চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গুলি করে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার কাউসারুজ্জামান বাবলু নামে আরেক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসেরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাছির উদ্দীন একই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি কোনো পদে না থাকলেও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছির উদ্দীনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসাইন খবরের কাগজকে জানান, নাছির উদ্দীনের তলপেট ও পায়ে একাধিক গুলি লেগেছে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, পাহাড় ও কৃষিজমি কেটে মাটির ব্যবসা এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
বর্তমান একটি আতঙ্কের জনপদের নাম রাউজান। গুলি করে হত্যা যেন এক ধরনের স্টাইলে পরিণত হচ্ছে।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ঢালার মুখ সংলগ্ন আবুল নঈম সওদাগর বাড়ির সামনে কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত বাবলু ওই এলাকার আবুল কালাম সওদাগরের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন এবং পাশাপাশি বালু ও ইট সরবরাহের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আরও পড়ুন>> রাউজানে প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে হত্যা
চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামের এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এর আগে ৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলমকে (৪৮) মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই দুই হত্যাকাণ্ডে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক হানাহানি ও বিভিন্ন বিরোধে ২২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধ থেকে। এ সময়ের মধ্যে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নাছির। তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে আমরা তিনটি গুলির খোসা জব্দ করেছি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিদারুল আলম/অমিয়