সিলেটের কানাইঘাটে ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবানা বেগমের (২০) শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টায় স্বামী হোসেন আহমদ চৌধুরী আক্তারকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সাবানার গর্ভের শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
গত শনিবার (১২ জুলাই) রাত ৮টার দিকে কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কান্দলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার তিনদিন পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ হোসেন আহমদকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কানাইঘাট উপজেলার সাতবাঁক ইউনিয়নের চরিপাড়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কান্দলা গ্রামের হোসেন আহমদের সঙ্গে বছরখানেক আগে একই গ্রামের সাবানার বিয়ে হয়। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে আনতে শ্বশুর বাড়ি যান হোসেন। কিন্তু সাবানা অসুস্থ থাকায় শাশুড়ি মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হোসেন শ্বশুর বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে তিনি স্থানীয় কান্দলা নয়াবাজার থেকে টাইগারের বোতলে পেট্রোল কিনে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আচমকা বিছানায় শুয়ে থাকা সাবানার উপরে ঢেলে গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। এর পর সাবানার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন গিয়ে শরীরের আগুন নেভান। তবে ততক্ষণে সাবানার শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে সাবানা মৃত সন্তান প্রসব করেন। বর্তমানে সাবানা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফখর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শনিবার রাতেই আমি হাসপাতালে গিয়ে সাবানার অবস্থা দেখি। পরে পুলিশকে জানানো হলে মৃত নবজাতককে দাফন করা হয়।’
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘স্ত্রীর গায়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগে হোসেন আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
পপি/