালক ডা. ওয়ারেস কামাল খবরের কাগজকে বলেন, তারা পিপিআর রুল মেনে দরপত্র আহ্বান করেন। সরকার যদি রুল পরিবর্তন করে তখন তারা সেভাবে দরপত্র আহ্বান করবেন। তা ছাড়া দরপত্র আহ্বানের পর মূল্যায়ন কমিটি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখে। সব ঠিক থাকলে তখন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এখানে তাদের অনিয়মের সুযোগ নেই। 

জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খবরের কাগজকে বলেন, পিপিআরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। পিপিআর অনুসরণ করে দরপত্র আহ্বান করলে যিনি কাজ পাবেন, তিনিই পণ্য সরবরাহ করবেন। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মসজিদের পাশে টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ৮ এপিবিএনের পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-১০ এর জি/১৬ ব্লকে মসজিদুল আবরার সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, একটি অজ্ঞাত মরদেহের খবর পেয়ে মসজিদের পাশের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশ, এপিবিএন এবং স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহটি উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রিদুয়ানুল সোহাগ/তামান্না রুপা/

সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৫ এএম
সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরােনর (রহ.) মাজারে প্রায় ৭০০ বছরের অধিকাল থেকে দানের টাকা অনেকটা হিসেব ছাড়া খরচ হচ্ছে। এই ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।

 তিনি জানিয়েছেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের আগে দুটো মাজার পরিদর্শন করে দানের টাকার বিষয়ে সরেজমিন খোঁজ খবর নিয়েছেন ডিসি মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাজারগুলোর আয়-ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতা নেই। ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই। আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই সময়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের সঠিক চিত্র, দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।’

জানা গেছে, দুটো মাজারে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসেন ভক্তরা। কেউ প্রার্থনা নিয়ে, কেউ মানত নিয়ে। সেই সঙ্গে দান করেন অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও নানা মূল্যবান সামগ্রী। এসবই মাজারের আয়। আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এ উদ্যোগে মিশ্র-প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে  মাজারভক্তদের মধ্যে। প্রায় ৭০০ বছরেরও অধিকাল ধরে প্রচলিত ধারায় ব্যহত করতে এমনটি করা হয়েছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধমেও নানা আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়েছে। তারা বলছেন, ‘মাজারে যখন মব হয়, তখন প্রশাসন নীরব থাকে। আর দানের টাকার হিসেব নিতে মাঠে নামছে!’

জানা যায়, সম্প্রতি একটি লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সভায় মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্পষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিলেট জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে। দুই মাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মানত, দান ও নজরানা প্রদান করেন। নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের দানও জমা পড়ে মাজারে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার দান আসে এসব মাজারে। কিন্তু সেই দানের টাকা কিভাবে পরিচালিত হয়, কোথায় ব্যয় করা হয় কিংবা কত টাকা আয় হচ্ছে; এসব বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় না। ২০০৩ সালে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী গজার মাছের মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে দরগাহ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। সে সময় সংবাদমাধ্যমে মাজারের বিপুল আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন মাজার কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, মাজারের দানের অর্থের একটি অংশ বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারীদের ব্যয়ে ব্যবহৃত হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। কিন্তু সেই ব্যয়ের কোনো সুসংগঠিত ও জনসম্মুখে উপস্থাপিত হিসাব কখনো দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শুক্রবার জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের বিষয়টি নির্ধারিত হয় গত বুধবার অনুষ্ঠিত একটি সভায়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় মাজার দুটির বর্তমান আয়-ব্যয়, দান-অনুদান, প্রশাসনিক কাঠামো, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কমিটির পক্ষ থেকে সুসংগঠিত আর্থিক রেকর্ড ও নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাবপত্র চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে। সভায় বক্তারা বলেন, শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সিলেটবাসীর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গৌরবের অংশ। তাই এর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। মাজার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; বরং এটি সমগ্র সিলেটবাসীর সম্পদ। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিচালনা করা জরুরি। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় পরিচালনা এবং নিয়মিত অডিটের বিষয়েও মতামত দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাজারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এতে ভক্তদের আস্থা আরও বাড়বে এবং দানের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

এদিকে, জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন মাজার কর্তৃপক্ষ। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, ‘প্রশাসন কেন হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ধারণা পাননি। সভায় অংশগ্রহণের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। আমাদের কথাও শুনতে রাজি হননি জেলা প্রশাসক। আমরা এটা কিভাবে পেলাম এটাও শোনতে রাজি নন। আমাদের একটা কোর্টের রায় আছে। একটা মামলাও চলমান আছে। কিন্তু তিনি আমাদেরকে কথা বলারও সুযোগ দেননি। আমরা অসহায় হয়ে বসে আছি।’

মাজারে ভক্তদের দান-খয়রাত প্রথা অনুযায়ী ব্যয় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাবপত্র রয়েছে, তবে সেগুলো উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাইনি। তাই কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি বা অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে। তবে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’