সারমর্ম লিখন
১। ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা ......................... তৃণসম দহে।
সারমর্ম: ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ, কিন্তু তা যেন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়, যেন অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়। কারণ অন্যায়কারী এবং অন্যায় সমর্থনকারী উভয়েই সমান অপরাধী।
২। আসিতেছে শুভদিন ...................... আসে নব উত্থান।
সারমর্ম: মেহনতি মানুষের শ্রমে ও ত্যাগে গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। আত্মত্যাগের মহিমায় তারা দেবতুল্য মানুষ হলেও সমাজ জীবনে এরা বঞ্চিত ও অবহেলিত। কিন্তু পালাবদলের দিন এসেছে। একদিন শ্রমজীবী মানুষেরাই বিশ্বে নবজাগরণের সূচনা করবে।
৩। কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক .................... আমাদের কুঁড়ে ঘরে।
সারমর্ম: বিবেকসম্পন্ন মানুষ যখন রিপুর নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে তখন শুরু হয় নরক যন্ত্রণা। পক্ষান্তরে মানুষে মানুষে প্রীতি ও প্রেমের সৌহার্দ্য সৃষ্টি হলে স্বর্গীয় সুখ অনুভব করা যায়। ফলে স্বর্গ নরকের ধারণা মানব কর্মেই নিহিত।
৪। এসেছে নতুন শিশু, তাকে ................... আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সারমর্ম: মৃত্যু চিরন্তন সত্য। নতুন শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনোকে বিদায় নিতে হবে, এটাই নিয়ম। তবে প্রবীণরা যতদিন জীবিত আছেন তাদের অবশ্যই নবীনদের বসবাস-উপযোগী করে তোলার জন্য জঞ্জাল পরিষ্কার করার অঙ্গীকার করতে হবে।
আরো পড়ুন : ২টি সারাংশ লিখন নিয়ে আলোচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা ২য় পত্র
৫। একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে .......................... মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ?
সারমর্ম: মানুষ তার নিজের বর্তমান অবস্থাকে সহজে মেনে নিতে পারে না। তার কাছে নিজের কষ্টকেই অধিক মনে হয়। কিন্তু অন্যের বর্তমানকে নিজের বর্তমানের সঙ্গে সমগুরুত্ব দিয়ে দেখলে সহজেই তার উত্তর লাভ সম্ভব। যা নিজের দুঃখ-কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়।
৬। নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ........................ পূর্ণ হবে তাহার কৃপাভরে।
সারমর্ম: নিন্দুকের ধর্মই অন্যের কুৎসা রটানো। কিন্তু এতে সে ঘৃণিত হওয়ার মতো অপরাধী নয়। কেননা অন্তর্দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সে-ই আমাদের পরম বন্ধু। কারণ তার রটনার ভয়ে আমরা সর্বদাই দূষণীয় কাজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।
৭। হাস্য শুধু আমার সখা ! ........................... জানা তবেই কাঁদা ধন্য হয়।
সারমর্ম: শুধু সুখ দিয়েই জীবনের পরিপূর্ণতা আসে না। নিজের ও পরের দুঃখ, ব্যাধি, যন্ত্রণা ও অশ্রুজলের মধ্য দিয়ে জীবনকে উপলব্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পাশাপাশি মহৎ কাজে আনন্দ অশ্রু বিসর্জন দেওয়ার মাঝেও জীবনের অন্য রকম এক সুখ নিহিত।
৮। বসুমতি, কেন তুমি এতই কৃপণা?...........................তাতে একবারে ছাড়ে।
সারমর্ম: বিনা পরিশ্রমে ফসল উৎপাদনে পৃথিবীর গৌরব বাড়লেও মানুষের ক্ষমতা ম্লান হয়ে যায়। মনে রাখা উচিত, করুণার দান গ্রহণে গৌরব থাকে না। বরং পরিশ্রম ও কাজের মাধ্যমে কিছু অর্জনের মধ্যেই রয়েছে যথার্থ গৌরব।
৯। আসিতেছে শুভ দিন .......................পা ফেলে আসে নব-উত্থান।
সারমর্ম: আদিম সভ্যতা থেকে শুরু করে ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে আজকের আধুনিক সভ্যতার আবির্ভাব। যাদের প্রাণান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের এই আধুনিক সভ্যতা, তাদের কাছে আমরা ঋণী। আধুনিক সভ্যতাকে যথাযথভাবে রক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিশ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন করতে হবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর