ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক লালমনিরহাটে ৩ সীমান্ত পয়েন্টে পুশইন ব্যর্থ, লোকজন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন চন্দনাইশে দ্রুতগামী অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা নওগাঁ সীমান্তে ১৭ ব্যক্তিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ গাইবান্ধায় দুই ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাইজদীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে পুলিশে দিল ছাত্রদল রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে
Nagad desktop

প্যারিসে এআই সম্মেলন: প্রযুক্তি ও বিশ্বনেতাদের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:০১ পিএম
প্যারিসে এআই সম্মেলন: প্রযুক্তি ও বিশ্বনেতাদের চ্যালেঞ্জ
প্যারিসে এআই সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ও প্রযুক্তি খাতের নেতারা প্যারিসে একটি উচ্চপর্যায়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে একত্রিত হয়েছেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ব্যবসা ও সমাজে এআইয়ের প্রভাব এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয় এই সম্মেলন। প্যারিস থেকে এক প্রতিবেদনে এএফপি এই তথ্য জানায়। 

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহ-আয়োজনে এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো বিকাশমান এআই খাতের জন্য একটি প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করা।

ফ্রান্সের রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড প্যালেসে আয়োজিত এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ঝাং গোছিং, ওপেনএআইর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দার পিচাইসহ প্রায় এক হাজার ৫০০ অতিথি অংশগ্রহণ করেছেন।

এআই প্রযুক্তি ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেও এটি উচ্চমাত্রার শক্তি ও সম্পদ ব্যবহার করে। ম্যাক্রোঁর এআই দূত অ্যান বুভেরো উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘এআইয়ের বর্তমান প্রবণতা টেকসই নয়, তবে এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।’ 

গত রবিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এআই গবেষণা ও অবকাঠামোতে ১০৯ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্টারগেট’ প্রকল্পের ফরাসি সমতুল্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি চীনের স্টার্টআপ ‘ডিপসিক’ কম খরচে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই মডেল তৈরি করে সিলিকন ভ্যালিকে চমকে দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘স্টারগেট’ প্রকল্পের আওতায় বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

এদিকে বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের সিলভান ডুরানটন বলেন, ‘ইউরোপকে অবশ্যই এআই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে হবে।’ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লায়েন এই সম্মেলনে গবেষক ও স্টার্টআপদের জন্য ১০টি সুপার কম্পিউটার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারেন।

সম্মেলনের আগের দিন কিছু দেশ, প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য সংস্থা মিলে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ‘কারেন্ট এআই’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা এআই গবেষকদের ডাটা অ্যাক্সেস প্রদান, ওপেন-সোর্স টুল সরবরাহ এবং এআইয়ের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব পরিমাপে কাজ করবে।

‘অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির ক্ষতি আমরা দেখেছি, কিন্তু জনস্বার্থে এটি ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে,’ বলেন কারেন্ট এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন তিসনে।

আজ মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সম্মেলনের শেষ দিনে বিশ্বের ১০০টি দেশের রাজনৈতিক নেতারা একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশ নেবেন, যেখানে এআইয়ের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহারের জন্য ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

তবে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নীতির কারণে একটি সর্বসম্মত চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। সূত্র: এএফপি

বাসস/তাওফিক/ 

কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি মার্কিন ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝআকাশেই ভূপাতিত করে। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই বিকল হয়ে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা সদস্যের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বাহিনী আরও জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের দাবি সত্য নয়।

এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শনিবার ভোরে বাহরাইনজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর আগে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়।

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে করে তুলতে পারে আরও জটিল। সূত্র: বাসস

আমান/

অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশিসহ ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৫ জুন) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের ১০টি পৃথক চেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে।

এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন, ভারত একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার জাতীয়তার সত্যতা নিশ্চিত হতে হয়। তিনি বলেন, ‘এসব মানুষকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। আমরা যখন এই ধরনের মামলাগুলো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে পাঠাই, তখন তারা ওই ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই করে। জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাই।’

মুখপাত্র আরও জানান, ‘আমাদের এই ধরনের অনেক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে ঝুলে রয়েছে। আমরা আশা করি, এই অনুরোধগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল ও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন। দীর্ঘ সাত বছর পর পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, ‘কিম জং উনের আমন্ত্রণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং ৮ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া সফর করবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের কয়েক সপ্তাহ পরেই এই সফরে যাচ্ছেন শি।

চীন উত্তর কোরিয়ার একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটি কোণঠাসা অবস্থায় আছে।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তারা একে অপরকে সহায়তা প্রদান করবে। এই বছর সেই চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী পালিত হবে।

কিমের কাছে শির সফরের প্রচারণাগত গুরুত্ব সুস্পষ্ট। মহামারি মোকাবিলা করে এবং রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর পিয়ংইয়ং বিশ্বমঞ্চে তার অবস্থান উন্নত করেছিল।

পিয়ংইয়ং ও মস্কো উভয়ের সঙ্গেই বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিম ও পুতিনের মধ্যে গড়ে ওঠা জোট নিয়ে শি সন্দিহান। কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বেইজিংই কিমের জন্য প্রধান জীবনরেখা হয়ে আছে। আশা করা হচ্ছে, কিম স্থল সীমান্ত দিয়ে আরও বেশি বাণিজ্য এবং তার নবনির্মিত সমুদ্রসৈকত ও স্কি রিসোর্টগুলো প্রাণবন্ত করতে আরও বেশি চীনা পর্যটক চাইবেন।

কিম গর্বের সঙ্গে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগার প্রদর্শন করে আসছেন। তিনি সফররত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজধানী পিয়ংইয়ংও প্রদর্শন করছেন। তিনি বিশ্বকে জানাতে চান, এই সবকিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতজানু না হয়ে বা দক্ষিণের সঙ্গে কোনো সম্পর্কে না জড়িয়েই অর্জন করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করেছে যে তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সপ্তাহেই একটি নতুন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম বলেছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার ‘অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে’। সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রচেষ্টা চলছে। ইসরায়েলেও এই সমঝোতার সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

একটি চুক্তি হতে পারবে কি না এটা আসল প্রশ্ন নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি একটি সমঝোতায় পৌঁছায় তাহলে ইসরায়েল কী করবে?

ইসরায়েলি গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং নিরাপত্তা মহলে বিতর্কটি এখন চুক্তিটি পুরোপুরি ঠেকানোর চেষ্টার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। পরিবর্তে এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তি মোকাবিলার উপায় নিয়ে বেশি মনোযোগী ইসরায়েল। শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেই নয়, বরং এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের স্বাধীনতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।ইসরায়েলের উদ্বেগের একটি প্রধান দিক হলো, সম্ভাব্য যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির একটি সংশোধিত সংস্করণের অনুরূপ হবে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। কিন্তু তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক, ড্রোন এবং তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অক্ষুণ্ণ রাখবে।

সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সম্ভাব্য চুক্তিটি যুদ্ধের শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারবে না, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা, তেহরানের সামরিক কাঠামো দুর্বল করা এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা।

সংবাদমাধ্যমটির মতে, এই পর্যায়ে ইসরায়েলের লক্ষ্য হয়তো ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহর সৃষ্ট হুমকি বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা আদায় করা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলে কোনো ঐকমত্য নেই। ইসরায়েল ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ডিরেক্টরেটের ইরান বিভাগের সাবেক প্রধান ড্যানি সেট্রিনোভিচ তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গড়ে ওঠা চুক্তিটি ‘অনেক দিক থেকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি ভীতিকর পরিস্থিতি’ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি চূড়ান্ত আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকে এবং ট্রাম্প প্রশাসন এতে ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে নেতানিয়াহু এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন, যা তার মতে যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির চেয়েও খারাপ।

এমন একটি পরিস্থিতি, যা ড্যানি সেট্রিনোভিচ নিম্নরূপভাবে বর্ণনা করেছেন: ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো প্রকৃত নিষেধাজ্ঞা নেই, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় গ্রহণের কোনো আশা নেই এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ছে।’ দানি চেত্রিনোভিচ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ‘অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ’ চুক্তিও কোনো চুক্তি না থাকার চেয়ে ভালো হতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের সবাই এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, যদি এই যুদ্ধ ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে যেকোনো চুক্তিই একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

