চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের সরকারি গো-খাদ্য ও ওষুধ পাচারের অভিযোগে স্থানীয় জনতা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাউসার আলীসহ পাঁচজনকে গভীর রাতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তদের নিকট থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়—এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় বাজারের নাইটগার্ড দোস্ত মহাম্মদ জানান, রাতে ডিউটিরত অবস্থায় তিনি দেখতে পান—উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাউসার আলী এবং ৫-৬ জন কর্মচারী মিলে একটি স্টিয়ারিং ভ্যানগাড়িতে গো-খাদ্যের বস্তা ও ওষুধ লোড করছেন। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং লেবার সর্দার রিপনকে ফোনে জানান।
খবর পেয়ে রিপন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা দ্রুত গাড়ি থেকে মালামাল নামিয়ে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছলাম আলী ফোর্স নিয়ে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালীয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ক্রেতা গাজু আলী (৪৮) এবং একই উপজেলার বচনাটোলা গ্রামের স্টিয়ারিং চালক ফারিকুল (৪৯)-কে আটক করেন পুলিশ।
এদিকে ক্ষুব্ধ জনতা রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাউসার আলী, কর্মচারী আশিক, নারায়ণ, মাহিদুর ও বাবুকে হাসপাতাল চত্বরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সর্দার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া এবং নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত আছলাম আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যান।
পরে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, ‘তদন্তের’ নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি মালামাল রাতের অন্ধকারে পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের এভাবে মুচলেকায় খালাস দেওয়ায় মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে ‘ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আব্দুল আজিজ/এসএন