ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া সুইজারল্যান্ডের এক বন্দি কারাগারে আত্মহত্যা করেছেন। দেশটির সেমনান প্রদেশের একটি কারাগারে ওই বন্দি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের বিচার বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদের ওয়েবসাইট মিজন অনলাইনে সেমনান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ সাদেক আকবারিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তেহরান থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকা থেকে এই সুইস নাগরিককে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে তিনি অন্য একজন বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
আকবারির মতে, সুইস বন্দি কারাগারের বুফে থেকে তার নিজের জন্য কিছু খাবার আনতে কক্ষের অন্য ব্যক্তিকে বলেন। এ সময়ে যখন তিনি একা ছিলেন, তখন আত্মহত্যা করেন। আকবারিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জেলখানার কর্মকর্তারা তার প্রাণ বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। কিন্তু তাকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘এই লোকটি যেখানে আটক ছিলেন, সেখানকার সব প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রমাণ অনুযায়ী এটা পরিষ্কার যে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’ বন্দির পরিচিতি কিংবা কীভাবে তিনি মারা গেলেন, সে সম্পর্কে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ইরানের এলিট রেভল্যুশানারি গার্ডস প্রধানত গুপ্তচরবৃত্তি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্বৈত নাগরিকদের কিংবা বিদেশিদের গ্রেপ্তার করে থাকে। কূটনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য এ রকম গ্রেপ্তার করা হয় বলে অধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের সমালোচনা করেছে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের জেল থেকে ইতালির এক নাগরিক ছাড়া পাওয়ার এক দিন পর এ ঘটনা ঘটেছে।
সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এফডিএফএ) ই-মেইলের মাধ্যমে এই মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। এফডিএফএর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরানের সুইস দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তাদের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়। তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকে সুইজারল্যান্ডই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স