ফিলিস্তিনি প্রতিরোধগোষ্ঠী হামাসের হাতে জিম্মি থাকা দুই শিশু ও তাদের মাসহ চারজনের লাশ বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গাজা থেকে ইসরায়েলে ফিরেছে। হস্তান্তরের আগে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এ জিম্মিরা নিহত হয়েছেন।
ওই দুই শিশুর নাম কেফির বিবাস (২) ও অ্যারিয়েল বিবাস (৪)। মা শিরি বিবাস। অপর যে জিম্মির লাশ ফেরত দেওয়া হয়েছে তার নাম ওদেদ লিফশিৎজ (৮৪)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামলার ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হামাস এই প্রথম দেহাবশেষ হস্তান্তর করছে। শিরির স্বামী ইয়ার্ডেন বিবাসকেও একই দিনে আলাদাভাবে অপহরণ করা হয় এবং ১ ফেব্রুয়ারি জিম্মি বিনিময়ের মাধ্যমে গাজা উপত্যকা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
গাজা উপত্যকায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে লড়াইয়ের পর ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে বিনিময় চুক্তির আওতায় এই লাশ হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জিম্মিদের ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে তৎপর ছিল কিন্তু ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং সরকারই জিম্মিদের নিহত হওয়ার জন্য দায়ী।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আজ ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য একটি খুব কঠিন হৃদয়বিদারক দিন, একটি শোকের দিন।’ এর প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে হামাস লিখেছে, ‘আমরা তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করেছি, কিন্তু তাদের সেনারাই বন্দিদের হত্যা করেছেন। অপরাধী নেতানিয়াহু আজ নিহতদের জন্য মায়াকান্না করছেন, নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন নিজের দেশের মানুষের কাছে থেকে। কিন্তু এ সবের জন্য সে-ই দায়ী।’
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ভূখণ্ডটির একটি শরণার্থী শিবিরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফিলিস্তিনিদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুবাসের কাছে আল-ফারা ক্যাম্পে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা।