ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অতিথির স্মৃতি গল্প থেকে ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি! সাতকানিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক লালমনিরহাটে ৩ সীমান্ত পয়েন্টে পুশইন ব্যর্থ, লোকজন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন চন্দনাইশে দ্রুতগামী অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা নওগাঁ সীমান্তে ১৭ ব্যক্তিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ গাইবান্ধায় দুই ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাইজদীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে পুলিশে দিল ছাত্রদল রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত
Nagad desktop

রংপুরে জমজমাট গরুর আবাসিক হোটেল

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
রংপুরে জমজমাট গরুর আবাসিক হোটেল
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে জমে উঠেছে গরুর আবাসিক হোটেল। বিশেষ করে আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারি গরু ব্যবসায়ীরা কোনো রকম ঝুটঝামেলা ছাড়াই নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে বাজার থেকে কেনা গরু রাখতে পারছেন। তবে এ ধরনের গরুর আবাসিক হোটেল হাতে গোনা কয়েকটি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

১০-১২ বছর আগের কথা। বাবা আনছার আলীর সঙ্গে গরুর হাটে যেতেন আশানুর ইসলাম। গরু কেনার পর সেগুলো রাখার জায়গা থাকতো না। ঝড়-বৃষ্টিতে গরু রাখতে গিয়ে বিপাকে পড়তেন ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমে প্রায়ই গরু অসুস্থ হয়ে পড়ত। ঠিক সেই সময় আশানুরের মাথায় আসে আবাসিক হোটেলের ধারণা। বিষয়টি বাবার সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি।

কিছুদিন পর বাবা-ছেলে পরামর্শ করে তৈরি করেন গরুর হোটেল। বর্তমানে এই হোটেলের কদর দেশজুড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা আস্থা রেখে এখানে তাদের গরু রাখেন।

রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় পার হয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে বারো আউলিয়া এলাকায় আশানুরের গরুর হোটেল। আগে এটি মডার্ন মোড়ে ছিল। রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ায় হোটেলটির অবস্থান পরিবর্তন করা হয়। ৫০ শতক জমি ভাড়া নিয়ে চলছে এই গরুর হোটেল, যেখানে প্রায় ৩৫০টি গরু রাখা যায়।

কেন গরুর হোটেল চালু করলেন- জানতে চাইলে আশানুরের বাবা আনছার আলী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা গরু কিনতে আসে, কিন্তু একদিনে সব গরু কিনতে পারে না। দুই-তিনটি হাট ঘুরে গরু কেনে। তখন গরু রাখার জায়গা থাকে না। আমাদের হোটেলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাপারীরা আসে। হোটেল চালু হওয়ায় তাদের সুবিধা হয়েছে। তারা নিশ্চিন্তে এখানে ঘুমাতেও পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের সদস্য ছাড়াও বাইরের কিছু লোক কাজ করেন এখানে। মূলত তিনজন স্থায়ীভাবে কাজ করি। এ ছাড়া আরও কিছু লোক আছেন, যারা আসা-যাওয়া করেন, তাদেরও বেতন দেওয়া হয়।’ 

আয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার আগের চেয়ে এখন ভালো চলে। যা হয়, তা দিয়েই সংসার ভালোভাবে চলে যায়।’

চট্টগ্রাম থেকে গরু কিনতে আসা আয়নাল হক বলেন, ‘তিন দিন ধরে আছি। চার-পাঁচটি করে গরু কিনে এখানে রাখছি। গরু বেশি হলে একবারে ট্রাক লোড দিই। এখানে গরু রেখে নিশ্চিন্তে থাকতে পারি। শুধু রাখার জন্য ৫০ টাকা নেওয়া হয়, আর খাবার আমরা কিনে দিই। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই হোটেলে গরু রাখি। হোটেল মালিকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছে। কোনো সমস্যা হয় না।’

ফেনীর ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘গতকাল লালমনিরহাট থেকে চারটি গরু কিনেছি। আবার অন্য হাটে গরু কিনতে হবে। ট্রাকভর্তি না হওয়া পর্যন্ত চারটি গরু নিয়ে এলাকায় ফেরা যায় না। ফলে গরু নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। এই হোটেল হওয়ায় নিরাপদ জায়গা পেয়েছি। এখানে রেখে নিশ্চিন্তে বিভিন্ন বাজারে যাওয়া যায়।’

আজ সরেজমিনে ওই আবাসিক হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বিভিন্ন রঙের গরু বাঁধা রয়েছে। পুরো হোটেলজুড়ে টাঙানো হয়েছে ফ্যান এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিনের বেলায় আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য লাগানো হয়েছে ফাইবার গ্লাস বা স্বচ্ছ পলিকার্বোনেট টিন।

অন্যদিকে গরুগুলো দেখভাল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য রাখা হয়েছে ১০ থেকে ১২ জন কর্মচারী। প্রত্যেককে দৈনিক ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়।

কর্মচারী শেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদ এলে আমরা এখানেই কাজ করি। কিছু আয় হয়, যা দিয়ে ঈদ চলে যায়। যখন গরু বেশি থাকে, তখন আরও বেশি আয় হয়। কারণ বড় বড় পাইকাররা অতিরিক্ত বকশিশও দিয়ে যান।’