 এই মতবিরোধটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও বিশ্লেষণমূলক পরিমণ্ডলের একটি শূন্যতাকে প্রতিফলিত করে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, একটি সম্ভাব্য চুক্তি ইসরায়েলের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। কিন্তু আলোচনার সম্পূর্ণ ব্যর্থতা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামনে একাধিক বিকল্পও রয়েছে।

প্রথম বিকল্প: চুক্তিটি কঠিন করার চেষ্টা করা

ইসরায়েলের কাছে থাকা প্রাথমিক বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো যেকোনো চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা। গত ৬ মে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জেরুজালেম ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াকভ আমিদ্রোরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইরানের সাথে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং একটি কঠোর প্রয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

দ্বিতীয় বিকল্প: সামরিক কার্যকলাপের স্বাধীনতা বজায় রাখা

কিন্তু আরেকটি বিকল্পও রয়েছে, যা ইসরায়েল যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি সত্ত্বেও বজায় রাখতে চাইতে পারে। যাকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘কর্মের স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করেন। যার অর্থ হলো ইরান ও এই অঞ্চলে থাকা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলা বা সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা বজায় রাখা।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেছেন, ‘যদি ইসরায়েল এই চুক্তির অংশ না হয়, তবুও তার কাছে সমস্ত বিকল্প খোলা থাকবে।’তিনি মনে করেন ইসরায়েল কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু যে চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করেনি, তার দ্বারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের আবদ্ধ বলে বিবেচনা করার সম্ভাবনা কম।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিশ্লেষণে লিখেছে, সরাসরি মার্কিন সমর্থন ছাড়া ইরানের সঙ্গে একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা সীমিত থাকবে। বিশেষ করে যদি ওয়াশিংটন কূটনীতির পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তৃতীয় বিকল্প: গোপন যুদ্ধে প্রত্যাবর্তন

নতুন চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে যদি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়, তবে তারা একটি নতুন কৌশল অবলম্বন করতে পারে। আর তা হলো ‘যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধ’। এর মধ্যে সাইবার অভিযান, অন্তর্ঘাত এবং অতীতের মতোই লক্ষ্যবস্তুকে গুপ্তহত্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ইসরায়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে। 

ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মহলে এমন কথাও চলছে, বিষয়টি শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যম গোষ্ঠী ওয়াইনেট-এর ওয়েবসাইট গত মার্চে জানিয়েছে, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী একটি মূল্যায়ন দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা উস্কে দিতে সাহায্য করতে পারে। সূত্র: বিবিসি

নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উদ্বেগ যেন আরও বাড়ছে। মানুষের তৈরি করা এই প্রযুক্তি এখন নিজেই নিজেকে আরও উন্নত করার ক্ষমতা অর্জন করছে। ফলে একসময়ে এই শক্তিশালী এআই সিস্টেমের ওপর মানুষের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে। এমন এক আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিশ্বের সব বড় এআই কোম্পানিকে আপাতত এই প্রযুক্তির দৌড় থামানোর আহ্বান জানিয়েছে খ্যাতনামা টেক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ক্লোড’ নামক জনপ্রিয় এআইয়ের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, এআই এখন নিজেই নিজের উন্নত সংস্করণ বা উত্তরসূরি তৈরি করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রযুক্তিবিদরা একে বলছেন ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইম্প্রুভমেন্ট’ বা স্বয়ংক্রিয় ধারাবাহিক উন্নতি। সহজ কথায়, মানুষের কোনো রকম হস্তক্ষেপ বা সাহায্য ছাড়াই এআই এখন নিজেকে আরও বেশি শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারছে।

কোম্পানিটি আরও জানায়, তারা এআই তৈরির কাজ দিন দিন এআইয়ের ওপরেই বেশি ছেড়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন লক্ষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত কম্পিউটিং ক্ষমতা পেলে এআই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের চেয়েও উন্নত এআই ডিজাইনও তৈরি করতে সক্ষম হবে।

বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অ্যানথ্রোপিক জানায়, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের নিজস্ব মূল কোডবেসের ৮০ শতাংশের বেশি কোড লিখেছে তাদেরই তৈরি এআই ‘ক্লোড’। উল্লেখ্য, কোডবেস হলো যেকোনো সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি তৈরি, পরীক্ষা এবং তা টিকিয়ে রাখার মূল চালিকাশক্তি বা মাস্টারপ্ল্যান।
অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির তুলনায় অ্যানথ্রোপিক একটু ব্যতিক্রম। তারা প্রায়ই এআইয়ের দ্রুত উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে সতর্ক করে। তারা জানায়, প্রযুক্তির ধারা অনুযায়ী আগামী বছরগুলোতে এআই আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই ধারার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। নিজে নিজেই তৈরি হতে পারা এআই প্রযুক্তি মানব ইতিহাসের এক বিশাল বড় মাইলফলক হতে পারে। এটি বিজ্ঞান, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের জন্য অভাবনীয় কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, যদি কোনো এআই নিজেই নিজের উত্তরসূরি তৈরি করতে পারে, তাহলে সেটিকে নিরাপদ রাখা, পর্যবেক্ষণ করা এবং তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ফিউচার শিফট ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাগর বিষ্ণই এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতের এআই সিস্টেমের কোড যেহেতু এআই নিজেই লিখছে, তাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ এর ক্ষমতা বাড়ানো নয়, বরং একে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই স্বয়ংক্রিয় উন্নতি উদ্ভাবনের গতি অনেক বাড়িয়ে দেবে। তবে এটি নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলবে। আসল পরীক্ষা হবে এটিই নিশ্চিত করা যে, এআই যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
কাজ স্থগিত রাখার প্রস্তাব ও বিতর্ক এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যানথ্রোপিক বলছে, এই খাতের সব কোম্পানির একসঙ্গে বসে অত্যাধুনিক এআই বা ‘ফ্রন্টিয়ার এআই’ তৈরির কাজ কিছুদিনের জন্য ‘স্থগিত’ করা উচিত। তবে তারা এই ভয়ও পাচ্ছে যে, এই ধীরগতির সুযোগ নিয়ে যদি কম দায়িত্বশীল কোনো দেশ বা কোম্পানি প্রযুক্তিতে এগিয়ে যায়, তবে তা সবার নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।

কোম্পানিটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের কাজ সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা বিশ্বের জন্য ভালো হবে। এতে করে সমাজ ও গবেষকরা এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।’
তবে এআইনসিউরডের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘ধারণাটি শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কঠিন। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে চাইবে না।’

অবশ্য অ্যানথ্রোপিক বসে নেই। তাদের গবেষণা শাখা ‘অ্যানথ্রোপিক ইনস্টিটিউট’ এই ধীরগতির প্রক্রিয়াকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সিস্টেম বা কাঠামো নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে।

দ্য কাটিং এজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও এআই শিক্ষাবিদ অংশ মেহরা অ্যানথ্রোপিকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত আগামী ছয় মাস নতুন বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) প্রকাশে স্বেচ্ছায় বিরতি দেওয়া। এই সময়টায় মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাস্তব প্রয়োগে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ইতিহাসের উদাহরণ টেনে অংশ মেহরা বলেন, ‘আমরা ১৯৭০-এর দশকে ডিএনএ প্রযুক্তির সময়েও এমনটি দেখেছিলাম। তখন বিজ্ঞানীরা কেবল অন্ধের মতো আবিষ্কারের পেছনে ছুটে যাননি। তারা প্রথমে এর নিরাপত্তা নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা করেছিলেন।’

তবে পদ্মনাভুনির মতো তিনিও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এআই প্রতিযোগিতায় থাকা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বিরতিতে রাজি হবে কি না।
অন্যদিকে ‘শর্টহিলস এআই’য়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পবন প্রভাত অবশ্য মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় নিয়ে একটু ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “আমি ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ বা ‘টার্মিনেটর’ সিনেমার মতো চরম কোনো পরিস্থিতির ব্যাপারে চিন্তিত নই। কারণ এআই যদি কখনো মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, মানুষ সব সময়ই এর প্লাগ টেনে (লাইন কেটে) এটি বন্ধ করে দিতে পারবে।”

তবে তিনি সতর্ক করেছেন, নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য অনেক উপকার বয়ে আনতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে সামাজিক মূল্য বা নেতিবাচক প্রভাবও থাকবে।