ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে কোরিয়ার চেকমেট টিভিতে আজকের খেলা দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় উদ্যোক্তাদের ছাড় আধুনিক বাজেট বনাম ইসলামের বায়তুল মাল ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে জিদানের ঢুস কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ! বাজেটে দুদকের বরাদ্দ বাড়েনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী রোডম্যাপ জুয়ার পূর্বাভাস, ভাঙতে পারে সব রেকর্ড মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে ১২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ ১২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইস্পাত রক্ষণ প্রাণে আলমিরন ফুটবলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনীতি? প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা কার? সব উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয় সাফল্যের রেসিপি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য স্বাগতিকের চোখে স্বপ্ন, প্যারাগুয়ের চোখে চমক শেষটায় মেসি-রোনালদোর প্রথম দ্বৈরথ দেখা যাবে? নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু
Nagad desktop

থানায় মামলা নেননি পুলিশ, নির্যাতনের পর এবার অপহরণ

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৪ পিএম
আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৯ পিএম
থানায় মামলা নেননি পুলিশ, নির্যাতনের পর এবার অপহরণ
দুই সন্তানকে হত্যার চেষ্টা করে অভিযুক্ত বাবা রুবেল। ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দুই সন্তানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ- এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে মামলা হিসেবে নিলে আজ হয়তো বড় নাতি ‘আপন’-কে (৮) অপহরণ করতে পারত না অভিযুক্ত বাবা রুবেল।

ভুক্তভোগীর নানা আব্দুল আহাদ জানান, তার মেয়ে মুক্তা বেগমের সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে সিংগাইরের বাসিন্দা রুবেলের বিয়ে হয়। এটি ছিল মুক্তার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম সংসারে ‘আপন’ নামে এক ছেলে এবং দ্বিতীয় সংসারে ‘আলী হোসেন’ (৬) নামে আরেক পুত্রসন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর থেকেই রুবেল যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী মুক্তাকে মারধর করত বলে অভিযোগ। সংসারের কথা চিন্তা করে তিন মাস আগে মুক্তা সৌদি আরব চলে যান। এরপর থেকেই রুবেল তার কাছে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে।

গত ৫ নভেম্বর রাতে রুবেল তার দুই সন্তান আপন ও আলীকে মারধর করে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায়। সেই ভয়াবহ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে সৌদি প্রবাসী স্ত্রী মুক্তাকে পাঠায় এবং টাকার জন্য হুমকি দেয়। মুক্তা সেই ভিডিও পরের দিন সকালে তার বাবার কাছে পাঠায়। পরে মুক্তার বাবা-মা ৭ তারিখ দুপুরে নাতিদের আনতে গেলে রুবেলের মা দিতে অস্বীকার করলে তারা চলে আসেন।

আমি ৯ নভেম্বর সিংগাইর থানায় গিয়ে সব খুলে বলি। তখন এসআই সিদ্দিকুর রহমান লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগের পর পুলিশ আপনকে উদ্ধার করে দিলেও আলী হোসেনকে উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশ আমায় বলেন, এটা রুবেলের নিজের সন্তান তাকে নিতে হলে আইনিভাবে নিতে হবে। আমি মামলা করতে চাইলে পুলিশ নানা অজুহাতে নেয়নি।

আহাদ মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ যদি তখন মামলা নিত, রুবেলকে ধরত, তাহলে আজ আমার নাতিকে আর অপহরণ করতে পারত না। তারা শুধু উদ্ধার করে দায়িত্ব শেষ মনে করেছে, কিন্তু আমাদের ভয়টা বুঝল না। রুবেল টাকার জন্য তাদেরকে মেরে ফেলতে পারে।’

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ভাড়ারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খেলতে থাকা অবস্থায় রুবেল হঠাৎ এসে সিএনজি অটোরিকশায় করে তার বড় ছেলে আপনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। স্কুলের বাচ্চারা পরে আমাদেরকে জানায় যে ওর বাবা ওকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে শিশুটির কোনো খবর পাচ্ছি না।

ঘটনার পর আহাদ মানিকগঞ্জ সদর থানায় নাতিকে অপহরণের অভিযোগে রুবেলের বিরুদ্ধে আরেকটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

এদিকে, দুই সন্তানকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দুই শিশুকে বেধড়ক মারধর করছে ও গলা চেপে ধরছে। ছেলেদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। নাকে রক্ত এসে পড়েছে।

এ বিষয়ে এসআই মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি আপনকে উদ্ধার করে দিয়েছি। আলী হোসেন রুবেলের নিজ সন্তান হওয়ায় তার কাছে রেখেছি। রুবেল বলেছেন স্ত্রী টাকা দেয় না, তাই তাকে ভয় দেখাতে হত্যাচেষ্টার ভয় দেখিয়েছি।

হত্যাচেষ্টার ভিডিও থাকা এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির পরও মামলা না নেওয়া ও আসামিকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত ছাড়া মামলা নেব কীভাবে?

