সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সুবিধা ও সুষ্ঠু পরিবেশ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবং নির্বাচনকে পক্ষপাতদুষ্ট করার প্রতিবাদে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
আনোয়ার হোসেন সুমন বলেন, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সিলেটের শ্রমজীবী মেহনতি জনতা তথা আপামর জনসাধারণ আমার প্রতি কাস্তে মার্কার পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিলেট-১ আসনে নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সুবিধা ও সুষ্ঠু পরিবেশ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিঘ্নিত হচ্ছে।
তার স্থাপন করা বিলবোর্ড নিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী বিলবোর্ডের কোনো সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি এবং উক্ত আইনের ১৪নং দফায় বলা হয়েছে ‘বিলবোর্ড ব্যবহার নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে (ক) যেকোনো ধরনের বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাইবে, তবে বিলবোর্ডে প্রচারণার অংশের আয়তন অনধিক ১৬ (ষোল) ফুট X ৯ (নয়) ফুট হইতে হইবে।’’ এক্ষেত্রে বিলবোর্ডের স্ট্রাকচার, পচনশীল দ্রব্য ব্যবহার ও কালার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়নি।
এছাড়া উক্ত বিধিমালার ৭(খ) উপদফায় বলা হয়েছে ‘‘অপচনশীল দ্রব্য (যেমন: রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোনো উপাদানে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার) ব্যবহার করা যাইবে না।’’-এক্ষেত্রেও বিলবোর্ডের জন্য অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহারের কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
উক্ত বিধিমালার ৭(৩) দফায় বলা হয়েছে ‘‘ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতীত নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হইবে এবং ব্যানার আয়তনে অনধিক ১০ (দশ) ফুট X ৪ (চার) ফুট.....’’।-এক্ষেত্রেও বিলবোর্ড ব্যবহারে কালার ব্যবহার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা উল্লেখিত হয়নি।
এমতাবস্থায় গত ২২ জানুয়ারি উপরোক্ত বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে যোগাযোগক্রমে কালার ব্যবহারের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে সিলেট-১ নির্বাচনি এলাকায় ২০টি রঙিন কালারের বিলবোর্ড লাগাই। কিন্তু সিলেটের রিটার্নিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাকে কোনোরূপ অবগত না করেই বিধি সম্মতভাবে লাগানো আমার ২০টি রঙিন বিলবোর্ড গতকাল বুধবার বিকেলে খুলে নেন এবং তৎক্ষণাৎ টিলাগড় পয়েন্টে আমার বিলবোর্ডের স্ট্রাকচারে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী প্রার্থীর একটি বিলবোর্ড লাগানো হয়।
আনোয়ার হোসেন সুমন বলেন, উপরোক্ত বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অদ্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গেলে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা আমাকে অপেক্ষায় রেখে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও সাক্ষাৎ না করেই বাহিরে চলে যান। তাই আমি মনে করি, আইন ও বিধিমতো লাগানো আমার বিলবোর্ডগুলো খুলে নেওয়ায় নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সুবিধা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিঘ্নিত হচ্ছে।
নির্বাচনি প্রচারণার অন্য প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সিলেট মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ১টি করে বিলবোর্ড লাগানোর বিধান থাকলেও অন্তত দুইজন প্রার্থী প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে বাঁশের স্ট্রাকচারে তৈরি প্রায় তিন শতাধিক বিলবোর্ড লাগিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। সিলেট-১ আসনে চলমান প্রায় ১৯ হাজার সিএনজি এর মধ্যে অধিকাংশ সিএনজি অটোরিকশার পেছনে ২ জন প্রার্থীর রঙিন পোস্টার লাগানো রয়েছে যা আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। সিলেট শহরের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ও গাছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার ফেস্টুন লাগানো রয়েছে যা আচরণ বিধির লঙ্ঘন। একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি জনসভা শেষ হওয়ার পরও প্রার্থীর নাম ও ছবি এবং দলের নাম সংযুক্ত প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার অপচনশীল দ্রব্যের তৈরি রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড লাগানো রয়েছে, যার ফলে ঐ প্রার্থী ও দল প্রচারণায় সুবিধা পাচ্ছেন এবং অন্য আরেকটি দলের প্রার্থী একই তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন।
উপরোল্লিখিত বিষয়সমূহ ছাড়াও আরও বহু প্রক্রিয়ায় দুইজন প্রার্থী বিভিন্ন বাসায় বাসায় রঙিন লিফলেট বিলি করে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও সিলেটের রিটার্নিং অফিসার ও অন্যান্যদের কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করে আনোয়ার হোসেন সুমন বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করে ইতোমধ্যে নিজেদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছেন। সিলেটের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ তথা আপামর জনসাধারণের নিকট জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে আমার প্রতি বিরাগভাজন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার নির্বাচনি প্রচারণাকে বাধাগ্রস্ত করার পক্ষপাতিত্বমূলক উদ্দেশ্যে বিধি সম্মতভাবে লাগানো আমার বিলবোর্ড খুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে সব প্রার্থী উপরোল্লিখিত মতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা ন্যায় সঙ্গত নয়।
এমতাবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করলে বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র অভিমুখী অভিযাত্রা হুমকির মুখোমুখি হওয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবং নির্বাচনকে পক্ষপাত দুষ্ট করার প্রতিবাদে আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হব।
শাকিলা/মাহফুজ