সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় তাহিরপুর থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি পরিবেশ অধিদপ্তর, অন্যটি ইজারাদারের পক্ষে করা হয়েছে। এই দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮৮জনকে। এসব মামলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে থাকা আন্দোলনকারীদের নামও রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তবে ইজারাদারের পক্ষে দায়ের করা মামলার আসামির তালিকা নিয়ে বেশ সমালোচনা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামির তালিকায় এই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ আলোচিত বেশ কয়েকজনের নাম রয়ে়ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক গত বৃহস্পতিবার তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ৩৭জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় উপজেলার সোহালা গ্রামের বাসিন্দা তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আফতাব উদ্দিন, তার বড় ভাই উপজেলা বিএনপির যুক্ত আহবায়ক রাকাব উদ্দিন, উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা বিশ্বজিৎ সরকার, নদী তীরের বাসিন্দা মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বারের নাম রয়েছে।
এই মামলায় ৩৬ নম্বরে রয়েছে স্থানীয় লাউড়েরগড় গ্রামের বাসিন্দা তরুণ ফটোগ্রাফার আলী হোসেনের নাম রয়েছে। তিনি থাকেন ঢাকায়। ভাইয়ের বিয়েতে তখন বাড়িতে এসেছিলেন। আলী হোসেন বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বালু তোলার ছবি, ভিডিও সবাইকে দিয়েছেন।
আলী হোসেন বলেন, 'আমি সবাইকে ছবি, ভিডিও দিয়ে সহযোগিতা করলাম। আন্দোলনে সোচ্চার ছিলাম। এখন দেখি আমিও আসামি। এতে অবাক হয়ে়ছি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মোহাইমিনুল হক অবশ্য বলেছেন, তাঁরা যাচাই-বাছাই করেই আসামির তালিকাটি করেছেন। আলী হোসেনর নাম মামলায় আসার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন স্থায়ীয় লোকের সাথে কথা বলার পর মামলায় নাম দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি নির্দোষ কারো নাম চলে আসে আমরা সেটাও দেখবো'
এর আগের দিন বুধবার একই অভিযোগে থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন মোশারফ হোসেন আরির তালুকদার নামের এক ব্যক্তি। তিনি ইজারাদারের লোক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই মামলায় বালু উত্তোলনবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকা ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের আসামি করা হয়েছে। নদী তীরের ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার ভাইকেও আসামি করা হয়েছে।
ইজারাদার মো. নাছির মিয়া বলেছেন, তারা স্থানীয় সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যসহ স্থানীয় নির্ভরযোগ্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যারা ঘটনায় যুক্ত ছিলেন তাদের মামলায় আসামি করেছেন। আন্দোলনকারী বা প্রতিবাদকারী কাউকে উদ্দেশ্য করে মামলা দায়ের করা হয়নি।
তাহিরপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলার তদন্তে সব কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে। নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হবে না।
দেওয়ান গিয়াস/মৌসুমী/