সদর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি পুলিশ সুপার ইয়াছমিন আক্তার স্যারকে জানানো হয়েছে। সেই সাথে ওসি সিংগাইরকেও অবহিত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, ‘ঘটনাটি আমি আজকেই শুনলাম। সদর থানার ওসি আমাকে জানালেন। অভিযুক্ত রুবেলকে থানায় আসতে বলেছি। ৩০৭ ধারা আইনে হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে।’

 আসাদ/মাহফুজ

 

দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় উদ্যোক্তাদের ছাড়

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:১৫ এএম
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় উদ্যোক্তাদের ছাড়
ছবি: প্রতীকী

স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি শুল্ক ও কর কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কর সুবিধা বাড়ানো এবং স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়িসহ পরিবহন, স্বাস্থ্য খাতেও সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন গতকাল জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   

কৃষি খাতের উন্নয়নে দেশে স্থানীয়ভাবে কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে ৩৬টি কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর পুরোপুরি মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। স্থানীয়ভাবে জিংক সালফেট সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এর মূল কাঁচামাল জিংক অ্যাশ আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়। এমনকি কাজুবাদাম চাষকে উৎসাহ দিতে আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ ও দেশীয় শিল্পের প্রসারে আমদানি  করা পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

পোলট্রি, ডেইরি ও মৎস্যজাত খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কতিপয় উপকরণ আমদানিকে রেয়াতি সুবিধা শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।
কৃষির মতো স্বাস্থ্য খাতেও বিভিন্ন সুবিধার প্রস্তাব করা হয় বাজেটে। দেশে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী শিল্পের বিকাশের স্বার্থে এই শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় কিছু কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ এবং অন্যকিছু কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে আরোপিত বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়। এমনকি মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত মর্চুয়ারির আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।

ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করা হয়। দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) তৈরির নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়। জনস্বাস্থ্য খাতেও ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে শিল্প-কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ বাস্তবায়নে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়। 

ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) জনপ্রিয় করতে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সমুদয় শুল্ক-কর এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস-ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ব্যতীত সমুদয় শুল্ক-কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়।

প্রযুক্তি খাতে উন্নত বাংলাদেশ এবং আইটি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রেও সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। 
স্থানীয় শিল্পের বিকাশেও কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়। ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক ওভেন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন প্রস্তুতকারী শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল ফ্লোট গ্লাস  আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং এলপিজি সিলিন্ডার, অটো ট্যাঙ্ক এবং ভাল্ব উৎপাদনকারী শিল্পের উপকরণ ও কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি ও শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।

স্থানীয় ট্রান্সফরমার শিল্পকে শক্তিশালী করতে ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানির ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয় ওয়াশিং মেশিন শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সব ধরনের হাউসহোল্ড টাইপ ওয়াশিং মেশিন আমদানির ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’-এর বাজার সুরক্ষায় আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

দেশীয় কাগজ শিল্পের সুরক্ষায় গ্রিজপ্রুফ পেপার ও গ্লাসিন পেপার আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। কপার তার ও টিউব উৎপাদনকারী শিল্পের সুরক্ষায় কপারের তার আমদানিতে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং কপার টিউব আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রি-ফ্র্যাক্টরি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বল ক্লেসহ পাঁচটি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিটারজেন্ট শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল লিনিয়ার অ্যালকাইল বেনজিন (এলএবি) আমদানির ক্ষেত্রে মাত্র ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ ও দেশীয় ফ্লোট গ্লাস শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ ধরনের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় টায়ার ও টিউব উৎপাদনকারী শিল্পের দুটি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দুটি কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নকে উৎসাহ দিতে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) পরিচালনায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর রেয়াত সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এভাবে বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন খাতে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। 

কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে আবারও অপ্রদর্শিত আয় বা কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অর্থবিলে বিধান রাখা হয়েছে, নির্ধারিত কর পরিশোধ করে এ সুযোগ গ্রহণ করলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। 

বিভিন্ন মহল থেকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ না রাখার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত আগামী বাজেটে এ-সংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে আগামী ৩০ জুন। অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার যে বিধান রাখা হয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকলে আসছে জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের জুন মাসের মধ্যে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার এ সুযোগ মিলবে।

