বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গতকাল শনিবার দেশেও ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। তবে ভোগান্তি কমেনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের মানুষের। জেলাগুলোর সব ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। দাবদাহ ভোক্তাদের তেল পাওয়ার অপেক্ষাকে আরও তিক্ত করে তুলেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ও তেলের বাড়তি দামের প্রভাবে কৃষি ও পরিবহন খাতেও চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গতকাল রবিবার চুয়াডাঙ্গায় ডিজেলের বরাদ্দ ১ লাখ ৭ হাজার লিটার, পেট্রল ২৮ হাজার ৫০০ লিটার এবং অকটেন ২ হাজার লিটার থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা ছিল খুবই সামান্য। ফলে দুপুর না হতেই অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে অসংখ্য মোটরসাইকেলচালককে। ফুয়েল কার্ডধারীরাও তেল পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে কুষ্টিয়ার ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। জেলাটিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোটরসাইকেলচালক আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বেতন বাড়ছে না। কিন্তু যাতায়াত খরচ এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেল। সেই সঙ্গে দিনের প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় চলে যায় তেল সংগ্রহের পেছনে। দাম বাড়ল ঠিকই, ভোগান্তি কমল না।’
কৃষকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। বোরো মৌসুমের এই শেষ সময়ে সেচ কাজের জন্য ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা জানান, তেলের দাম বাড়ায় সেচ পাম্প ও ট্রাক্টরের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, তেলের দাম বাড়লেও সঠিকভাবে সরবরাহ না থাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়ার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘সকাল থেকে পাম্পে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। পরে কৃষি কর্মকর্তার সই নিয়ে ডিজেল নিতে এসেছি। এখানেও দীর্ঘ লাইন। অপেক্ষা করেও তেল পাব কিনা তা নিশ্চিত না।’ কুষ্টিয়ার মিরপুরের কৃষক নুর
ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সার ও বীজের দাম তো আগেই বেশি ছিল। এখন তেলের দাম বাড়ায় ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ আর মাড়াইয়ের খরচও বেড়ে যাবে। আমাদের মতো কৃষকদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে।’ একই সুরে কথা বলেন মেহেরপুরের কৃষক জিল্লুর রহমান। তবে তিনি উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফসলের দাম না বাড়ার আশঙ্কা করেছেন।
মেহেরপুরের বামন্দী ও গাংনী এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে তেলের জন্য অপেক্ষারত মানুষের দীর্ঘ সারি। প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধি মাসুদুল হাসান বলেন, ‘আগে যেখানে ৫ হাজার টাকায় প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লাগছে।’
গাংনীর এক ফিলিং স্টেশন থেকে আরএফএল কোম্পানির প্রতিনিধি বলেন, ‘আয় না বাড়লেও যাতায়াত খরচ এক লাফে বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।’ সচেতন মহলের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের বাজারে পড়বে।জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর থেকে ঢাকাগামী এবং আন্তজেলা বাস ভাড়ায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
যদিও চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে তারা এখনো ভাড়া বাড়াননি। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছাড়া লোকসান দিয়ে কত দিন চালানো সম্ভব তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রাইভেট কার চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের পর তেলের দাম বাড়ায় তাদের আয় অনেক কমে গেছে।