কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, বাংলাদেশি এনআইডি ও ব্যাংক চেকবই জব্দ করেছে ১৪ এপিবিএন সদস্যরা। এ সময় উখিয়া লাম্বাশিয়া ক্যাম্প-১ ইস্টের ডি-৫ ব্লকের বাসিন্দা মো. তোহা নামে এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১১ টায় উখিয়া লাম্বাশিয়া তার শেল্টারে তল্লাশি করে এসব বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ১৪ এপিবিএন-এর অধিনায়ক (এডিশনাল ডিআইজি) সিরাজ আমিন।
তিনি জানান, এপিবিএন হেডকোয়ার্টার থেকে প্রাপ্ত গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের উখিয়া লাম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-১ ইস্টের ডি-৫ ব্লকের বাসিন্দা মো. তোহাকে আটক করা হয়। ১৪ এপিবিএন অধিনায়কের নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যরা তাকে কক্সবাজার লিংক রোড এলাকায় পূরবী বাস থেকে নামার পর টেকনাফগামী সি-লাইন বাসে ওঠার সময় যাচাই করে আটক করেন। পরে তাকে উখিয়া লাম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয় এবং হেড মাঝির উপস্থিতিতে তার শেল্টার তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কাছে ৫৩ হাজার টাকা, ৩ হাজার ২৫০ সৌদি রিয়াল, ৩ হাজার ৩০০ মালয়েশিয়ান রিংগিত এবং ৬০০ মার্কিন ডলার পাওয়া যায়।
এ ছাড়া তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জাতীয় সনদপত্র, মেয়ে আনাস তোহার জন্মসনদ, আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংকের একটি চেক বই, একটি Vivo Y17s মোবাইল ফোন এবং দুটি রেজিস্টার্ড সিম পাওয়া গেছে এবং তার অনলাইন জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও পাওয়া যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণা ও কৌশলের মাধ্যমে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার মাস্টারপাড়া, পদুয়া এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে একটি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন এবং নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন স্থানে পরিচয় দিতেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, তিনি ক্যাম্প এলাকায় মানি লন্ডারিং কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর অর্থায়ন এবং ভুয়া পাসপোর্ট তৈরির একটি চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ তোহা পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে ডলার, রিংগিত ও রিয়ালসহ বৈদেশিক মুদ্রা নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন।
এপিবিএন অধিনায়ক বলেন, উখিয়া থানায় মামলা নং-৪৬, তারিখ ১৫ মে ২০২৬ অনুযায়ী The Special Powers Act, 1974 এর 25B(a)/25D ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪১৯/৪২০/৪৬৮/৪৭১ ধারায় তার নামে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্প এলাকায় অপরাধী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শাহীন/নাঈম