ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয়
Nagad desktop

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি লালা প্রকাশ লালা মেথর (৪৩) গ্রেপ্তার হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বান্ডেল রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার লালা কোতোয়ালী থানার বান্ডেল রোড এলাকার সেবক কলোনীর মেথর পট্টির মৃত গংগাদীন মেথরের ছেলে।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। সকালে মামলার পলাতক আসামি লালা মেথরকে আটক করতে সক্ষম হয় তারা। 

জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে ইসকন নেতা চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে তার অনুসারীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে আদালত ভবনের নিচে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিকেলে আদালতের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে একদল উগ্রবাদী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছায়া তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারে নজরদারি শুরু করে।

র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আবদুস সাত্তার/অন্তরা

রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে সবজিসহ ভ্যানগাড়ি ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে উপজেলায় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনজন উপকারভোগীর হাতে সবজিসহ ভ্যানগাড়ি তুলে দেওয়া হয়। +

পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে আরও চারজন উপকারভোগীকে নগদ টাকা দেওয়া হয়।

উপকারভোগীদের মাঝে এসব সুবিধা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান। এছাড়া সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউছুপ চৌধুরী ও ইউছুপ কামাল তালুকদার।

ভ্যানগাড়ি পেয়ে এক উপকারভোগী আব্দুল আলিম বলেন, ভ্যানগাড়ি পেয়ে আমার খুব উপকার হয়েছে। আমার পাঁচজনের সংসারে আমি একাই উপার্জনকারী। আমি উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও এমপিকে ধন্যবাদ জানাই। এখন থেকে ভ্যান চালিয়ে আয় রোজগার করব। 

বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বনির্ভর করে তুলতে নিয়মিত এ ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।

তৈয়্যবুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা
র‌্যালিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের সমর্থকরা। ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপ যখন বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেই উন্মাদনার রঙ লেগেছে রাজশাহীর রাজপথেও।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি আর শতাধিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বহরে নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজশাহীর ফুটবলপ্রেমীদের সংগঠন ‌‌ফুটবল ফ্যানস অব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ গ্র্যান্ড র‍্যালি’। বিকেলে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন মোড় থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এতে অংশ নেন বিভিন্ন দলের সমর্থক, ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ-যুবক ও সাধারণ মানুষ।

র‍্যালিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার সমারোহ দেখা যায়। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার সাজিয়ে অংশ নেন এ আয়োজনে।

বিশ্বকাপের থিম সং, সমর্থকদের স্লোগান আর উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে পুরো নগরী যেন রূপ নেয় এক ক্ষুদ্র ফুটবল কার্নিভালে।

আয়োজকরা জানান, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও বন্ধনেরও মাধ্যম। ভিন্ন দেশের সমর্থক হলেও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া ফুটবলপ্রেমী জুবায়ের রশীদ বলেন, 'রাজশাহীতে ফুটবলপ্রেমীদের এমন মিলনমেলা সত্যিই আনন্দের। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থক হলেও আমাদের পরিচয় একটাই, আমরা ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।'

র‍্যালি চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে রঙিন পতাকা ও সুসজ্জিত যানবাহনের বহর উপভোগ করেন তারা। কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান অংশগ্রহণকারীদের। এতে পুরো নগর জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আমান/

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে  পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দুজনকে জলপরী সেজে প্রদর্শনীর ঘটনা ঘটেছে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালেচনার ঝড় উঠেছে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদুল আজহার ১০ দিন পর তারা চলে গেছে। এখন সেই প্রদর্শনী নেই।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক বিনোদনকেন্দ্রে ‘জলপরী’ নামে প্রদর্শন করে পার্ক কর্তৃপক্ষ। সেখানে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে ‘জলপরী’ নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে বিশেষ পোশাক পরে দুই পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারীকে পানিতে প্রদর্শন করানো হয়। পরে এই প্রদর্শনীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দাবি করেছে, এই আয়োজন দর্শকদের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা ও উপস্থাপন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই প্রদর্শনীটাই অনৈতিক। তবে কেউ কেউ এটিকে আবার বিনোদনের অংশ হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন। 

পার্কে ঘুরতে আসা আগ্রাবাদের এক সরকারি কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘বিকেলে আগ্রাবাদের একটা অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানকার এক কর্তা আমাকে ফিসফিস করে বললেন, ও বদ্দা ‘জলপরী’ চাইতা যাইবা না? (ও ভাই, জলপরি দেখতে যাবেন না?)। দেখতে গিয়ে হতাশ হলাম। দুইটা চাকমা মেয়েকে মাছের মতো কাপড় পরিয়ে বাতাসভর্তি টিউব ধরিয়ে পানিতে ছেড়ে দিয়েছে। মানুষের ভিড়ে গমগম অবস্থা। একটা পিচ্চি বায়না ধরেছে সে জলপরীদের চিপস খাওয়াবে। আরেক শিশু আবার পানিতে নামতে চায়।’ 

চট্টগ্রাম বারের সিনিয়র আইনজীবী আহমদ কবীর করিম বলেন, ‘মানুষকে প্রদর্শন করে টাকা রোজগার করা অন্যায়। এটা খুবই অমানবিক কাজ। মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অপরাধ। কেউ চাইলে এ বিষয় নিয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন। তখন সাজা হবে ওই কর্তৃপক্ষের।’ 

আরও জানা যায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ২৫ বছরের জন্য ইজারা নেয় ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বর চসিক মেয়র এ পার্কটি উদ্বোধন করেন। এ পার্কে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করেন। 

এ বিষয়ে কথা বলতে পার্ক ম্যানেজার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেনের দপ্তরে গেলে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে থাকা অন্য কর্মকর্তা সুভাষ নামের একজন বলেন, জলপরী নিয়ে পার্কে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে সমালোচনা হওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর তারা চলে যায়। এর পরও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। 

চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
চা শ্রমিক সন্তানদের মধ্যে ইনার হইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজ স্যানেটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

সিলেটে চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে ইনার হুইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজ ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫।

শুক্রবার (১২জুন) বিকেলে নগরীর দলদলী চা বাগানের ১৫ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের স্যানেটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয়।

ইনার হুইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজের প্রেসিডেন্ট জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শাকিলা ববির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনার হুইল ক্লাব অব মৌলভীবাজার এর ইসি মেম্বার শাহরিন সুলতানা।

অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি-১ ইমরানা বেগম পিংকি, সহসভাপতি-২ নিপা মনির, ট্রেজারার জান্নাতুল ফেরদৌসী শাম্মী, আইএসও রহিমা খাতুন লুবনা, ক্লাব করেসপন্ডেন্ট বুশরা নূর ইসি মেম্বার সুমি বেগম।

স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমি ফল বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পিরিয়ডকালীন পরিছন্নতা, নিজের সাধ্য অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ভালোভাবে লেখাপড়া করে সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে কথা বলেন শাকিলা ববি ও শাহরিন সুলতানা।

ক্লাবের প্রেসিডেন্ট জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এটা আমাদের প্রথম প্রজেক্ট। চা শ্রমিকদের সন্তানদের মধ্যে স্যানেটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমী ফল বিতরণ করে আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করেছি। গত মাসের ১২ তারিখ আমাদের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান মোশায়লা করিম, ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারি ইসমত আরা মিলি, ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস অর্গানাইজার শাহনাজ পারভীন মিতা, ওয়েবমাস্টার শারমীন হোসেন, ইনার হুইল ক্লাব অব দিলকুশার প্রেসিডেন্ট জিনাত সুলতানাসহ ডিস্ট্রিক্ট নেতারা ক্লাব ফরমেশন ও ভিজিট করেন এবং আমাদের প্রথম প্রজেক্টের জন্য আর্থিক অনুদান দেন। সেই আনুদানেই আজ সম্পন্ন হলো আমাদের প্রথম প্রজেক্ট।

শাকিলা ববি/তামান্না রুপা/

চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স

বিশেষ শর্তের বেড়াজালে আটকে গিয়ে চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি খামারের খাদ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট এবং ওষুধ সরবরাহ দরপত্র প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়ছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দিয়ে দরপত্র আহ্বানের কারণে অনেকেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন। 

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও দরপত্রে কারিগরি শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ কমে যাচ্ছে। 

একাধিক ঠিকাদার আলাপকালে জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গরু ও ছাগলের খামার, পাহাড়তলীতে আঞ্চলিক মুরগির খামার, ফেনীর সোনাগাজীতে হাঁসের খামার, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সীতাকুণ্ড ও রাঙামাটিতে মুরগি খামার, বরইছড়িতে শূকরের খামার, বান্দরবানে গয়ালের খামারসহ বিভিন্ন সরকারি খামারের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার খাদ্য, ওষুধ এবং ফুড সাপ্লিমেন্ট কেনা হয়। একটি নির্দিষ্ট চক্র বছরের পর বছর ধরে কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতিযোগিতাহীন ব্যবসা করে যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরবরাহ করা প্রাণিখাদ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, ই-জিপি প্রক্রিয়া সব যোগ্য ঠিকাদারের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অযৌক্তিক বা প্রতিযোগিতাবিরোধী শর্ত বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দরপত্র কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। 

ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন খামারের খাদ্য উপকরণ ক্রয়ের দরপত্রে ‘টক্সিন বাইন্ডার, প্রোটিন কনসেনট্রেন্ট, লাইমস্টোন, লিভার টনিক, এমাইনো এসিডসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং সাপ্লিমেন্ট কেনার জন্য এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা বাজারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব শর্তের কারণে নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। অথচ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) অনুযায়ী কারিগরি স্পেসিফিকেশন এমন হতে হবে যেন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয়। 

সর্বশেষ সীতাকুণ্ডে মুরগির খামারের কাজটি পেতে এমন শর্ত দেওয়া হয়, যা শুধু সীতাকুণ্ড পৌরসভার একজন রাজনীতিবিদের বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ ও আব্দুলাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স পূরণ করতে পারে। 

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন্না ট্রেডার্স, সাওদা এন্টারপ্রাইজ, ফারুক এন্টারপ্রাইজ, তাসুমো ফ্যাশনস ও এনকিউএন এন্টারপ্রাইজ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ ধরনের বিশেষ শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করে।

আবেদনে বলা হয়, দরপত্রের বিশেষ শর্ত নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাইজামান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এক চিঠিতে বিষয়টি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেক টাচ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘দরপত্রের বিশেষ শর্তের কারণে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারছি না। এতে সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কাজ পাচ্ছে। শর্ত শিথিল করার জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।’ 

আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবরার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্বত্বাধিকারী মো. আশরাফুল শিহাব খবরের কাগজকে জানান, সীতাকুণ্ড পোলট্রি খামার ভুট্টা ভাঙা, লাইমস্টোন এবং ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট সরবরাহের দরপত্র কিনেছেন তিনি। ৬০ লাখ টাকার এই দরপত্র কিনেও তিনি জমা দেননি। দরপত্রে চাওয়া ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট (ডিসিপি) বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না। দরপত্রের শর্তে এই পণ্যটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনপত্র চাওয়া হয়েছে। শর্তে ডিসিপির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য যে কোম্পানির সঙ্গে মেলে ওই কোম্পানি শুধুমাত্র একজন ঠিকাদারকেই অনুমোদনপত্র দেয়। কিন্তু তিনি অনুমোদনপত্র পাননি। এ কারণে দরপত্র কেনার পরও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

তিনি জানান, ছোট একটি আইটেমের উদ্ভট শর্তের কারণে দরপত্রটিতে অন্য কেউ প্রতিযোগিতা করতে পারেননি। 

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড মুরগি খামারের উপপরিচালক কামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিনি যোগদান করার আগেই দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে ঠিকাদারদের অভিযোগ থাকলে আমরা সেটি নিয়ে চিন্তা করব।’ 

জানতে চাইলে পাহাড়তলী আঞ্চলিক মুরগি খামারের উপপরিচালক ডা. ওয়ারেস কামাল খবরের কাগজকে বলেন, তারা পিপিআর রুল মেনে দরপত্র আহ্বান করেন। সরকার যদি রুল পরিবর্তন করে তখন তারা সেভাবে দরপত্র আহ্বান করবেন। তা ছাড়া দরপত্র আহ্বানের পর মূল্যায়ন কমিটি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখে। সব ঠিক থাকলে তখন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এখানে তাদের অনিয়মের সুযোগ নেই। 

জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খবরের কাগজকে বলেন, পিপিআরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। পিপিআর অনুসরণ করে দরপত্র আহ্বান করলে যিনি কাজ পাবেন, তিনিই পণ্য সরবরাহ করবেন।