গাইবান্ধায় জ্বালানি তেলের ফিলিং স্টেশনে পেট্রল না পেয়ে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেছেন মোটরসাইকেলচালকেরা।
মঙ্গলবার(৩১ র্মাচ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসষ্ট্যাণ্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রায় আধা ঘণ্টা পর মোটরসাইকেলচালকেরা অবরোধ তুলে নেওয়া নেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে গাইবান্ধা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত আর রহমান ফিলিং স্টেশনে পেট্রল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন মোটরসাইকেলচালকেরা। পরে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ পেট্রল পাম্পের মেশিন বিকল হয়েছে জানালে মোটরসাইকেলচালকেরা স্টেশনের সামনে আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর মোটরসাইকেল রেখে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবুর হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
জানতে চাইলে, মোটরসাইকেলের একাধিক চালক অভিযোগ করে বলেন,ফিলিং স্টেশনে অনেক পেট্রল রয়েছে। পেট্রল থেকেই দীঘ সময় ধরে তারা সরবরাহ করছে না। পরে আমরা সড়ক অবরোধ করি। ঈদের পর যানবাহনের প্রয়োজন পড়ে বেশি। কিন্তু পেট্রল না থাকায় তাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই জরুরি কাজে বের হয়ে বিপাকে পড়ছেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু মুঠোফোনে জানান, অল্প সময়ের জন্য সড়ক বন্ধ ছিল। পরে খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলচালকদের বুঝিয়ে বললে তারা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এসব বিষয়ে আর রহমান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জুয়েল মিয়া বলেন, সোমবার হঠাৎ পাম্পের ফুয়ের ডিসপেনসার(পেট্রল পাম্প মেশিন) দুটি বিকল হয়ে যায়। তাই যানবাহনে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন একটি মেশিনে তেল দেওয়া হচ্ছে।
আর রহমান ফিলিং স্টেশনে আসা পলাশবাড়ী উপজেলার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিরতে পণ্য বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। কয়েকঘন্টা অপেক্ষা করে ২০০ টাকার বেশি পেট্রল নিতে পারছি না। ২০০ টাকার পেট্রল দিয়ে কতক্ষণ চলে। যেভাবে সংকটের কথা শুনছি, কয়েক দিন পর তো পেট্রলই পাওয়া যাবে না। তখন কীভাবে চাকরি রক্ষা করব। গতকাল ২০০ টাকার তেল নিয়েছেন। আজ পাম্পে এসে বসে আছি। তেল পাচ্ছি না।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা গেছে, গাইবান্ধা পৌরসভায় চারটি পাম্পের তিনটি বন্ধ। একটিতে মেশিন নষ্ট। ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ সারি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক মোটরসাইকেলচালককে পাম্প থেকে ফিরে যেতে দেখা যায়। জেলার অন্যগুলো ফিলিং স্টেশনগুলোও দিনভর বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে।
বাসটার্মিনাল এলাকায় কাদির অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক রোকন মিয়া বললেন, সরবরাহ না থাকায় সাময়িকভাবে পেট্রলপাম্প বন্ধ রাখা হয়। ডিপু থেকে তেল আসলে তেল সরবরাহ করা হবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, জেলার ২২ টি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ করছে।
রফিকুল/রিফাত/