গল্প : অপরিচিতা
(গত ১১ অক্টোবর প্রকাশের পর)
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: কোনো কিছুর জন্যই অনুপমকে কোনো ভাবনা ভাবতে হয় না কেন?
উত্তর: মামা অনুপমের সংসারকে চারদিক থেকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে, কোনো কিছুর জন্যই তাকে আর ভাবতে হতো না।
অনুপমের বাবা বেঁচে নেই, মা বেঁচে আছেন। তবে মা থাকলেও তার মামা ছিলেন আসল অভিভাবক। তিনিই সংসারের ভার নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন, সংসারের সব ভাবনা তার। এ কারণেই কোনো কিছু নিয়ে আর অনুপমকে ভাবতে হয় না।
প্রশ্ন: ‘ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই’ কে এবং কেন এ কথা বলেছে?
উত্তর: কল্যাণীর বাবা সম্ভুনাথ বাবু অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে আলোচ্য কথাটি বলেছেন।
অনুপমের মামা বিয়েবাড়িতে স্যাকরা নিয়ে গিয়ে কনের বাবাকে বলেন যে, তিনি কনের গায়ের গহনাগুলোকে যাচাই করে নিতে চান। কনের বাবা নির্দ্বিধায় তা করতে দেন। যাচাই করা শেষ হলে সবাইকে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে তিনি যখন বরপক্ষকে চলে যেতে বলেন তখন অনুপমের মামা জানতে চান তিনি ঠাট্টা করছেন কি না। তার উত্তরে তিনি আলোচ্য কথাটি বলেছেন। মূলত তিনি এত নিচ মানসিকতার মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে চান না।
প্রশ্ন: ছেলেবেলায় পণ্ডিতমশায় অনুপমকে শিমুল ফুল বা মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করতেন কেন?
উত্তর: অপূর্ব দেহকান্তি কিন্তু মেধার কমতি লক্ষ করেই ছেলেবেলায় পণ্ডিতমশায় অনুপমকে শিমুল ফুল বা মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করতেন।
রক্ত রাঙ্গা শিমুল ফুল দেখতে খুবই সুন্দর, তবে তাতে কিন্তু কোনো গন্ধ নেই। মাকাল ফলও দেখতে লোভনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী অথচ খাদ্য হিসেবে তা একেবারেই অনুপযুক্ত। সমাজে এমন সুদর্শন মানুষ আছে যাদের দেখতে অনেক সুন্দর দেখায়, তবে তারা গুণহীন, আর সেসব ব্যক্তিকে বোঝাতেই ওপরের বাক্যে শিমুল ফুল বা মাকাল ফল কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে। অনুপম ছেলেবেলায় দেখতে সুদর্শন ছিলেন কিন্তু সেই অনুপাতে মেধার পরিচয় দিতে না পারায় পণ্ডিতমশায় তাকে শিমুল ফুল বা মাকাল ফল বলে অভিহিত করতেন।
আরো পড়ুন : অপরিচিতা গল্পের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র
প্রশ্ন: কন্যার পিতা মাত্রই স্বীকার করিবেন আমি সৎপাত্র, কেন?
উত্তর: অনুপম নিজেকে একজন ভলো মানুষ দাবি করে। এ প্রসঙ্গে অনুপমের নিজের প্রতি প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে ওপরের বাক্যে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে কেন্দ্রীয় নায়কের চরিত্রে ছিল অনুপম। সে ছিল তার মা ও মামার একান্ত অনুগত একজন। সাংসারিক কোনো বিষয়ে কথা বলার সাহস কখনো সে দেখাত না। তবে সে শিক্ষা জ্ঞান এবং চেহারার দিক থেকে ছিল যোগ্য পাত্র। তার বন্ধু হরিশ বিয়ের কথা বলতেই সে রাজি হয়ে যায়। আর নিজেকে পাত্র হিসেবে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে এবং বলে কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করিবেন আমি সৎপাত্র। মূলত এ কথার মাধ্যমে সে নিজেকে নিতান্তই একজন সৎ, যোগ্য এবং ভালো পাত্র বোঝাতে চেয়েছে।
প্রশ্ন: সমস্ত মন যে সেই অপরিচিতার পানে ছুটিয়া গিয়াছিল কেন?
উত্তর: অপরিচিতা গল্পের নায়ক অনুপমের মনটা ছুটে গিয়েছিল তার কল্পলোকের রাজকন্যা কল্যাণীর পানে।
অনুপম তার মা ও মামার একান্ত অনুগত একমাত্র আদরের ছেলে। তাদের মুখের ওপর কোনো কথা বলার সাহস বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা তার ছিল না। সংগত কারণেই আজ তার ভাগ্যে এ করুণ পরিণতি। মামার লোভী মানসিকতা আর শ্বশুরের অপমানবোধের কারণে তার বিয়েটা হতে গিয়েও হয়নি। কিন্তু অনুপমের মনটা আজও কিছু একটার অভাব বোধ করে এবং খুঁজতে থাকে চারদিকে। দিবা-রাত্রি সে তার প্রেয়সীর পানে ছুটে যেতে চায়। কিন্তু সে আজও অপরিচিতা, অচেনা।
প্রশ্ন: জায়গা আছে কথাটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: মায়ের সঙ্গে যাত্রাপথে গাড়িতে ওঠার সময় কল্যাণীর কণ্ঠে প্রথম অনুপম শুনতে পায় ‘জায়গা আছে’ কথাটি।
জায়গা আছে কথাটি অনুপমের কাছে চিরজীবনের গানের ধুয়া হয়ে রয়েছে। বিয়ে করতে পারেনি বলে অনুপমের কোনো কষ্ট নেই বরং সুযোগ হলে কল্যাণীর কাজ পর্যন্ত সে করে দেয়। আর মনে মনে ভাবে এই তো জায়গা সে পেয়েছে। যদিও তার পরিচয় শেষ হয়নি আজও সে অপরিচিতা। তবুও ভাগ্য ভালো যে অনুপম জায়গা পেয়েছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর