ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে পৃথক অধিদপ্তর গঠনের আশ্বাস দিলেন মির্জা ফখরুল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা হরিণাকুন্ডুতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান সিলেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে প্রশাসনের অভিযান মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী: আইনমন্ত্রী বাংলা কিউআর: ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে নতুন বিপ্লব ভ্যানচালকের আর্জেন্টিনা প্রেম মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি? পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের ডিসি বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে চার স্তরে মজুত, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ভোটের দায়িত্বে মারা গেলে ১০ লাখ টাকা পাবে পরিবার মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পোশাক শিল্পের জন্য অশনি সংকেত: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে আলোচনা বিলম্ব করার ‘মূল্য দিতে হবে’: ট্রাম্প আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী আহত সিংগাইরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা সরকারি ভাতা বিতরণে নগদের প্রতি আস্থা অব্যাহত
Nagad desktop

প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল, অভিযুক্ত চক্রকে রক্ষায় তৎপর থানা পুলিশ!

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল, অভিযুক্ত চক্রকে রক্ষায় তৎপর থানা পুলিশ!
প্রতীকী ছবি

গোপনে একজন প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি বাড়িতে ভিডিও ধারণের এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে সন্তানসহ বসবাস করতেন ভুক্তভোগী। 

ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএমপি কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলে। এমনকি জড়িতদের নামও প্রকাশ পায়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নারী মামলা করতে গেলে গড়িমসি শুরু করে থানা পুলিশ। জড়িতদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো এজাহার থেকে তাদের নাম বাদ দিতে চাপ দেন থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)।

ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে গোপনে বাথরুমের ‘ভেন্টিলেটর’ দিয়ে গোসলের ভিডিও ধারণ করেছেন বাড়ির মালিক বা তার পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির মালিক জাহানারা বেগম, ছেলে ঝন্টু, তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তারা ভিডিও ধারণের কিছুদিন পরেই ভুক্তভোগীর কাছে ও তার ইউরোপ প্রবাসী স্বামীকে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। 

উপায় না দেখে ভুক্তভোগী নারী কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ১৪৪০) করেন। সেই জিডির তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা পায় ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। পরে তারা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে থানাপুলিশকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেয়। কিন্তু থানাপুলিশ বাড়ি মালিক তথা ‘ব্ল্যাকমেইল’ চক্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগকে আর তেমন আমলে নিচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই অপরাধী চক্রকে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল আউয়াল। কেননা, সিটিটিসির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ভুক্তভোগী জড়িতদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করতে গেলেও এসআই আউয়াল তাদের নাম ছাড়াই অভিযোগ দিতে চাপ দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেও তার আগেই এসআই আউয়াল বিষয়টি নিয়ে ওসির কাছে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেন। যদিও সেই ওসি অতি সম্প্রতি বদলি হয়েছেন অন্য থানায়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কদমতলী থানার এসআই আবদুল আউয়াল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আসামিদের নাম তো তদন্ত করলে এমনি চলে আসত। তাই নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে মামলা করতে ভুক্তভোগীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কোনো চাপ বা আসামিপক্ষের সঙ্গে আমার সখ্যের বিষয় নেই। তাছাড়া আমি আসামিদের বাড়িও চিনি না, কোনো দিন কথাও হয়নি।’ 

থানা সূত্রে জানা যায়, ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার ওই নারী কদমতলী থানায় গত ১৯ অক্টোবর একটি জিডি করেন। তদন্তে সহায়তার জন্য ২৩ অক্টোবর ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের কাছে আবেদন করেন জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল আউয়াল। ভুক্তভোগীর ফোন পরীক্ষা, নম্বর অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত তদন্তে সিটিটিসি অভিযোগের সত্যতা পায়। জিডির অজ্ঞাত তিন নম্বরের ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্ত করে সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। 

অনুসন্ধানে উঠে আসে জিডিতে থাকা অভিযুক্ত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরের একটি তানিয়া আক্তার নামে একজনের এবং অন্যটি তার শ্বশুর মৃত দুলাল মিয়ার নামে নিবন্ধিত। তাদের এই সিম এই অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর সিটিটিসি কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের ওই মোবাইল নম্বরে ফোন করেন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বললেই সতর্ক হয়ে যায় চক্রটি। পরে সিটিটিসির তদন্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন এসআই আবদুল আউয়াল। এরই মধ্যে ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরাও সবকিছু জেনে যান। সে অনুসারে ভুক্তভোগী নারী সুবিচার পাওয়ার আসায় থানায় গিয়ে একাধিকবার আসামিদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলেও টালবাহানা শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল আউয়াল। 

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে খবরের কাগজকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন থানায় পৌঁছালেও এসআই আবদুল আউয়াল তিন সপ্তাহ তা গোপন রাখেন এবং মামলা নিতে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। পরে থানার অন্য কর্মকর্তার মাধ্যমে নিশ্চিত হই, সিটিটিসির তদন্ত প্রতিবেদন থানায় পৌঁছেছে। তাকে ফোন করে প্রতিবেদন ‘রিসিভ করার’ বিষয়ে বললেও তিনি অস্বীকার করেন। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তা থানায় এসে আমার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেন। পরে চাপের মুখে তিনি প্রতিবেদন বের করলেও অভিযুক্তদের নাম বাদ দিয়ে মামলায় কেবল মোবাইল নম্বর ও অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করতে চান। এতে আপত্তি জানালে তিনি অপেশাদার আচরণ করেন। 

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, জিডির অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয় সিটিটিসি। ওই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়, ভুক্তভোগীর স্বজনদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো মানহানিকর ছবি ও ভিডিওর প্রমাণ মিলেছে। অবশ্য সেই তদন্ত প্রতিবেদনের একটি কপি খবরের কাগজের কাছেও সংরক্ষিত আছে।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ভুক্তভোগীর স্বামী ইউরোপ প্রবাসী। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কদমতলী থানার ধোলাইপাড়ের ধনিয়া এলাকার ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন ভুক্তভোগী নারী। ঘটনা সম্পর্কে তারা জানান, চলতি বছরের জুনের শুরুতে বাড়ির মালিক জাহানারা বেগম ভুক্তভোগীর ফ্ল্যাটের বাথরুম সংস্কার করার কথা জানান। এ কারণে ভুক্তভোগী পাশের এলাকায় তার বোনোর বাসায় চলে যান। জুলাইতে কাজ শেষ হলে তাকে আবার ফ্ল্যাটে উঠতে বলা হয়। কিন্তু ফ্ল্যাটের ‘সংস্কার’ করা বাথরুমে কয়েক দিন পানি ব্যবহার করা যাবে না বলে জানান বাড়িওয়ালা। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে বাড়িওয়ালা তার নিজের ফ্ল্যাটের বাথরুম ব্যবহার করার কথা বলেন। সেই সময়েই টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগী নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করেন বাড়িওয়ালা পরিবারের সদস্যরা। এরপর বাড়িওয়ালা পরিবারের আচরণ পাল্টে যেতে থাকে। একপর্যায়ে গত সেপ্টেম্বরে ভুক্তভোগী নারী বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলে তখনই শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলিং। ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়; অর্থ না দিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ওই ভিডিও দেখে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, ভিডিওটি বাড়িওয়ালার বাসার বাথরুমে। এভাবে পরে ভুক্তভোগীর স্বামীসহ আরও একাধিক স্বজনের কাছে ভিডিও-ছবি পাঠিয়ে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন অভিযুক্তরা।

এ বিষয়ে জানতে ওই বাড়িওয়ালা পরিবারের একটি নম্বরে ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ বছর বয়সি এক মা।

রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অমিত নামের এক সুইপার ভুক্তভোগীকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর একই ভবনের ৬ষ্ঠ তলার সিঁড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই সময় অপর দুই আসামি গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গন (২৩)।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী খবরের কাগজকে জানান, গত ৫ জুন রাতে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি রিকশাচালক হওয়ায় স্ত্রীকে মেয়ের দেখাশোনার জন্য হাসপাতালে রেখে রিকশা চালাতে যেতেন। মাঝেমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিতেন।

তিনি আরও জানান, গতকাল ৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন, তার স্ত্রী ও মেয়ে নির্ধারিত বেডে নেই। স্ত্রীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় তিনি তাদের খোঁজ করে জানতে পারেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্ত্রী ও মেয়েকে নার্সদের কক্ষে রেখেছেন। সেখানে গেলে স্ত্রীর কাছে ঘটনা জানতে পারেন।

ওসি মনসুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানান, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কামাল মৃধা/থিও/

নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা,  গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক
নাটোরে নারীকণ্ঠে ফাঁদ পেতে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেল রানা, মোতাকাব্বির ও টুটুল প্রামাণিকের সাথে লালপুর থানা পুলিশ। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীকণ্ঠে কথা বলে এমন তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে তাদের আটক আটক করার পর রাতে মামলা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন ওই উপজেলার মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকার সোহেল রানা ওরফে রানা সরদার (২৪), মোতাকাব্বির (২০) এবং টুটুল প্রামানিক (৫০)।

ওই প্রতারকরা দীর্ঘদিন থেকেই ফোনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ছেলেদের সঙ্গে নারীকন্ঠে কথা বলে সম্পর্ক করেন। এরপর আরেকটি ফোনে নানা ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে তাদের আকৃষ্ট করতেন। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংয়ের পর তাদের ও স্বজনদের ফোনে ওই তথ্য পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
 
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার বিকালে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের নাাটোর আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
কামাল মৃধা/আজহার/

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন
অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম। ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের হাতে খুন হয়েছেন মা রিজিয়া বেগম (৯৮)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্যধুসুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিজিয়া বেগম (৯৮) মধ্যধুসুরিয়া গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম (৬০) নিহতের মেয়ে এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার মৃত মালেকের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বটি দিয়ে রোকেয়া বেগম তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি তার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেলকে ডেকে জানান, তার দাদি মারা গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রিজিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান।

স্থানীয়রা খবরের কাগজকে জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই রোকেয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন।

নিহতের নাতি রাসেল খবরের কাগজকে জানান, তার ফুপু নিজেই তাদের ডেকে বলেন যে তিনি তার দাদীকে আঘাত করেছেন এবং পুলিশ ডাকতে বলেন।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন খবরের কাগজকে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

আসাদ জামান/থিও

আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
লিয়াকত আলী লাদেন। ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামের এক মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিয়াকত আলী লাদেন বালাটারী গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া গ্রামের রাব্বির সঙ্গে সামান্য বিষয় নিয়ে লাদেনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাব্বি তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে লাদেন ক্ষুব্ধ হয়ে রাব্বিকে চড় দেন। এতে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক মীমাংসা করে দেন।

তবে ওই ঘটনার জের ধরে রাতে লাদেনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক খবরের কাগজকে বলেন, 'পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে'।

এমআই বকুল/থিও

বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১
লিয়াকত আলী। ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়ার ওমান প্রবাসী ওমর ফারুক (৩৫) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

রবিবার (৭ জুন) রাতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেফতার লিয়াকত আলী ও নিহত ওমর ফারুক একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের অরিহুরার চরে একটি লিচু বাগান থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় মরদেহের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীর প্রায় অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।

পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় মরদেহটি নিখোঁজ ওমান প্রবাসী ওমর ফারুকের বলে শনাক্ত করা হয়।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে অভিযুক্ত। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো চক্র বা ব্যক্তি জড়িত আছে কি-না, তা  খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রবাসী ফারুককে কেন এবং কী কারণে এত নিখুঁত পরিকল্পনায় পাহাড়ের নির্জন লিচু বাগানে নিয়ে হত্যা করা হলো, তা জানতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

নিহতের পরিবার আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

তৈয়্যবুল ইসলাম/তামান্না রুপা/