অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে এনজিওর গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মো. নাজিম উদ্দিন তনু (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তার নাজিম উদ্দিন গ্রাহকের ওই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ চক্রের মূল হোতা বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, গতকাল বুধবার সকালে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে নাজিম উদ্দিন তনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার নাজিম নওগাঁ সদর থানাধীন জগৎসিংহপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সিআইডির এলআইসি ইউনিট এই অভিযান চালায়।
সিআইডি জানিয়েছে, নাজিম উদ্দিন তনুসহ এই চক্রের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছেন। নওগাঁ সদরের অফিসপাড়া এলাকায় ‘বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন’ নামে অফিস নিয়ে ‘এনজিও’ কার্যক্রম শুরু করেন কয়েকজনের সংঘবদ্ধ চক্র। তনু আলোচিত ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। মূলত প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয়, মাসিক ডিপিএস, এককালীন ঋণ এবং এককালীন আমানত গ্রহণের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন। প্রতি মাসে ১ লাখ টাকার বিপরীতে ২ হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার লোভ দেখানো হতো গ্রাহকদের। প্রথম দিকে গ্রাহকদের লভ্যাংশ দেওয়া হলেও পরে ব্যাপক প্রচারে সাধারণ মানুষও বিনিয়োগে আগ্রহী হন; যার মধ্যে অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ।
এজাহারে একজন বাদী জানিয়েছেন তার নিজের আমানত ছিল ২০ লাখ টাকা। ভুক্তভোগীদের আমানত ছিল প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। তবে সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, চক্রটি ৬০০ কোটির বেশি টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।
সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতা দেখা দেয়। গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত অর্থ তুলতে গেলে নানা অজুহাত দেখিয়ে কালবিলম্ব করা হয়। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গ্রাহকরা অফিসে গিয়ে টাকা চাইলে কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করে এবং একপর্যায়ে গ্রাহকদের জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।
সিআইডি জানায়, এ মামলার তদন্ত করছে সিআইডির নওগাঁ জেলা ইউনিট। প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত তনুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্ত সংস্থা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কারাগারে রয়েছেন।