সিলেটের চারটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত উদ্যোগ, ব্র্যান্ডিং, পর্যটন উন্নয়ন, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতারা।
বুধবার (১৯ নভেম্বর ) সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় সারদা হলে সিলেট ‘উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির’ আয়োজনে এবং ‘সম্পর্কের’ সহযোগিতায় প্রকল্প উপস্থাপন ও গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রকল্প উপস্থাপনের পাশাপাশি আয়োজকরা এ ব্যাপারে সবার মতামত সংগ্রহ করেন।
প্রকল্প উপস্থাপনায় বলা হয়, সিলেটের কেন্দ্রীয় চারটি স্থাপনা জালালাবাদ পার্ক, কিন ব্রিজ, আলী আমজদের ঘড়িঘর ও সারদা হলকে কেন্দ্র করে তাদের এ প্রকল্প। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সংস্কৃতি পুনর্জাগরণ, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি, পর্যটন উন্নয়ন ও নারী উদ্যোক্তার ক্ষমতায়ন।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য সিলেটের পরিচায়ক স্থাপনা ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলকে উদ্ভাবনী, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় একটি স্থানে রূপান্তর করা।
প্রকল্প কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে সাপ্তাহিক দুদিন হলিডে মার্কেট, সপ্তাহজুড়ে সুরমা নদীতে কায়াকিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর্ট শো, থিয়েটার, সংগীত, শিল্প প্রদর্শনী, গাড়িমুক্ত উন্মুক্ত এলাকা, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রদর্শনী প্ল্যাটফর্ম, স্থানীয় পর্যটন সেক্টরকে সুদৃঢ় করা, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা ও ব্র্যান্ডিং করা, নিরাপদ, সবুজ ও পরিবারবান্ধব মানুষের জন্যে পরিবেশ তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, ‘সুরমার পাড়ে’ প্রকল্প সিলেটের ভবিষ্যৎ ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা দেখতে চাই। সিলেটের পরিচয়, উদ্যোক্তা বান্ধব নগর ভাবনা, পর্যটনের নতুন গন্তব্য, ঐতিহ্য সংরক্ষণের আধুনিক মডেল, পরিবেশবান্ধব শহর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। প্রকল্প গবেষণা ও উপস্থাপন করেন উদ্যোক্তা উত্তম কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন শম্পা। অনুষ্ঠানের শুরুতে জান্নাতুল নাজনীন আশার উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য দেন জাকিয়া ফাতিমা মুন চৌধুরী।
নাঈম/