প্রবন্ধ রচনা
কম্পিউটার
ভূমিকা: সভ্যতার সূচনা থেকেই মানুষ আপন উদ্ভাবনী ক্ষমতার বলে নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবীকে ক্রমেই হাতের মুঠোয় এসেছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের উচ্চ প্রযুক্তি সংবলিত যে আবিষ্কারটি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে, সবাইকে বিস্ময়াভিভূত করেছে তা হলো কম্পিউটার। কম্পিউটার এমনই একটা যন্ত্র যা মানুষের কর্মময় জীবনে অনুগত ভৃত্যের মতো হুকুম তামিল করে। বর্তমান যুগ হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যুগ। ড. শমসের আলী বলেন, “Computer is an innovation in the realm of science, has vibraled our domain of life.”
কম্পিউটার কী: কম্পিউটার ইংরেজি শব্দ। লাতিন শব্দ ‘কম্পিউটেয়ার’ থেকে কম্পিউটার শব্দের উদ্ভব। এর আভিধানিক অর্থ হিসাব বা গণনাকারী যন্ত্র। মূলত এটি একটি হিসাবের যন্ত্র হিসেবে আবিষ্কৃত হয়েছিল। এখন এটি মানুষের মতো কাজ করে বেড়াচ্ছে, যা বিশ্ববাসীকে উন্নয়নের উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে। টাইপরাইটার, লাইন প্রিন্ট, কার্ড রিডার, কার্ড পাঞ্চিং, ম্যাগনেটিক, টেপ ট্রানজিস্টর, সার্কিট প্রভৃতি সর্বাধিক গণনামূলক ব্যবস্থাই হচ্ছে কম্পিউটার।
আবিষ্কার: কম্পিউটার একদিনে আবিষ্কার হয়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আজ আমরা একটি সর্বোত্তম কম্পিউটার যন্ত্র ব্যবহার করছি। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক মনে করা করা হয়। ১৯৪৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আইবিএম কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয় ইলেকট্রো মেকানিকাল কম্পিউটার। ১৯৪৬ সালে তৈরি হয় প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার। ১৯৭১ সালের পর থেকে কম্পিউটারের নবযুগের সূচনা হয়।
কাঠামো: কম্পিউটারের প্রধান দুটি দিক রয়েছে। যথা- ১। হার্ডওয়্যার, ২। সফটওয়্যার।
তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয় প্রবেশ মুখ, অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া প্রক্রিয়ার জন্য গাণিতিক অংশ, তথ্য সংরক্ষণের জন্য স্মৃতি তথা মেমোরি, নিয়ন্ত্রণ বর্তনী হলো যান্ত্রিক সরঞ্জাম বা হার্ডওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত। এ অংশ প্রোগ্রামের সাহায্যে কার্যকর ও কর্মক্ষম হয়ে উঠে। প্রোগ্রাম আবার দুই প্রকার। ব্যবহারিক প্রোগ্রাম আর পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম। ব্যবহারিক প্রোগ্রাম গাণিতিক সমস্যা সমাধান করে এবং পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম কম্পিউটারের অন্যান্য অংশের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং ব্যবহারিক প্রোগ্রামের কার্যক্ষমতাকে সক্রিয় রাখে।
কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য: কম্পিউটারে সংখ্যার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে হিসাবনিকাশ সমাধান করা যায়। ‘প্রোগ্রাম’ ও উপাত্ত’র মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়। কম্পিউটারে প্রথমে প্রোগ্রাম ও উপাত্তকে ‘ইনপুট’ অংশে দেওয়া হয়। এখানে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ রূপান্তরের পর সংরক্ষণের জন্য কম্পিউটার তা অভ্যন্তরীণ স্মৃতি অংশে পাঠায়। এখান থেকে সিপিইউ বা কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ কাম্য তথ্যের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অতঃপর নির্গমন মুখ অংশের মাধ্যমে ফলাফল পাওয়া যায়। দ্রুতগতি, ভ্রমশূন্যতা ও স্মৃতি এই তিনটি হচ্ছে কম্পিউটারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। একটি কম্পিউটার সেকেন্ডে দুই কোটি সাধারণ যোগ করতে পারে।
কম্পিউটারের প্রোগ্রাম: কম্পিউটারে বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য এর মেমোরিতে যে কার্য নির্দেশিকা সংরক্ষিত থাকে, তাকে কম্পিউটারের প্রোগ্রাম বলে। কম্পিউটারের এ কার্য নির্দেশের প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে দিতে যে ভাষার প্রয়োজন হয় তাকে কম্পিউটারের ভাষা বলে।
কম্পিউটারের গঠন বৈশিষ্ট্য: কম্পিউটার যখন প্রথম আবিষ্কার হয় তখনকার গঠন প্রণালি এবং বর্তমানের কম্পিউটারের মধ্যে অনেক পার্থক্য। বর্তমানে কম্পিউটার অনেক উন্নত, এটি পরিচালনা করা সহজ হয়েছে। তা ছাড়া আগে কম্পিউটারে শুধু ইংরেজি ভাষা ইনপুট করা ছিল। বর্তমানে কম্পিউটারে বাংলার প্রচলন হয়েছে।
কম্পিউটারের মূল গঠন বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ প্রত্যেক কম্পিউটারে রয়েছে- ১। ইনপুট, ২। স্টোরেজ, ৩। কন্ট্রোল, ৪। প্রসেসিং এবং ৫। আউটপুট।
কম্পিউটারের প্রকার: আধুনিক কম্পিউটার তিন প্রকার। যথা-
১। অ্যানালগ কম্পিউটার, ২। ডিজিটাল কম্পিউটার, ৩। হাইব্রিড কম্পিউটার।
অভ্যন্তরীণ গঠন, আকৃতি এবং কাজ সম্পাদনের গতি ইত্যাদির বিচারে কম্পিউটারকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- সুপার কম্পিউটার, মেইনফ্রেম কম্পিউটার, মিনি এবং মাইক্রো কম্পিউটার। এ ছাড়া অ্যাপেল ও আইবিএম নামে দুটি কম্পিউটার পাওয়া যায়।
কম্পিউটারের ক্রমোন্নতি: ‘ইনিয়াক’ নামক পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটারটি সর্বপ্রথম ১৯৪৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আবিষ্কৃত হয়। তখন এর মাধ্যমে সেকেন্ডে ৩০০টি গুণনের কাজ করা সম্ভব ছিল। আজকের কম্পিউটার ইনিয়াকের উন্নতির রূপ। প্রথম পর্যায়ে জেনারেশন কম্পিউটার, অতঃপর নতুন জেনারেশন কম্পিউটারের প্রচলন হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ৬৪০ আইবিএম, ইউনিভ্যাক-১ সিস্টেম, ৩৬০ আইসিএল-২৯০০, এডস্যক-৪৩০০ ব্যবহার করা হচ্ছে। তা ছাড়া সুপার কম্পিউটার ক্রে-১, ক্রে-২ এর ব্যবহারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
(বাকি অংশ আগামীকাল প্রকাশ করা হবে)
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর