ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি ১৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল জন ম্যাকগিনের অজিদের আজ ধবলধোলাই করার লগন হাতি বনাম লা ত্রির লড়াই বিশ্বাসের সমুদ্রে ফন ডাইকের তরি ১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা
Nagad desktop

স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫৯ পিএম
স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

স্টার্টআপ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্টার্টআপ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ১০ হাজার ইউএস ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে একটি মাত্র কোম্পানি গঠনের জন্য পাঠাতে পারবে। এ অনুমতি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর অধীনে দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ব্যাংকে আবেদন করে বিদেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার জন্য রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিপর্যায়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের একই পদ্ধতিতে বিদেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের উদ্ভাবনী ধারণা থাকতে হবে, যা বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণসহ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও আয় নিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি করবে। ছোট আকারের বিনিয়োগের পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংক স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে তাদের নিজস্ব শেয়ার বা সিকিউরিটিজের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির শেয়ার সোয়াপের মাধ্যমে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে। এ পদ্ধতিতে বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নগদ অর্থের প্রয়োজন হবে না। এ পদ্ধতিতে বিদেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব বিবেচনার ক্ষেত্রে শেয়ার বা সিকিউরিটিজের সোয়াপ অনুপাত বিশ্বব্যাপী উত্তম চর্চার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মূলধনি হিসাবের হিসাব লেনদেন উন্মুক্ত করার প্রথম পদক্ষেপ।’ 

ব্যবসায়িক সূত্র অনুযায়ী, নতুন বিধি ব্যবস্থা বিদেশে স্থাপিত কোম্পানির মাধ্যমে দেশে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা বিদেশে বিনিয়োগ বাবদ পাঠানো অর্থের তুলনায় বেশি হবে। 

বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই
এফবিসিসিআই

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়। এ বিশাল রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালঞ্জে বলে মন্তব্য করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

শনিবার (১৩ জুন) বাজেট পর্যবেক্ষণে সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এফবিসিসিআই জানায়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করায় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসার পরিবেশ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে এই লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতের লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালঞ্জে। কারণ বর্তমানে দেশের সামস্টিক অর্থনীতির সূচকসহ রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী বিরাজমান কঠিন পরিস্থিতির কারণে ভীষণ চাপের মুখে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি-ব্যবসা-বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংস্কার জরুরি।

এফবিসিসিআই আরও জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা নিতে হবে এবং বৈদেশিক উৎস হতে নিতে হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে স্থানীয় ব্যাংকব্যবস্থার পরিবর্তে যথাসম্ভব সুলভ সুদে ও সতর্কতার সঙ্গে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের জন্য নজর দেওয়া যেতে পারে।

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তদারকির মান ক্রমাগতভাবে উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা দরকার। অভ্যন্তরীণ সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সুদ বাবদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই সুদের অর্থ পরিশোধের জন্য অর্থ সংস্থান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট বাস্তবায়নে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণের উচ্চহার, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে এফবিসিসিআই মনে করে।

রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ
ছবি: খবরের কাগজ

গ্রীষ্মের দুপুর। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার একটি লিচুবাগানে দাঁড়ালে মনে হবে যেন লাল রঙের উৎসব নেমেছে। গাছভর্তি পাকা লিচুর থোকা, ব্যস্ত শ্রমিক, দরদাম করছেন পাইকাররা। কয়েক শ কিলোমিটার দূরে পাবনার ঈশ্বরদীর আওতাপাড়া হাটে তখন ভোর থেকেই চলছে লিচুর বেচাকেনা। আবার পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির বাগানেও ঝুলছে চায়না-৩ জাতের রসালো লিচু। আর আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীতে সেই খ্যাতি ম্লান করতে যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে বোম্বে জাতের লিচু। কিন্তু এসবের আড়ালে লুকিয়ে আছে চাষিদের হতাশা। মৌসুমের শুরুতে মুকুলে ভরে থাকা বাগানগুলো নিয়ে চাষিরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বৈরী আবহাওয়ায় মুকুল ঝরে ও প্রচণ্ড রোদে পাকা লিচুর চামড়া পুড়ে কালচে হয়ে যাওয়ায় তা ম্লান হয়ে গেছে। এতে দেশের প্রধান লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে এবার চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিনাজপুরের অনেক এলাকায় এবার ফলন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অন্যদিকে পাবনায় ফলন ভালো হলেও শেষ সময়ে তীব্র রোদে বিপুল পরিমাণ লিচুর গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। আবার পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বানর-বাদুড়ের উপদ্রবে অপরিপক্ব লিচু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে লোকসান গুনছেন চাষিরা। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর সারা দেশে লিচুর উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৭২৯ টন। এর মধ্যে লিচু উৎপাদনে একক জেলা হিসেবে শীর্ষে দিনাজপুর। এ জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট উৎপাদন ছিল ৩৯ হাজার ৫৯৩ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাবনায় উৎপাদন ছিল ৩৫ হাজার টন। তৃতীয় স্থানে আছে রাঙামাটি। এ জেলায় বছরে ১৭ হাজার টন লিচু উৎপাদিত হয়। এ ছাড়া গাজীপুর ও খাগড়াছড়িতে ১১ হাজার টন উৎপাদিত হয়। 

ফলে বাংলাদেশে লিচু শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়; এটি কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। কেননা, এই ফলকে ঘিরে কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, আড়তদার, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ীসহ লাখো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। কিন্তু জলবায়ুর ক্রমবর্ধমান বৈরী প্রভাব সেই অর্থনীতিকেই এখন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দিনাজপুরে মুকুল ছিল, ফল হলো না

দিনাজপুরের সদর, বিরল, বীরগঞ্জ, কাহারোল ও চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন বাগান ও বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। এতে বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন সবাই। কিন্তু হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি এবং পরবর্তী সময়ে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ মুকুল ঝরে যায়।

বিরল উপজেলার বাগানের মালিক শিশির শাহ বলেন, ‘মুকুল দেখে মনে হয়েছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলন হবে। কিন্তু তীব্র দাবদাহ আর ঝড়ে সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে। অনেক গাছে অর্ধেকেরও কম ফল পাওয়া গেছে।’

পাবনায় পুড়ে গেছে পাকা লিচু

পাবনার ঈশ্বরদীতে চিত্র আরও উদ্বেগজনক। দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচু বাজার জয়নগর হাটে এখন ভালো মানের লিচুর পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে প্রচুর কালচে ও বিবর্ণ লিচু। স্থানীয়ভাবে একে বলা হচ্ছে ‘পোড়া লিচু’।

তীব্র রোদ ও খরার কারণে লিচুর খোসা পুড়ে গেছে। এতে ফলের স্বাদ খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও বাজারমূল্য অর্ধেকেরও বেশি নিচে নেমে যাচ্ছে।
স্থানীয় চাষি নাজমুল হোসেন বলেন, ‘এবার ফলন ভালো ছিল। কিন্তু শেষ সময়ে রোদে লিচুর চামড়া পুড়ে গেছে। যে লিচু ২ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেটি এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

জয়নগর হাটের আড়তদার আলমগীর হোসেন জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে লিচুর গায়ে কালো দাগ পড়ছে। এতে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং বাজারদর দ্রুত কমে যাচ্ছে।

এ ছাড়া রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাতেই বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

পাহাড়ে বানর-বাদুড়ের উপদ্রবে অপরিপক্ব লিচু বিক্রি

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় এবার পাহাড়ি লিচুর বাম্পার ফলন হলেও চাষিদের বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে বানর ও বাদুড়ের উপদ্রব। বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক বাগানের মালিক লিচু পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাইকারদের কাছে বাগান বিক্রি করে দিচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন লিচুবাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা লিচু। তবে ফল পাকতে শুরু করলেই দিনে বানর এবং রাতে বাদুড়ের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাগান। ফলে অনেক চাষি দিন-রাত পাহারা দিয়েও ফসল রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, লাভ কমছে

লিচু চাষে গত কয়েক বছরে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও বাগান পরিচর্যার খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। অথচ আবহাওয়াজনিত ক্ষতির কারণে উৎপাদন কমে গেলে সেই ব্যয়ও আর উঠে আসছে না।

পাবনার চাষি আমছের আলী বলেন, ‘লিচু পুড়ে গেলে বাজারে কেউ দাম দিতে চায় না। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয় কমে যাচ্ছে। এভাবে চললে অনেকেই ভবিষ্যতে লিচু চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।’

ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন

ফলন কমে গেলে শুধু কৃষক নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরাও। ঢাকার পাইকার ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, ‘চাহিদা আছে, কিন্তু অনেক জায়গা থেকে আগের মতো ভালো মানের লিচু পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।’

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই অতিরিক্ত তাপ ফলের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রপ্তানির সুযোগ, কিন্তু অবকাঠামোর ঘাটতি

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের লিচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু কোল্ড চেইন ব্যবস্থা, আধুনিক সংরক্ষণাগার এবং আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিংয়ের অভাবে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
দিনাজপুরের ব্যবসায়ী মো. বিপুল বলেন, ‘লিচু খুব দ্রুত নষ্ট হয়। তাই পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে রপ্তানি বাড়ানো কঠিন।’

অনিশ্চয়তায় ‘লাল সোনা’

গ্রীষ্মের কয়েক সপ্তাহের জন্য বাজারে আসে লিচু। কিন্তু এই স্বল্প সময়েই দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে পাহাড় পর্যন্ত জেগে ওঠে বিশাল এক অর্থনীতি। হাজারও কৃষকের স্বপ্ন, লাখো শ্রমিকের আয় এবং কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই ফল।

কিন্তু প্রকৃতির বৈরী আচরণ সেই স্বপ্নকে বারবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দিনাজপুরের ঝরে পড়া মুকুল, পাবনার রোদে পোড়া লিচু কিংবা বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত বাগান যেন একই বার্তা দিচ্ছে–জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতায় দেশের লিচু অর্থনীতি এখন বড় এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

ফলে সংশ্লিষ্টদের দাবি, লিচু খাতকে টেকসই করতে হলে শুধু উৎপাদন নয়, সংরক্ষণ ও বিপণনব্যবস্থারও উন্নয়ন প্রয়োজন। দেশের প্রধান লিচু উৎপাদন অঞ্চলগুলোতে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, কৃষি বিমা, জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া তাপপ্রবাহ ও খরার সময়ে বাগান রক্ষায় আধুনিক সেচব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনারও প্রয়োজন রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক (বাজার সংযোগ, গবেষণা, রপ্তানি উন্নয়ন এবং কৃষি ব্যবসা শাখা) মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিচু উৎপাদন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তেমন ক্ষতির মুখে পড়েননি। তবুও লিচু খাতকে টেকসই করতে আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা, কোল্ড চেইন অবকাঠামো, উন্নত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এতে ভবিষ্যতে ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

এদিকে সম্প্রতি ঈশ্বরদীতে লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, তীব্র গরম ও কীটনাশকের কার্যকারিতাসংক্রান্ত সমস্যার কারণে এবার অনেক লিচু নষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি এড়াতে গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীর লিচুচাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের বিষয়ে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে লিচু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ আরও সহজ হয়।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
ছবি: সংগৃহীত

টানা চার দফা কমানোর পর দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা।

আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

এর আগে, সবশেষ গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

আমান/

মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব রাখেন। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে তা এই লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও নেই। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

এ বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাতে জনজীবনে একটু স্বস্তি ফিরে আসে।

নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ
ছবি: খবরের কাগজ

পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে মূলধন সংগ্রহ সহজীকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। শিল্প, অবকাঠামো, নগর উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসা শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করলে আর্থিক খাতের ওপর চাপ বাড়ে। তাই পুঁজিবাজারকে গভীর, বহুমাত্রিক, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক করে উৎপাদনশীল খাত ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা হবে। ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলো কেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হয় না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত ব্যয়, একই ধরনের কাগজপত্র বারবার দাখিল এবং অনুমোদন ও পরিপালনসংক্রান্ত অস্পষ্টতা ধাপে ধাপে কমানো হবে। বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা অক্ষুণ্ন রেখে তালিকাভুক্তির মানদণ্ড আরও স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত এবং প্রবৃদ্ধিশীল কোম্পানির জন্য সহায়ক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ, সময়াবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আবেদন, আনুষঙ্গিক দলিল, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন ও অনুমোদনের ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ইস্যুকারী কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হবে। যোগ্য ও পরিপক্ব কোম্পানির জন্য সরাসরি অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হবে।

পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। নতুন এএমসি গড়ে তোলা, পেশাদার ফান্ড ম্যানেজমেন্ট জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তরের সুযোগ বাড়িয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের আকার ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

ঘোষিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে মিউনিসিপ্যাল বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বন্ড, সুকুক, অবকাঠামো ফান্ডের ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক কাঁচামালের পরিসর বাড়াতে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যমান লাইসেন্স কার্যকর করা, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

দেশীয় কোম্পানির জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে দুবার তালিকাভুক্তের সুযোগ এবং বাছাইকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অনাবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ সহজ করতে এনআইটিএ হিসাব খোলা ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য প্রকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা, শেয়ার মূল্যায়ন, ক্রেডিট রেটিং, আইপিও ব্যবস্থাপনা ও রিসার্চ রিপোর্টের মান উন্নত করা হবে। অডিটর, ভ্যালুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, মার্চেন্ট ব্যাংকার, ব্রোকার ডিলার এবং অন্যান্য বাজার-মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা হবে।

লেনদেনের পর শেয়ার ও অর্থ হস্তান্তর দ্রুত নিরাপদ করতে সেটেলমেন্টের সময় ধাপে ধাপে কমানো হবে। বর্তমানে টি+২ ভিত্তিক নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু থাকলেও তা টি+১-এ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বাজার অবকাঠামো নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে ১+০ বা একই দিনে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্যব্যবস্থার সমন্বয় জোরদার করা হবে। পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত নিষ্পত্তি আদালত গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে, যার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আইনি ক্ষমতা থাকবে। এতে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়বে এবং বাজারে শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে।

এসব উদ্যোগ পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ, অবকাঠামো অর্থায়ন, সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে।