ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল হাওয়া বয়ে যায়। গভীর রাতে ঠাণ্ডা আরও নেমে গিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রচণ্ড শীতের অনুভূতি। স্থানীয়রা বলছেন, চলতি বছরের শীত আগেভাগেই এসেছে। রাত বাড়লেই কাপড়ে মুড়ি দেওয়া মানুষ চোখে পড়ে। শীত নিবারণে তাই লেপ-তোশকের চাহিদা হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে। দোকানিদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।
শীতের আমেজ এখন শহরজুড়ে। লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে চোখে পড়ছে ক্রেতার ভিড়। কেউ নতুন লেপ-তোশক কিনছেন, কেউ আবার পুরোনো লেপে নতুন করে তুলা ভরিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিনই দোকানগুলোতে লেনদেন বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেলাই মেশিন চালু থাকে। কারিগররা জানাচ্ছেন, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই ভালো কাজ মিলছে।
কালীবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন অর্ডার নিতে হচ্ছে। মানুষকে লেপ-তোশক দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার মতো ব্যস্ততা এখন।’ একই এলাকার ব্যবসায়ী মিন্টু হোসেন বলেন, ‘পুরোনো লেপে তুলা ভরাটের চাহিদা এবার বেশি। প্রায় সারা দিনই ক্রেতার ভিড় থাকে দোকানে।’
রোড বাজারে কাজ করা কারিগর ফিরোজ হাসান বলেন, ‘ভোর থেকে কাজ শুরু করি। রাত পর্যন্ত কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই। কিন্তু কাজের চাপ এত বেশি যে থামার সুযোগ নেই।’ কালীবাড়ি বাজারের কারিগর আকবর মিয়া বলেন, ‘শীতের সময়ই আমাদের আসল মৌসুম। এ সময় ভালো কাজ হলে সারা বছরের ক্ষতি পোষানো যায়।’
সাধারণ মানুষও সন্তুষ্ট। নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আহমাদুল্লাহ বাবু বলেন, ‘রাতে ঠাণ্ডা বেশি পড়ছে, তাই নতুন লেপ কিনতে এসেছি। দাম মোটামুটি সহনীয় আছে।’ হাজিপাড়া এলাকার কামরুল হাসান জানান, ‘পুরোনো লেপে তুলা ভরিয়ে নিচ্ছি। শীতে বাচ্চাদের নিয়ে কষ্ট না হয়, সে জন্যই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের শীতের শুরুটা আগের তুলনায় ব্যতিক্রম। তাই বিক্রি শুরু হয়েছে প্রথম থেকেই। প্রতিদিনই লেপ-তোশক তৈরির অর্ডার বাড়ছে। দোকানগুলোতে তুলা, কাপড় আর সেলাইয়ের শব্দে ব্যস্ত সময় কাটছে
কারিগরদের। অনেকে রাত জেগে কাজ করছেন। স্থানীয় বাজারগুলোতে তাই এখন জমজমাট পরিবেশ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ডেলিভারি দিতে দেখা যাচ্ছে সেলাই করা লেপ-তোশক।
ক্রেতারা জানান, রাতে ঠাণ্ডা বাড়ছে বলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন সবাই। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের শীতের হাত থেকে রক্ষা করতে লেপ-তোশকের চাহিদা বাড়ছে। বাজারে বিভিন্ন দামের লেপ পাওয়া যাচ্ছে। কেউ নিজের সাধ্য অনুযায়ী পণ্য কিনছেন আবার কেউ পুরোনো লেপে তুলা ভরিয়ে নিচ্ছেন কম খরচে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ডিসেম্বরজুড়ে লেনদেন আরও বাড়বে। শীত যতদিন বাড়বে, ক্রেতার ভিড় তত জমবে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দোকানিরাও বিক্রি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এ মৌসুম ভালোমতো গেলে বছরের বাকি সময়টাতেও আর্থিক দিক থেকে স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।