উপমহাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা সংগীত জীবনের ছয় দশক অর্থাৎ ৬০ বছর পূর্ণ করেছেন। তার বর্ণাঢ্য সংগীত জীবনের অসংখ্য প্রাপ্তির পাশাপাশি কোটি কোটি শ্রোতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন খ্যাতিমান এই শিল্পী। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পেরিয়ে শিল্পীদের অনুপ্রেরণার নাম তিনি।
নন্দিত এই শিল্পীর ক্যারিয়ারের ৬০ বছরের পূর্ণতাকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলতে স্যাটেলাইট চ্যানেল মাছরাঙা টিভি রুনা লায়লাকে নিয়ে ‘স্টার নাইট’-এর বিশেষ আয়োজন করেছে। গত ৮ অক্টোবর রুনা লায়লার পর্বটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়। আগামী ১৭ নভেম্বর রুনা লায়লার জন্মদিন। জন্মদিনের ঠিক এক মাস আগেই রুনা লায়লাকে নিয়ে বিশেষ এই পর্বটি প্রচার হতে যাচ্ছে ১৭ অক্টোবর রাত ৯টায় মাছরাঙা টিভিতে। ‘স্টার নাইট’-এর গ্রন্থনা করেছেন রুম্মান রশীদ খান। তিনি জানান, এই পর্বে রুনা লায়লাকে ৬০টি গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া, ৬০ সংখ্যাকে উপজীব্য করে কেক কাটা, ৬০টি প্রশ্ন করে বিশেষ আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ এই আয়োজনে দেশের এ সময়ের শিল্পীদের পাশাপাশি রুনা লায়লার পরিবার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক সংগীত ও চলচ্চিত্র তারকা রুনা লায়লার জন্য তাদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে আবেগাপ্লুত করেছেন জীবন্ত এই কিংবদন্তিকে। রুনা লায়লার শৈশব-কৈশোর ও সংগীত জীবনের অপ্রকাশিত ছবি এবং অজানা কিছু তথ্য জানা যাবে ‘স্টার নাইট’-এর এই পর্বে।
রুম্মান রশীদ খানের গ্রন্থনা, অজয় পোদ্দারের প্রযোজনায় ও নিয়াজ মোরশেদ রাজীবের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন মৌসুমী মৌ।
এই আয়োজনে উপস্থিত হওয়া প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আমি দেশের বাইরে ছিলাম। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই দেশে এসেছি। দেশে ফিরেই মাছরাঙার এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করা। আমার সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্তিতে বিশেষ এই আয়োজনের পরিকল্পনা আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। এর আগেও আমি মাছরাঙার অন্য আয়োজনে কথা বলেছি। তবে এবারের আয়োজনটি বেশি ভালো লেগেছে। আশা করছি দর্শকেরও ভালো লাগবে স্টার নাইট-এর এই পর্বটি।’
উল্লেখ্য, রুনা লায়লার জন্ম ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে। যখন তার বয়স আড়াই বছর, তখন তার বাবা রাজশাহী থেকে বদলি হয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে যান। সে সূত্রে তার শৈশব কাটে পাকিস্তানের লাহোরে। সংগীতশিল্পী মায়ের কাছে শিখেছেন সংগীতের প্রাথমিক ব্যাকরণ। এরপর করাচির সংগীতজ্ঞ আব্দুল কাদের পিয়ারাঙ্গ ও হাবীব উদ্দিন খানের কাছে তামিল নেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে গান শুরু করেন রুনা। এরপর মাত্র সাড়ে ১১ বছর বয়সে পাকিস্তানের ‘জুগনু’ ছবির মাধ্যমে প্লেব্যাকের খাতায় নাম লেখান তিনি। প্লেব্যাক করেন পাকিস্তানের অনেক ছবিতে। ১৯৭৪ সালে ‘এক ছে বারকার এক’ ছবির মধ্য দিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু হয় তার। একই বছরে স্বাধীন বাংলাদেশে সত্য সাহার সুরে ‘জীবন সাথী’ ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন ছবিতে একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিতে থাকেন রুনা। বাংলা, হিন্দি, উর্দু গানে নিজেকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে যান। ‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’ গানটি রুনা লায়লাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। বাংলা-হিন্দি-উর্দু ছাড়াও গুজরাটি, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, পশতু, বেলুচ, আরবি, পারসিয়ান, মালয়, নেপালি, জাপানি, ইতালীয়, স্প্যানিশ, ফরাসি ও ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষার গান তার কণ্ঠে প্রাণ পেয়েছে।
ক্যারিয়ারে নানা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পুরস্কার। এ ছাড়া ভারত থেকে পেয়েছেন সায়গল পুরস্কার। পাকিস্তান থেকে অর্জন করেছেন নিগার, ক্রিটিক্স, গ্র্যাজুয়েটস পুরস্কারসহ জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদক।
/আবরার জাহিন


.jpg)