সিলেটকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সিলেটের সর্বসাধারণের পক্ষ থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন সুজন নামে এক যুবক।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১টা থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে তিনি অনশন শুরু করেন।
শুক্রবার পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করে অনশনে অংশ নিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন সুজন একটি কনসালটেন্সি ফার্মের ব্যবসা করেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সিলেটের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে, যার ফলে সিলেটের সাধারণ নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থার প্রতিবাদে তিনি এ অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
‘সিলেটের সঙ্গে বৈষম্য কেন?’-এই শিরোনামে একটি ব্যানার সাঁটিয়েছেন সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে। তার দাবিসমূহ লেখা ফেস্টুনগুলো চৌহাট্টা সড়কের পাশের ফুটপাতে স্থাপন করে সেখানেই তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
দাবিগুলো হলো- সিলেট–ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা; সিলেট–ঢাকা ট্রেনের ভাড়া ও ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন ট্রেন চালু করা; সিলেটের উন্নয়নের জন্য বিশেষ বাজেট ঘোষণা; সিলেটে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন; সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বৃদ্ধি ও নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু; সিলেট বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা; পর্যটন খাতের উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা।
সুজন বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে অনশনে বসেছি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। এর ফলে ভয়াবহ যানজটে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে; সড়কপথে ঢাকা যেতে প্রায় ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে। দ্বিতীয়ত, আমাদের সিলেটের রেললাইন এখন ব্রিটিশ আমলের মিটারগেজ লাইন। মাত্র দুই দিন আগে মোগলাবাজার এলাকায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এ রেললাইন ডুয়াল গেজে রূপান্তরের জন্য ২০১৭ সালে চীনের একটি কোম্পানির মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতেও সিলেটবাসী বঞ্চিত হয়েছে। এসব বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে এবং সিলেটের ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই আমি এই অনশনে বসেছি।’
রিফাত/