সিলেটে ট্রেনের ধাক্কায় একটি হাতি রাতের বেলা গর্তে পড়ে যায়। রাত পেরিয়ে দিন গড়িয়ে প্রায় ১৫ ঘন্টা লেগেছে গর্ত থেকে হাতিটি উদ্ধারে।
হাতির গর্তে পড়া বা আটকা পড়া নিয়ে নানা কথা ও প্রবাদ প্রচলিত। প্রবাদ আছে, 'হাতি গর্তে পড়লে চামচিকাও লাথি মারে!'
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সিলেট আলমপুর স্টেশনের কর্মীরা হাতিটি উদ্ধার করেন।
এর আগে শনিবার রাতের কোনো এক সময় হাতিটি ঢাকা-সিলেট রেললাইনের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার একটি খাদে পড়ে যায়। প্রতিপালনের জন্য নিবন্ধন করা হাতিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে সিলেটে ভাড়ায় পাঠিয়েছিলেন হাতিটির মালিক।
আহত হাতিটি খাদে পড়ে যাওয়ায় এক্সভেটর যন্ত্র ব্যবহার করে উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগ ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষণের পরে হাতিটি মালিকের কাছে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে আসা ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি খাদে পড়ে যায়। যদিও ট্রেনের সঙ্গে হাতির ধাক্কা লাগার ব্যাপারে রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত নয়। সকালে স্থানীয়রা হাতিটিকে খাদে দেখতে পান। এরপর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বন বিভাগ ঘটনাস্থলে এসে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে হাতিটিকে খাদ থেকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় হাতিটির পেছনের দুই পা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ খাদের কাদাজলে থাকার কারণে হাতিটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
হাতির চিকিৎসায় যুক্ত থাকা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান আহমদ বলেন, 'খাদ থেকে তোলার পর হাতিটি একেবারে নিস্তেজ ছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর এখন নড়াচড়া করছে। কিছু ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। তবে আঘাত লেগে পেছনের দুটি পা বড় ধরণের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও অনেক সময় লাগবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আঘাতের ধরণ দেখে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্রেনের ধাক্কায়ই হাতিটি খাদে পড়ে গিয়েছিল।'
তবে সিলেট রেল স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, 'হাতিটি ট্রেনের ধাক্কায় খাদে পড়েছে কি না তা নিশ্চিত নই। আমরা এরকম কোনো আলামত পাইনি। ওই এলাকায় পাশপাশি বাস ও ট্রেনের লাইন রয়েছে।'
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাতিটিকে তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান।
তিনি জানান, হাতিটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির। তার নামে হাতিটি প্রতিপালনের জন্য নিবন্ধিত। মালিকের পক্ষের লোকজন সিলেটে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য হাতিটিকে গত রাতে ভাড়ায় পাঠিয়েছিলেন।
রিফাত/