নির্ধারিত কর পরিশোধ করে এ সুবিধা নিলে অর্থের উৎস কিংবা পরিশোধিত কর নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন তোলা বা তদন্তমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টের প্রকৃত ক্রয়মূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি দেখাতে চান, তাহলে ওই অতিরিক্ত অঙ্ককে অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে ঘোষণা করে ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত আয়কর হারে কর পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ প্রচলিত আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিয়ে তিনি ওই অর্থ বৈধ করতে পারবেন।

একই ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছে বিক্রেতাদের জন্যও। কোনো করদাতা যদি জমি বা ভবন বিক্রির ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকেন, তবে সেই অপ্রদর্শিত অংশের ওপর মূলধনি মুনাফার জন্য প্রযোজ্য হারে কর পরিশোধ করে অর্থ বৈধ করতে পারবেন। বর্তমানে মূলধনি মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য।

তবে কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছে। কোনো করদাতার বিরুদ্ধে আয়কর আইনের আওতায় অডিট বা অন্য কোনো কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে তিনি যদি স্বপ্রণোদিতভাবে অপ্রদর্শিত আয় ঘোষণা করেন, তাহলে নিয়মিত হারে কর পরিশোধ করেই সুবিধা পাবেন। 

কিন্তু কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অর্থ বৈধ করতে চাইলে তাকে নির্ধারিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর দিতে হবে।
এ ছাড়া অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে আয়কর রিটার্নে জীবনযাপনসংক্রান্ত ব্যয়ের বিবরণী এবং উৎসে কর্তিত বা সংগৃহীত করের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এর ভিত্তিতেই কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তবে কোনো ব্যক্তি যদি অপ্রদর্শিত আয় ঘোষণার আগেই আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলায় অভিযুক্ত হন অথবা কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তিনি এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার একটি বিধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা পরে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বিভিন্ন সময়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং সেসব ক্ষেত্রেও অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বিধান ছিল।

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে এমন সুযোগ রাখার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, কোনো ধরনের কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন করার সুযোগ না রেখে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ ঘোষণার মাধ্যমে কালোটাকা বৈধ করার উদ্যোগ দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ার শামিল।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, আবাসন খাতের স্থবিরতা দূর, শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার অজুহাতে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিক করে তোলার নামান্তর। সংস্থাটি কালোটাকা সাদা করার সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে ‘সাধারণ ক্ষমা’ বা অ্যামনেস্টি দেওয়ার যে আলোচনা চলছে, সে ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন লেগেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। 

ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে বাইরে ছুটে আসছেন। এরই মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।

 তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। ১১, ১২, ১৩ তলায় আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যে ১৭ তলা হাসপাতাল ভবন ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যায়। রোগী এবং তাদের স্বজনরা দ্রুত সড়কে নেমে আসেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হন।

গত ২০ মে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আগুন লেগেছিল। সেই রেশ না কাটতেই খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এসএন/

যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে। তিনি দিনমজুরি ও গ্রামে গ্রামে কসমেটিক্স বিক্রি করে সংসার চালাতেন বলে জানিয়েছেন জুয়েল রানার স্ত্রী মায়া বেগম। 

স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক কথা-বার্তা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মুক্তদাহ গ্রামের ইউসুফ, কাশেম, বাবু, সুমনসহ ৫/৬ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে জুয়েলের দুই পা ভেঙে দেয়। 

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জুয়েলকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন জুয়েল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

স্থানীয়রা জানান, নিহত জুয়েল আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন। তবে জুয়েলের স্ত্রী মায়া বেগম দাবি করেন, তার স্বামী কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কর্মকাণ্ড দেখে ফেলার কারণেই তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। 

মায়া বেগম জানান, বাড়ির পাশে মুক্তাদাহ মোড়ে একটি চায়ের দোকানে তার স্বামী ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় মায়া বেগম তাদের বাঁধা দিতে গেলে তাকে চায়ের দোকানের পিলারের সাথে বেঁধে রেখে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। 

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার দিকে জুয়েল আহমেদ রানাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ করা ছিল। ইসিজি করার পর নিশ্চিত হয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। 

এইচ আর তুহিন/এসএন

টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য সন্দেহে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ ইয়াবা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে র‌্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

আটকরা হলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং জেলার মংডু থানার হায়েংখালী গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ সায়েদের ছেলে মো. সাজেদ (৩২) এবং একই এলাকার মো. আব্দুল হামিদের ছেলে এনামুল হাসান (৩৩)।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নাফ নদীর মন্ডলপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের গোপন তথ্য পায় র্যাব। তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নাফ নদীর শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিক থেকে আসা ৭ থেকে ৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির জমিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। তবে অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বস্তার ভেতর থেকে ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।

র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক আরও জানান, আটক দুইজন এবং পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক এবং একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য। সীমান্তের এপারে মাদকের বড় চালান পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল কাজ। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

তারেকুর রহমান/এসএন