প্রবন্ধ রচনা
(গত ২৯ মার্চ প্রকাশের পর)
কম্পিউটার
কম্পিউটারের বিকাশ: কম্পিউটার উদ্ভব ও বিকাশের পেছনে রয়েছে মানুষের শতাব্দীকালের উদ্ভাবনী শক্তি ও গবেষণা। মানুষের গণনা প্রচেষ্টা থেকে কম্পিউটারের উদ্ভাবন। সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গণনা কৌশলও পরিবর্তিত হয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দে চীনে প্রচলিত অ্যাবাস নামক যন্ত্রকে প্রথম অঙ্কভিত্তিক গণনাযন্ত্র বলা হতো। ইংরেজ কবি লর্ড বায়রনের মেয়ে অ্যাডা লাভলেস পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামের রচয়িতা। কম্পিউটার প্রোগ্রামের ভাষা ‘অ্যাজ’ তার নামেরই বাহক।
কম্পিউটার ও তার কার্যকারিতা: কম্পিউটার যেন যন্ত্রমস্তিষ্ক। কম্পিউটারে থাকে তিনটি সুস্পষ্ট অংশ। যেমন-১। সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট, ২। ইনপুট, ৩। আউটপুট।
সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট সমস্যা সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য নিয়ে কাজ করে। ইনপুট তথ্য সংবলিত নির্দেশ দেয় এবং ‘আউটপুট’ গণনা সংবলিত ফল প্রকাশ করে। কম্পিউটারের কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। কারণ কম্পিউটারের আছে অতি দ্রুত গণনা করার শক্তি এবং বহু তথ্যকে গুছিয়ে সংরক্ষণে রাখার ক্ষমতা।
কম্পিউটারের গুরুত্ব: বর্তমান যুগে কম্পিউটার একটি অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্র। আধুনিক সভ্যতায় কম্পিউটারের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। মহাশূন্যের কার্যাবলি থেকে শুরু করে ভূগর্ভস্থ খনির অন্ধকার কুঠুরির তথ্যও জোগান দেয় কম্পিউটার। এককথায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
আরো পড়ুন : কম্পিউটার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব
কম্পিউটারের ব্যবহার: কম্পিউটার এখন মানুষের অনেক কাজ করে দিতে পারে। যেমন- অনুবাদের কাজ। কম্পিউটার যে শুধু কবিতা বা সাহিত্যের সফল অনুবাদ করতে পারে তা নয়। একটি তথ্য বা খবর এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় সঠিকরূপে রূপান্তরিত করতে পারে। রাশিয়ার প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দৈনিক প্রাভদা’র গুরুত্বপূর্ণ সব খবর বোধগম্য ইংরেজিতে অনুবাদ করে আসছে কম্পিউটার। তাছাড়া মহাকাশ বিজয়ের কাজে কম্পিউটার বেশি ব্যবহার করা হয়। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি কম্পিউটারের বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি করেছে। এসব দেশের অনেক কারখানায় নানা কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়। রাশিয়ায় একটি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১৯৪০ সালে ২৯০ জন প্রকৌশলী ছিলেন। এখন সেখানে কাজ করেন মাত্র ছয়জন। বাকি সব কাজ করে কম্পিউটার। আবার যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কৃষি খামারে কম্পিউটারের প্রচলন আছে। কৃষকরা ঘরে বসে সুইচ টিপে ট্রাক্টর চালান, তাছাড়া কৃষিসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে কম্পিউটারের অনেক অবদান রয়েছে।
প্রয়োগ ও প্রভাব: মানব জীবনের সব ক্ষেত্রে কম্পিউটারের প্রয়োগ এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। নির্ভুলভাবে কাজ করা, তথ্য সংরক্ষণ, স্বয়ংক্রিয় ও দ্রুতগতি সম্পন্ন কর্মক্ষমতা কম্পিউটারকে বর্তমান যুগের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে। এসব কারণে কম্পিউটারের প্রয়োগ ক্ষেত্র সুবিস্তৃত। এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী প্রভাব। আমাদের কর্মজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাশকালীন জীবন, ভ্রমণ, বিনোদন, এক কথায় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কম্পিউটারের অবদান রয়েছে। যেমন-
চিকিৎসা বিজ্ঞানে কম্পিউটার: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। রোগীর নানা ধরনের জটিল রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা করা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ওষুধ নির্ধারণ, হাসপাতালের যাবতীয় হিসাব-নিকাশ করা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, চোখের ক্ষমতা নির্ণয়, রক্তের গ্রুপের তালিকা প্রণয়ন ইত্যাদি কাজে আজকাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
শিল্প ক্ষেত্রে কম্পিউটার: ১৯৫৯ সালে পারমাণবিক চুল্লিতে সর্বপ্রথম কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে পণ্যের মান উন্নয়ন, শিল্প ক্ষেত্রের উপাত্ত সংগ্রহ, স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ, রোবটের মাধ্যমে শ্রমিকের কাজ করা ইত্যাদি বহুমুখী কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার শিল্প ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটার: বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। শিক্ষার্থীদের গাণিতিক হিসাব ও সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন, কোর্স নির্দেশনা, প্রশাসনিক কাজ কম্পিউটারের সাহায্যে করা হচ্ছে। কম্পিউটারের দাম এখন সাধ্যের মধ্যে থাকায় শিক্ষার্থীরা এটি কিনে ব্যবহার করে লেখাপড়াকে আরও ত্বরান্বিত করাসহ শিক্ষাবিষয়ক গবেষণা করতে পারছে। এর ফলে শিক্ষার মানও বেড়ে যাচ্ছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে কম্পিউটার: মজুত নিয়ন্ত্রণ, এয়ার লাইনের টিকিট বুকিং, বেতনের হিসাব, ব্যাংকিং সিস্টেম, আয়-ব্যয় ও বাজেটের হিসাব, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ইত্যাদি সব কাজই কম্পিউটারের মাধ্যমে সমাধান করা যায়।
(বাকি অংশ পরের সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে)
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর