রোজা বা সিয়াম হলো ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়। প্রতিবছর রোজা রাখতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে কিছু নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা সহজে রোজা রাখতে পারবেন।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ডায়াবেটিস রোগীদের নিরাপদে রোজা রাখার উপায় জানিয়েছে ক্লিনিক্যাল অ্যান্ডোক্রিনোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসিইডিবি)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৮০ জন ডায়াবেটিস রোগী রোজা রেখে থাকেন।এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা বিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখেন। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখেন তারা কিছু জটিলতার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে রক্তে সুগারের স্বল্পতা (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), রক্তে সুগারের আধিক্য (হাইপারগ্লাইসিমিয়া), ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস, পানি শূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনে ভোগেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসিইডিবির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ইসলাম ধর্ম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। নিয়ম মেনে সব ধরনের ইবাদত পালন করা যায়। কিছু নিয়ম মেনে সহজেই ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ডায়াবেটিস এমন কোন বাধা নয়। প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। ডায়াবেটিস রোগীরা রমজানের কমপক্ষে ২-৩ মাস আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রস্তুতি নেবেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রমজানের পূর্বে প্রস্তুতি নিয়ে যারা রোজা রাখেন তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়াসহ অন্যান্য জটিলতা রমজানের পূর্বের চেয়েও অনেক কম হয়। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সহজে এবং নিরাপদে রোজা রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। রোজা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।
রোজা মানুষকে সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশৃঙ্খল জীবন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অপরিহার্য। ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে আগে থেকে পরামর্শ করে সুগার কন্ট্রোল এর মাধ্যমে রোজা রাখলে আরো বেশি সুবিধা হবে। সুতরাং এ কথা বলা অত্যুক্তি হবেনা যে রোজা রাখার আকাঙ্ক্ষা ডায়াবেটিক রোগীর ডায়াবেটিস কন্ট্রোল এর ব্যাপারে আরো বেশি উদ্যোগী করবে।
অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা, এমনকি প্রয়োজন হলে ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া যেতে পারে। আলিমগণের কাছ থেকে আমরা জেনেছি এতে রোজার কোন ক্ষতি হয়না। সুতরাং এসব নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন। সন্দেহ থাকলে অভিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তার কিংবা হাক্কানী আলিমদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন।
রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে রোজার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাগুলো জেনে উত্তরণের উপায়গুলো শিক্ষা নিবেন। হাইপো বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া না হওয়ার জন্য খাদ্য, ব্যায়াম এবং ঔষুধের সমন্বয় করে নিবেন। দিনে রাতে সুগার পরিমাপ করে ঔষধ সমন্বয়ের ব্যাপারে রোগী ও রোগীর পরিবারে সকলে শিক্ষা গ্রহণ করবেন। প্রত্যেক রোগীর জন্য একই ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী আলাদা আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ৩ বারের ঔষধ ১ বা ২ বারে পরিবর্তন করে নিতে পারেন। রমজানের আগে থেকে দুপুরের ঔষুধ রাতে খাওয়া শুরু করতে পারেন। রমজানের আগে একাধিক নফল রোজা রেখে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিরাপদে ডায়াবেটিস রোগীর রোজা পালনের ব্যাপারে দীর্ঘদিন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্রোক্রাইন ডিপার্টমেন্ট সর্বস্তরে জনগণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে।
এসিইডিবি ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য রজব মাসকে ‘ডায়াবেটিস ও রমজান সচেতনতা মাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রতি বছরের মত এবারও এসিইডিবি দেশব্যাপী উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
রজব মাসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, ডায়াবেটিস রোগীদের প্রশিক্ষণ, মসজিদের খতিবদের সঙ্গে আলোচনা, বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রেস কনফারেন্স।
আরিফ সাওন/নাবিল/



