ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

হাওরে ধান বাঁচানোর যুদ্ধ

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১১:০৬ এএম
হাওরে ধান বাঁচানোর যুদ্ধ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার গাঙ্গিনা হাওরে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে নৌকায় তুলছেন রীতা-ভূষণ চন্দ্র দাস দম্পতি। ছবি: খবরের কাগজ

দিনের শুরুতেই আকাশজুড়ে ছিল মেঘের আস্তরণ। থেমে থেমে পড়ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। প্রকৃতির এই শান্ত সৌন্দর্যের মাঝেও থেমে নেই মানুষের যুদ্ধ। 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর হতেই মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরের বিস্তীর্ণ ধানখেতে নেমে পড়েন কৃষকরা। কোথাও বাবা-ছেলে মিলে ধান কাটছেন, কোথাও ধানের আঁটি গুছিয়ে রাখছেন স্ত্রী। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের শঙ্কায় ফসল বাঁচাতে পুরো পরিবার নিয়েই মাঠে সময় পার করছেন তারা।

গতকাল সকালে সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপাড় ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার মৌসুম এলেও এবার কৃষকের মুখে নেই স্বস্তি। আকাশে মেঘ জমলেই বাড়ছে দুশ্চিন্তা। শ্রমিক সংকট, বাড়তি মজুরি আর অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই নেমেছেন ধান কাটার কাজে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে তাদের লড়াই। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাওরজুড়ে এখন একটাই ভয়–আবার যদি পানি বাড়ে! পাকা ধানের খেত তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। কোথাও ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজাতে শুরু করেছে।

বিরইমাবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল কাদির আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের এখন আর কোনো শান্তি নাই। ১০ কিয়ার জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। অনেক কষ্ট করে চার কিয়ার মতো ধান তুলছি। শ্রমিক পাই না, নৌকাও পাই না। যা পাই, খরচ অনেক বেশি। তাই পরিবারের সবাই মিলে মাঠে কাজ করছি। এই ধান যদি বাঁচাতে না পারি, তাহলে সারা বছরের কষ্টই শেষ।’ 

আরেক কৃষক রমেন দাস জানান, পানির নিচে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তার ওপর সময়মতো শুকাতে না পারায় অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। রমেন দাসের পাশে দাঁড়িয়ে ধানের আঁটি বাঁধছিলেন তার স্ত্রী সুমি রানী দাস। ক্লান্ত চোখে তিনি বলেন, ‘ভোর হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই থাকি। বাপ-পুতে ধান কাইটা নৌকায় করে আনে, আমি আঁটি বাঁধি আর গুছাই। এখন একদিন দেরি মানেই বড় ক্ষতি। আকাশে মেঘ দেখলেই ভয় লাগে, আবার যদি বৃষ্টি নামে।’

শুধু পুরুষরাই নন, হাওরের মাঠে নারীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। কেউ ধান শুকাচ্ছেন, কেউ গুছিয়ে রাখছেন। কেউ আবার নৌকায় ধান তুলতে-নামাতে সাহায্য করছেন। অনেক জায়গায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও দেখা গেছে পরিবারের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে আমাদের জরিপের কাজ চলছে। জরিপ শেষ হলে চূড়ান্ত ক্ষতিটা জানা যাবে।

ডুবে গেছে রীতা-ভূষণ দম্পতির স্বপ্ন
কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরে ডুবেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান। হাওরে এ বছর বৈশাখে ঘরে ধান তোলার আনন্দ নেই। ঘরে-ঘরে ভেজা ধানে গজিয়েছে অঙ্কুর। হাওরের বাতাসে পচা ধানের গন্ধ। কেউ বুক পানিতে, কেউ কোমর পানিতে নেমে ভেজা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টায় আছেন। গতকাল বিলমাকশা খালে গিয়ে দেখা গেছে পানির নিচ থেকে ধান কেটে ঘরে তোলার শেষ চেষ্টা করছেন অনেক কৃষক।

এদের মধ্যে রয়েছেন অষ্টগ্রাম উপজেলার হালালপুর গ্রামের রীতা-ভূষণ দম্পতিও। অতি যত্নের ফসলগুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হচ্ছে চোখের সামনে। তাই ভোরের আলো ফোটার আগেই পানিতে নেমে ধান কাটছিলেন তারা। এই দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভূষণ চন্দ্র দাস নিজের এলাকা হবিগঞ্জের বুল্লা ইউনিয়নের হেলারকান্দি গ্রাম থেকে সুদে টাকা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামে দুই একর জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। 

পানিতে নেমে অষ্টগ্রামের বাইলাকান্দি হাওরে পানিতে নিমজ্জিত ধান কাটতে কাটতে তিনি বলেন, ‘ধান কাটার শ্রমিক পাই না। যে মজুরি চায়, তা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নাই। তাই নিজেরাই পানিতে নেমে ধান কাটতেছি। আমার কষ্ট দেইখা বউও বুক পানিতে ধান কাটতে নামছে। ছোট তিন বাচ্চা বাড়িতে রাইখা আমরা দুইজন ধান তুলি পানি থেকে।’

কাঁদতে কাঁদতে রীতা রানী দাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার সব স্বপ্ন পানিতে ডুবে গেছে। এ বছর আমি সংসার কীভাবে চালাব। তিন বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। সব ধান ডুবে গেছে। ভোরবেলা ধান পানি থেকে কাটার জন্য দুইজন বের হয়েছি। দুপুরের খাবারও খেতে পারিনি। আর কিছুই নাই। এ বছরটা ছেলেমেয়ে নিয়ে বাঁচব কীভাবে, ভগবানই জানে।’

এদিকে অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নের গাঙ্গিনা, করানি, উগলি, মইচচুরা, জলঢোপ, টোকেরখলা, কইলাকান্দি, কান্তা হাওরের ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার কিশোরগঞ্জে ধান পানিতে তলিয়ে কৃষকের ২৫৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ ছাড়াও হাওরের ৫৯ হাজার ৭১৫ জন কৃষকের ১৩ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত হাওরে প্রায় ৭৩ শতাংশ ও নন হাওরে ৪০ শতাংশ জমি কর্তন করা হয়েছে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার খবরের কাগজকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি বিভাগ ও পাশাপাশি ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে। সেই কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সদস্য ও কর্মী রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। আশা করি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই সরকারি সুবিধা পাবে। অষ্টগ্রামে মোট ২ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় এক লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওর এলাকার তিন উপজেলা–ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামেই আবাদ হয়েছে এক লাখ ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। এ বছর জেলায় প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম বুলু (৬০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শত শত মানুষ নিহতের মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মো. ইব্রাহিম বুলু (৬০) গুরুতরভাবে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। আঘাতের ফলে তার মাথার খুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার (৫ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিহতের মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “মো. ইব্রাহিম বুলু অত্যন্ত সহজ-সরল ও নিরীহ একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করি, প্রকৃত খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির নেতা আবু তৈয়ব কন্ট্রাক্টর, মো. ইদ্রিস আমেরীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় বক্তারা বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই। প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে যেন কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া না হয়।

বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, গত ২৫ মে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলাটিতে মোট ৭ জনকে আসামি ও ৫-৬জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কর্ণফুলী থানা পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। "বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।"  অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ওসমান হোসাইন/এসএন

মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২
ছবি: সংগৃহীত

সাগরপথে মায়ানমারে এবার ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট পাচারের চেষ্টার সময় পাঁচটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ (বোট) ৫২ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বঙ্গোপসাগরে ওই অভিযান চালানো হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন টহল ও অভিযান পরিচালনা করে আসছ। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গোপসাগরে টহলের সময় পাঁচটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের ফিশিং বোটে অভিযান চালিয়ে ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী। এসময় সিমেন্ট পাচারের চেষ্টায় জড়িত অভিযোগে ওই চক্রের ৫২ সদস্যকে আটক করা হয়। 

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ টহলের সময় সেন্টমার্টিনের দ্বীপের অদূরে সন্দেহজনক দুইটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ফিশিং বোট দেখতে পায়। ফিশিং বোট দুইটির গতিবিধি সন্দেহ হলে নৌবাহিনী জাহাজ ওই ফিশিং বোট দুটিকে আটক করে। আটককৃত বোট ‘এফবি মা নুর জাহান’ এবং ‘এফবি হোমাইয়ারা’য় তল্লাশি করে ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ সময় সিমেন্ট পাচারকারী দলের ২২ জন সদস্যকেও আটক করা হয়। 

আটক ব্যক্তিরা জানান, অধিক মুনাফার আশায় সিমেন্টগুলো মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে একই কাজে যুক্ত অন্য তিনটি ফিশিং বোটসহ চক্রের ৩০ জনকে আটক করে নৌবাহিনী।

এর আগে ২ জুন মায়ানমারে পাচারকালে ১৭০০ বস্তা সিমেন্টসহ দুইটি ইঞ্জিন চালিত বোট আটক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছিল।

আলমগীর হোসেন/রিফাত/

জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে বিএসএফের সহায়তায় পুশইনের দুটি পৃথক চেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থা জারির পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে টহল জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী।

তিনি জানান, গত বুধবার বিএসএফের পক্ষ থেকে পুশইনের একটি অঅনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হলে বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপরের রাতেই সীমান্তে পুশ-ইনের একটি প্রত্যক্ষ চেষ্টা চালানো হয়, যা বিজিবির অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতেও সীমান্তের জিরো লাইনের বরাবর কিছু সন্দেহভাজন চলাচল লক্ষ্য করে বিজিবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির টহল দল স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে সারারাত সীমান্তে সজাগ ডিউটি পালন করে। ফলে অনুপ্রবেশের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

লে. কর্নেল লতিফুল বারী বলেন, সাধারণত বিএসএফ প্রথমে কাটাতারের বেড়া নির্মাণের রুটিন কার্যক্রম শুরু করে এবং তা সফল হলে পরবর্তীতে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। তবে আমরা কাটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং পুশ-ইন কোনোটিই মেনে নিইনি। জয়পুরহাট সীমান্তের হিলি ও কয়া সংলগ্ন কাটাতারবিহীন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিজিবির সর্বাধিক জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে টহল ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।

সাগর কুমার/রিফাত/

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ছবি: খবরের কাগজ

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে তিনি উখিয়া উপজেলার বালুখালী ও এর সংলগ্ন বিভিন্ন ক্যাম্পে তুরস্কের অর্থায়নে পরিচালিত মানবিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

তিনি শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে উখিয়ার বালুখালীস্থ ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। ক্যাম্পে অবস্থানকালে তিনি তুরস্কের সহায়তায় স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন।

এরপর বিকেল ৪টায় তিনি ৯ নম্বর ক্যাম্প থেকে রওনা হয়ে ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান। সেখানে ‘তুরস্ক রেড ক্রিসেন্ট’ এবং ‘তুরস্ক দিয়ানাত ফাউন্ডেশন’-এর কার্যালয় ও তাদের মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান এবং সেখানে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা সংস্থা ‘টিকা’ (TIKA) কর্তৃক পরিচালিত বহুমুখী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরে বিকেল ৫টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কর্মসূচি শেষ করে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বিমানযোগে তার ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

সফরের শেষ দিন শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বিশেষ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানসহ ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‍্যাব-১৫ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিদুয়ানুল হক/রিফাত/

লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক
ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুরে একটি হাসপাতালের কক্ষে ডেকে নিয়ে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে (১১) বলাৎকারের অভিযোগে রিমন হোসেন নামে এক ওয়ার্ডবয়কে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আল-মানার হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত রিমনকে আটক রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে আল-মানার হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতে খবর পেয়ে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।

রিমন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মজুপুর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে এবং তিনি জেলা শহরের আল-মানার হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভুক্তভোগী কিশোরের মা বলেন, ‘আমার ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও সহজ-সরল। সে নামাজ পড়তে বের হয়। কিছুটা আগে বের হওয়ায় আল-মানার হাসপাতালে গিয়ে টেলিভিশন দেখছিল। সেখান থেকে ওয়ার্ডবয় রিমন তাকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করে। এ সময় আমার ছেলে চিৎকার-চেঁচামেচিও করেছে। পরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সে ঘটনাটি তার বন্ধুদের জানায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় মামলা করব।  এ ঘটনায় রিমনের বিচার চাই। ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’

রফিকুল ইসলাম/রিফাত/