সিরিয়ার স্বৈরাচারী শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের এক মাস পূর্ণ হয়েছে ৮ জানুয়ারি। প্রায় ২৪ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে অবশেষে দেশটিতে আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটেছিল গত ৮ ডিসেম্বর ৮ তারিখ। সেদিনই পরিবারসহ রাশিয়ায় পালিয়ে যান আসাদ। অনেক সিরীয় ভাবেননি, এমন দিন কখনো তাদের জীবদ্দশায় ধরা দেবে।
সেই দিনটির এক মাস পূর্তি উদযাপন করতে গত বুধবার রাতে রাজধানী দামেস্কে একটি কনসার্টে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার সিরীয়। দামেস্ক থেকে আল-জাজিরার কূটনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক জেমস বেস জানিয়েছেন, মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার এক মাস উদযাপন করতে শহরের একটি খেলার মাঠে জড়ো হয়। তিনি বলেন, ‘আসাদের পতনের এক মাস পর এখানে মানুষের মধ্যে সত্যিই আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। এই স্টেডিয়ামের বাইরে আসাদের একটি বড় পোস্টার সাঁটানো হয়েছে, কিন্তু পোস্টারে শুধু তার চুল এবং কপাল দেখা যাচ্ছে। বাকি অংশ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, কারণ এক মাস আগে তার শাসনব্যবস্থাকেই ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল।’
বেস জানান, কনসার্ট থেকে অর্জিত অর্থ অভ্যন্তরীণ এনজিওগুলোর কাছে যাবে, যারা গৃহযুদ্ধের সময় এগিয়ে এসেছিল। যার মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হেলমেটস- একটি সিভিল ডিফেন্স ফোর্স, যারা আসাদের শাসনামলে সিরীয় এবং রুশ বাহিনীর বোমাবর্ষণের সময় মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করতে কাজ করেছিল।
দামেস্কের অনেক বাসিন্দা একটি নতুন দেশের আশায় ছিল। তাদের একজন নাদা দায়ে। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি আশা করি ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে। আসাদের শাসনামলে আমাদের জীবন বলতে কিছু ছিল না। আমরা তার এবং তার সেনাদের ভয়ে উৎকণ্ঠিত থাকতাম।’
বইয়ের দোকানের মালিক মামুন নাহলাভি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য পশ্চিমা শক্তিগুলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর অর্থনীতি উন্মুক্ত হওয়া উচিত। ‘নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় মানুষ আসাদের পতনের সুফল দেখতে পাবে না। আসাদের শাসনে মানুষকে অবমূল্যায়িত করা হয়েছিল’, বলেন তিনি। সূত্র: আল-জাজিরা