মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’। ৯০ বছর আগে এই উপন্যাস লিখেছিলেন তিনি। এই উপন্যাস অবলম্বনে কলকাতায় নির্মিত হয়েছে সিনেমা। সিনেমার নামও রাখা হয়েছে ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’। সুমন মুখোপাধ্যায়ের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছবিতে কুসুমরূপে হাজির হয়েছেন দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান।
ছবিটি আজ ১ আগস্ট কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এমনটি জানিয়েছেন জয়া আহসান। এতে শশীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়। অতিথি একটি চরিত্রে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রতকে।
এত বছর আগে লেখা এই উপন্যাস এখনো কি প্রাসঙ্গিক? এ সম্পর্কে নির্মাতা দাবি করেছেন, এখনো এই ছবি সমসাময়িক। তবে চিত্রনাট্যে উপন্যাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু বিষয়ও। তবে মূল বিষয়গুলোর উপস্থিতি রয়েছে।
এর আগে নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
কুসুম চরিত্র নিয়ে জয়া বলেছিলেন, ‘কুসুম চরিত্রটি করার জন্য যেকোনো অভিনয়শিল্পী মুখিয়ে থাকেন। চরিত্রটি করা আমার জন্য আনন্দের ছিল। ছবিটি ২০২২ সালে ক্যালাইডোস্কোপ প্রযোজিত ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছিল। গত মে মাসে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে পিছিয়ে যায়।
অবশেষে আজ রুপালি পর্দায় ছবিতে কুসুমের চরিত্রটি সম্পর্কে সম্প্রতি জয়া বলেন, ‘বরাবর নারীকেই কামনা ও বাসনার বস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু কুসুমেরও নিজের কামনা বাসনা রয়েছে যা সে লুকোয় না। কুসুম একটা খোলা বইয়ের মতো। কুসুমের মন, শরীর ও আত্মা সব এক রকম। এখানেই শশীর সঙ্গে তার পার্থক্য। কুসুম কিন্তু শশীর চরিত্রকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে। সে এতটাই খোলা মনের, সতেজ একটি চরিত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুসুমের মধ্যে কোনো জড়তা নেই। আমাদের সবার মধ্যে একটা লক্ষণরেখা থাকে। এটা কুসুমের মধ্যে নেই বলেই সে এত আধুনিক। আমি নিজেও কুসুমের মতো হতে পারব না। এই গ্রামবাংলার বাউলদের কথাই যদি বলা যায়, তাদের দেহ, মন, আত্মা সব মিলেমিশে একাকার। যাহা ভাঙে, তাহাই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে।’
/এমএস


.jpg)