আশানুর ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে গরু কেনাবেচা করছি। দেখতাম গরুগুলো বৃষ্টিতে ভিজে যায়, আবার অতিরিক্ত রোদে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখনই মনে হলো এভাবে গরু রাখার ব্যবস্থা করা যায় কি না। পরে বাবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি ঘর তৈরি করি। এরপর থেকেই শুরু হয় গরুর হোটেল। আগে প্রচার কম ছিল, তবে এখন মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। তাই ব্যবসায়ীরাও এখন আমাদের কাছে ভিড়ছেন।’

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ পরিচালক ডা. মো. আবদুল হাই সরকার বলেন, ‘গরুর আবাসিক হোটেল অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। এখানে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে গরু কিনে রাখতে পারছেন, আবার হোটেল মালিকও লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে গরুগুলো অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাচ্ছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এই অঞ্চলে গরু কিনতে আরও উৎসাহিত হবেন। তাই আমরা এ অঞ্চলের গরুর হোটেল ব্যবসায়ীদের আরও বেশি উৎসাহিত করছি।’

সেলিম সরকার/অমিয়/

সাতকানিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
সাতকানিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রতিনিয়ত কৃষিজমি ও পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায়  উপজেলার পশ্চিম ছনখোলা গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় শতাধিক এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মোস্তাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, মোকতার আহমেদ, আক্কাস উদ্দিন ও খালেদ হোসাইন খোকনসহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, 'স্থানীয়ভাবে পাহাড়খেকো হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন অবৈধ ইটভাটার মালিক প্রতিনিয়ত কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ও পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করছেন। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেও উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। ফসলি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় এসব অবৈধ ইটভাটা দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে'।

অভিযোগে আরও বলেন, 'মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও পরবর্তীতে অবৈধ ইটভাটার মালিকরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মাটি কাটার ভয়াবহ চিত্র, পাহাড়খেকোদের তাণ্ডবের বিষয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেননি।

পরিশেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলোতে ইট তৈরির জন্য দেদারসে ফসলি জমি ও পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যদি অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না করে, তাহলে এলাকাবাসী পরিবেশ রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
  
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, 'অবৈধভাবে ফসলি জমি ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ছনখোলা এলাকায় পাহাড় কাটার দায়ে বেশ কয়েকজনকে জরিমানার পাশাপাশি চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মামলাও করা হয়েছে। যারা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে'।

আরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

বরগুনা সদর উপজেলায় বজ্রপাতে মো. মহিউদ্দিন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বরগুনা-পূরাকাটা মূল সড়কের পাশে মস্তুরটোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. মহিউদ্দিন বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের কদমতলা বাজার এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজের কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন মহিউদ্দিন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয় এবং তিনি বজ্রাঘাতের শিকার হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মহিউদ্দিন/আমান

জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:০৮ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০
মারমুখী অবস্থানে দুপক্ষ। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী হিলভিউ ও ফয়’জ লেক-সংলগ্ন এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছুরিকাঘাতে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।​ 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফয়’জ লেক এলাকার একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে দেয়াল নির্মাণ ও তা ভাঙা নিয়ে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে খুলশী ও আকবর শাহ থানা পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠায়।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুরুতর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।​

ঘটনাস্থলে উপস্থিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ফয়’জ লেক ও এর আশপাশের কিছু বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে খুলশী ও আকবর শাহ এলাকার দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

​তিনি আরও জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ শক্ত অবস্থান নেয় এবং উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কারা নেতৃত্ব দিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইফতেখারুল ইসলাম/থিও/

সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২৫ এএম
সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান
সোনারগাঁয়ের একই দিনে দাফন হলো বাবা ও ছেলে। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলে উজ্জল হোসেনের (৩৬) ঝুলন্ত মরদেহ পেয়েছেন স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কয়েক বছর আগে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি একাই বসবাস করতেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহজাহান মিয়া পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। কিছুদিন আগে স্ট্রোক করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহান মিয়ার মৃত্যুর খবর জানাতে তার মেয়ের জামাতা জামাল হোসেন বাড়িতে গিয়ে উজ্জ্বলকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের জানালার একটি অংশ খুলে উজ্জ্বলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

এদিকে শুক্রবার সকালে শাহজাহান মিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়। একইদিন বিকেলে দাফন করা হয় উজ্জ্বলের মরদেহ। বাবা-ছেলের একইদিনে দাফনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত শেষে শুক্রবার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

ইমরান হোসেন/আজহার/

ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মগটুলা ইউনিয়নের নাউরি গ্রাম থেকে সেলিম মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (৬ জুন) নিজ বাড়িতে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সেলিম মিয়া নাউরি গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাতে খাবার খাওয়ার পর সেলিম মিয়া তার স্ত্রীর কাছে নেশার জন্য টাকা চান। টাকা না পেয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। রাত সাড়ে তিনটায় বাড়িতে ফিরে পানি পান করে ঘুমাতে যান।

শুক্রবার (৬ জুন) ভোর ৫ টায় তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে দেখেন, ঘরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন সেলিম মিয়া। তার স্ত্রীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ নিচে নামান।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। 

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ফয়সল আহমেদ /খাদিজা রুমি/