গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আয়োজিত ‘ফুটবল ফেস্ট’ ছিল একটি সাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান। তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনে ১৯ থেকে ২১ ডিসেম্বর জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টের বালুতটে অনুষ্ঠিত হয় ‘জাফলং–পিয়াইন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। তবে এ আয়োজনের বিভিন্ন খাতের বিল এখনো পরিশোধ হয়নি। জাফলং ফটোফেস্ট, পর্যটন মেলা এবং স্টোন মিউজিয়াম প্রস্তুতের কাজের পাওনা নিয়ে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে ধর্না দিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পাওনা টাকার বিল পরিশোধের দাবিতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সোমবার (২৪ নভেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এস এম ডেকোরেটার্সের পরিচালক গোলাম আহমদ চঞ্চল। তিনি বলেন, গত বছরের ১৯ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং তৎকালীন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় ‘জাফলং পিয়াইন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’, জাফলং ফটোফেস্ট, পর্যটন মেলা আয়োজন এবং স্টোন মিউজিয়াম প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করি। প্রোগ্রাম চলাকালে তৎকালীন ইউএনও জানান—জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ থেকে বিল পরিশোধ করা হবে। প্রোগ্রাম শেষে তৎকালীন জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ উপস্থিত হয়েও একই আশ্বাস দেন।
তার নির্দেশনায় ১৭ লাখ টাকা বিল ভাউচারসহ দাখিল করি, যা ইউএনও ডিসি অফিসে প্রেরণ করেন। এর মধ্যে ইউএনও তৌহিদুল ইসলামের বদলি হলে এসিল্যান্ড সাইদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও করা হয়। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, বিলের ব্যবস্থা করা হবে।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, পরবর্তীতে নতুন ইউএনও হিসেবে রতন কুমার অধিকারী যোগ দিলে তাঁর কাছ থেকে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বরং তিনি বিল না দিয়ে বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যেতে থাকেন। এদিকে এসিল্যান্ড বদলি হলে ইউএনও রতন কুমার অধিকারী জানান—বিলের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এতে আমরা মর্মাহত হই।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদের সঙ্গে দেখা করলে তিনি তৎকালীন এডিসি জেনারেল মো. আনোয়ারুজ্জামানকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন। এডিসি ইউএনও রতন কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কয়েক দফা অনুসন্ধানের পর এডিসি আনোয়ারুজ্জামান জানান—বিল ভাউচার নতুন করে জমা দিতে হবে, কারণ আগের ভাউচার হারিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আবারও ইউএনও’র মাধ্যমে ডিসি অফিসে বিল ভাউচার জমা দিই।
এরপর এডিসি বিলের পরিমাণ কিছু কমানোর অনুরোধ করেন। তার প্রেক্ষিতে আমরা ১৪ লাখ টাকার নতুন বিল ভাউচার দাখিল করি। এর অল্পদিন পরই জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ ও এডিসি আনোয়ারুজ্জামান—দুজনেই বদলি হন। পরবর্তীতে নতুন এডিসি পদ্মাসন সিংহের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও বিল পরিশোধ করা হয়নি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ইউএনও, এডিসি ও জেলা প্রশাসকের পেছনে ছুটতে ছুটতে আমাদের অবস্থা নাজেহাল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— তাকিয়া ডেকোরেটার্সের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহমদ, ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও আল আমিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে গত ২৭ আগস্ট ‘বাজেট লোপাটেও সিলেটের সেই ডিসি!’ শিরোনামে খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
মেহেদী/