ভ্রমণকাহিনিমূলক রচনা : প্রবাস বন্ধু
(গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশের পর)
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘আস্ত উটের রোস্টটা হয়তো দিতে ভুলে গেছে’ কথাটি লেখক কেন ভেবেছেন?
উত্তর: আবদুর রহমানের একের পর খাবার পরিবেশন প্রসঙ্গে লেখক কথাটি ভেবেছেন।
আবদুর রহমান একজন লোকের খাবার আয়োজন করতে গিয়ে ছয়জনের পরিমাণ খাবারের আয়োজন করে। হরেক রকমের খাবারের আয়োজন করে সে। গামলা ভর্তি মাংসের কোরমা, বোম্বাই সাইজের গোটা আষ্টেক শামী কাবাব, কোফতা-পোলাওর ওপর আস্ত মুরগির রোস্ট, বাগেবালার বরফি আঙুর, কাবুলি সবুজ চা। খাবার শেষে লেখকের চা খাওয়া হলে আবদুর রহমান ১০ মিনিটের জন্য বেরিয়ে গেল। তখন লেখক শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে ভাবেন, আবার হয়তো কিছু একটা নিয়ে আসবে। মনে হয়, সে আস্ত উটের রোস্টটা হয়তো দিতে ভুলে গেছে।
প্রশ্ন: ‘তামাম আফগানিস্তান মশহুর’ কোন খাবার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা হয়েছে?
উত্তর: বাগেবালার বরফি আঙুর সম্পর্কে ওপরের মন্তব্যটি করা হয়েছে।
আবদুর রহমান লেখককে একের পর এক নানা পদের খাবার পরিবেশন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বাগেবালার বরফি আঙুর দিয়ে বললেন সেটা নাকি তামাম আফগানিস্তানে মশহুর। লেখক একটা আঙুর মুখে দেয়ামাত্র তার ব্রহ্মরন্ধ্র পর্যন্ত ঝিনঝিন করে উঠেছিল। তবু আবদুর রহমানকে খুশি করার জন্য তিনি গোটা আটেক আঙুর খেয়েছিলেন।
প্রশ্ন: আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি। লেখকের প্রতি আগা আবদুর রহমানের এ অনুযোগের কারণ কী?
উত্তর: আবদুর রহমানের চোখে লেখক পর্যাপ্ত খাবার খাননি— এ কারণেই তার এই অনুযোগ।
আবদুর রহমানের রান্নার দক্ষতা ও রসনাবোধ অতিমাত্রায় প্রবল। সে বিচিত্র সব সুস্বাদু পদ প্রচুর পরিমাণে রান্না করে লেখককে খেতে দেয়। ক্ষুধার্ত অবস্থায় লেখকও সেসব রান্না পেট পুরে, তৃপ্তি করে খান। কিন্তু আবদুর রহমানের মতো ভোজনরসিক ও বিশাল চেহারার মানুষ, পরিপূর্ণ ভোজন সত্ত্বেও লেখকের খাওয়াকে নিতান্ত সাধারণ ও কম ভেবে ‘আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি’ বলে অনুযোগ করেন।
প্রশ্ন: পানশির সম্পর্কে আবদুর রহমান লেখককে কেমন বর্ণনা দিল? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আবদুর রহমান লেখককে পানশিরের মানুষ ও পরিবেশের মনোজ্ঞ বর্ণনা দেন।
পানশির উত্তর আফগানিস্তানে অবস্থিত। আবদুর রহমানের নিজের জায়গা। আবদুর রহমানের ভাষায় সেখানে আস্ত একটা দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খেলেই আবার খিধে পায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে লম্বা একটা দম নিলেই তাজি ঘোড়ার সঙ্গে বাজি রেখে ছোটা যায়। পানশিরের মানুষ যেন পায়ে হাঁটে না, বাতাসে ভর করে উড়ে চলে। শীতকালে এত বরফ পড়ে যে পথঘাট, মাঠ, পাহাড়, নদী সব বরফে ঢাকা পড়ে যায়। তখন সব কাজ বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন: ‘পছন্দ না হয়, আবদুর রহমানের গর্দান তো রয়েছে।’ কথাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ওপরের উক্তিটির মাধ্যমে আবদুর রহমান যে এক কথার লোক বোঝানো হয়েছে।
আবদুর রহমানের কাছ থেকে টানা সাত দিন জানালার পাশে বসে বরফের পতন দেখার কথা শুনে লেখক অত্যন্ত বিস্মিত হন। তার কাছে বিষয়টি নিতান্তই অবাস্তব বলে মনে হয়। কিন্তু আবদুর রহমান নিজের কথায় অটল থাকে। আলোচ্য কথাটির মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়, সে বাজে কথা বলার লোক না। বরফ পড়ার সৌন্দর্যে লেখক অবশ্যই মুগ্ধ হবেন।
প্রশ্ন: ‘হ্যাঁ, আবদুর রহমান তোমার কথাই সই’ কথাটি লেখক কেন বলেছেন?
উত্তর: আবদুর রহমানের বর্ণনা মতে শীতকালীন পানশিরে কাটাবেন বলে লেখক ওপরের উক্তিটি করেছেন।
আবদুর রহমানের বর্ণনা, ‘পানশিরে শীতকালে সে কী বরফ পড়ে! বাইরে দেখবেন বরফ পড়ছে। আপনি জানালার ধারে বসেই আছেন, আর দেখছেন, চে তৌর বর্ফ ববারদ, কী রকম বরফ পড়ে। তখন লেখক বলেন, ‘হ্যাঁ, আবদুর রহমান তোমার কথাই সই। শীতকালটা আমি পানশিরেই কাটাব।’ কারণ ‘তুমি যদি সমস্ত শীতকালটা জানালার পাশে বসে কাটাও তবে আমার রান্না করবে কে?’
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর