ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সক্ষমতা বাড়াতে সুপরিকল্পিত বাজেটের তাগিদ প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিলের দাবি খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০ জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা গ্রাহকের ব্যানারে আন্দোলনে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৪৫ শতাংশ সাভারে তিন কারখানা থেকে ১৮৬৮ শ্রমিক অব্যাহতি এখনো উৎপাদনে আসেনি বন্ধ চিনিকল ৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সিরাজগঞ্জে ৪০০ একর জমির ওপর শিল্প পার্ক ৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ‘বরফ চিবিয়ে’ দিন পার, হামাগুড়ি দিয়ে বেস ক্যাম্পে ফেরা, বেঁচে ফেরা পর্বতারোহীর রোমহর্ষক বর্ণনা বন্ধ কারখানা চালু হলে গতি ফিরবে অর্থনীতিতে ময়মনসিংহে বাড়তি ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের ভোগান্তি দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমাবেশ যত আক্রোশ মুক্তিযুদ্ধে ৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ
Nagad desktop

বিবিসির বিশ্লেষণ জেলেনস্কিকে আক্রমণে ভ্যান্স নেতৃত্ব দিলেন কেন?

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫০ এএম
জেলেনস্কিকে আক্রমণে ভ্যান্স নেতৃত্ব দিলেন কেন?
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তীব্র সমালোচনা করে দেখিয়ে দিয়েছেন, একজন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তিনি আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে ভয় পান না। ভ্যান্স তার কিছু পূর্বসূরির মতো প্রেসিডেন্টের নম্র ও অনুগত রাজনৈতিক সহকারীর ভূমিকা পালন করতে চান না।

গত শুক্রবার ওভাল অফিসের ওই তর্কযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ভ্যান্সই, পরে যোগ দেন ট্রাম্প। বৈঠকের এক পর্যায়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানে আসার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ায় ভ্যান্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এর আগ পর্যন্ত বৈঠকটি বেশ আন্তরিকতাপূর্ণ ছিল। ভ্যান্স প্রসঙ্গটি তুলতেই রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওয়াশিংটন-মস্কো আলোচনার কড়া সমালোচক জেলেনস্কি পাল্টা প্রশ্ন ছোড়েন, ‘কোন ধরনের কূটনীতি, জেডি (ভ্যান্স), আপনি যেটার কথা বলছেন? আপনি কী বোঝাতে চান?’ প্রত্যুত্তরে ইউক্রেনীয় নেতাকে স্তব্ধ করে দিয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমি এমন কূটনীতির কথা বলছি যেটি আপনার দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে যাচ্ছে।’ এরপর ভ্যান্স বলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আপনার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমি মনে করি ওভাল অফিসে এসে আমেরিকান মিডিয়ার সামনে তর্ক করা আপনার জন্য অসম্মানজনক।’

এ ছাড়াও ভ্যান্স ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ নিয়ে প্রচারে অংশ নেওয়ার জন্য জেলেনস্কির সমালোচনা করেন। ওই সময় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট দোদুল্যমান রাজ্য পেনসিলভানিয়ার একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে গেলে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেন। 

জেলেনস্কির প্রতি ভ্যান্সের তিরস্কার রিপাবলিকানদের ব্যাপক সমর্থন কুড়িয়েছে। সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর এবং পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ‘আমাদের দেশের পক্ষে জে ডি ভ্যান্স দাঁড়ানোয় আমি খুবই গর্বিত।’ জেলেনস্কির পদত্যাগ করা উচিত বলেও পরামর্শ দেন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

আলাবামার সিনেটর টমি টিউবারভিল জেলেনস্কির কথা বলতে গিয়ে তাকে ‘ইউক্রেনীয় বেজি’ বলে উল্লেখ করেন। নিউইয়র্কের কংগ্রেসম্যান মাইক ললার এ বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন উভয়ের জন্য হারিয়ে ফেলা একটি সুযোগ বলে অভিহিত করেন।

সফররত একজন রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর ভ্যান্স যে আক্রমণটা করলেন, একজন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাধারণত তেমনটা করেন না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের মূল কাজ প্রেসিডেন্টকে ক্ষেত্রবিশেষে সহায়তা করা, তবে সেটি সবসময় না। আর অন্য সময় প্রেসিডেন্টের পাশে চুপচাপ বসে থাকা।
বিদেশ সফরে প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্টের একজন অনুগত ব্যক্তি হিসেবেই সব কাজ করেন, প্রেসিডেন্টের আদেশমতো বলেন।

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাইক পেন্স। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি অনেক বেশি কোমল স্বভাবের ছিলেন। তার সঙ্গে ভ্যান্সের বৈপরীত্য ব্যাপক। ভ্যান্স প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বেশ খোলাখুলিভাবেই কাজ করছেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছেন। ২০২২ সালে ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও থেকে সিনেটর হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তখন তিনি একটি পডকাস্টে বলেছিলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে কী ঘটছে, তা নিয়ে তিনি সত্যিই চিন্তা করেন না।

আট বছর আগে ট্রাম্পকে একজন ‘ইডিয়ট’ বলে উপহাস করেছিলেন ভ্যান্স। পরে সেই তিনিই ট্রাম্পের ‘ মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের উত্তরাধিকারী হয়ে ওঠেন।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্সকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘এখনই এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’ যদিও রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে ভ্যান্সের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে।

ট্রাম্পের এমন কথা সত্ত্বেও তার পক্ষে ভ্যান্স রাজনৈতিক ঝগড়াবাজের ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের শত্রুদের স্পষ্ট সমালোচনায় তিনি প্রেসিডেন্টের চেয়েও এগিয়ে যাচ্ছেন।

একটি সাধারণ বিষয় হলো, ভ্যান্সের আক্রমণের অনেক শিকারই আমেরিকার মিত্র। এই আক্রমণের সূত্রপাত হয়েছিল গত মাসে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে। সেখানে তিনি ইউরোপীয় গণতন্ত্র সম্পর্কে বেশ কটু মন্তব্য করেন।

ভ্যান্সের ভূমিকা নিয়ে অনেকগুলো প্রশ্ন উঠছে। যেমন, হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির ওপর ভ্যান্সের তীব্র আক্রমণ কি পূর্বপরিকল্পিত ছিল? কূটনীতিকরা তেমনটাই বিশ্বাস করেন। তবে হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলেছে, আক্রমণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল না।
আরও যেসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো ভ্যান্সের এই নতুন ভূমিকা কি ট্রাম্পের নির্দেশেই হচ্ছে?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধীদের শায়েস্তা করার কাজ ইলন মাস্কের সঙ্গে কি ভ্যান্সও ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন? নাকি ভ্যান্স স্বাধীনভাবে এই কাজ করছেন, যা তাকে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ভিত্তি তৈরি করে দেবে? প্রশ্নগুলোর উত্তর যাই হোক না কেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দুই নম্বর ব্যক্তির চেয়েও বেশি কিছু হয়ে উঠছেন ভ্যান্স।

প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

এইচআইভি বা এইডস প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু ‘সুপার হিউম্যান’ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের সন্ধান চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই হিসাবকে নতুন করে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। তারা ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে এই ভাইরাসক প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এখন সেই ব্যতিক্রমী মানুষ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে এইচআইভি নিরাময়ের কার্যকর পথ দেখাতে পারবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক বিস্ময়কর নারীর গল্প। লোরিন উইলেনবার্গ নামের ৭১ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা গত তিন দশক ধরে এইচআইভি গবেষকদের কাছে ছিলেন এক গভীর রহস্য। ১৯৯২ সালে লোরিনের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে। সাধারণত এই ভাইরাস মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়, কিন্তু লোরিনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল অলৌকিক ঘটনা। কোনো ধরনের ওষুধ না খেয়েই তিনি আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন পার করেছেন।

২০২৫ সালের আগস্টে লোরিন উইলেনবার্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ডাক্তাররা আমাকে সবসময় বলতেন, এইচআইভির বিরুদ্ধে আমার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই আলাদা। অনেক বছর ধরে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তবে তারা জানতেন আমি সাধারণ নই।’

চলতি বছরের এপ্রিলে লোরিন মারা যান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘এলিট কন্ট্রোলার’। এটি এমন একদল এইচআইভি পজিটিভ মানুষকে বোঝায় যাদের শরীর কোনো ওষুধ ছাড়াই ভাইরাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বিশ্বে মোট এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই মানুষগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ রোগীকে বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।

উইলেনবার্গের ঘটনা আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে ২০২২ সালে। সে সময় তার চতুর্থ ধাপের ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসার ফুসফুস থেকে মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যায়। অস্ত্রোপচার ও শক্তিশালী ওষুধে তিনি ভালো সাড়া দেন। তবে এসব চিকিৎসায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কথা। ফলে শরীরে লুকিয়ে থাকা এইচআইভি আবার সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু গবেষকরা যখন তার শরীরের কোটি কোটি কোষ পরীক্ষা করেন, তখন তারা এইচআইভির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাননি।

ম্যাস জেনারেল ব্রঘাম, এমআইটি এবং হার্ভার্ডের রাগন ইনস্টিটিউটের মেডিসিনের অধ্যাপক জু ইউ দীর্ঘদিন ধরে লোরিনের শরীর নিয়ে গবেষণা করছেন। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটির এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘লোরিন সম্ভবত পুরোপুরি এইচআইভি মুক্ত হয়ে গেছেন।’ তবে এই সুখবর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২৬ সালের এপ্রিলে মারা যান উইলেনবার্গ। কিন্তু তার জীবন বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেছে; তা হলো মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এইচআইভির মতো ভাইরাসকেও পরাজিত করতে পারে।

শুধু লোরিন একাই নন, আর্জেন্টিনার আরেক নারীও বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছেন। পরিচয় গোপন রাখা এই নারী ‘এসপেরানজা রোগী’ নামে পরিচিত। স্প্যানিশ ভাষায় এসপেরানজা অর্থ ‘আশা’। গবেষকদের ধারণা, তিনিও হয়তো লোরিনের মতো প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো বিজ্ঞানীদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ‘এলিট কন্ট্রোলারদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার রহস্যভেদ করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এইডসের স্থায়ী নিরাময় আবিষ্কার করা সম্ভব।’

সাধারণত এইচআইভি শরীরে ঢোকার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি মানুষের কোষের ডিএনএর সঙ্গে নিজের জিনগত উপাদান যুক্ত করে বংশবিস্তার করে। ধীরে ধীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেত রক্তকণিকাগুলোকে ধ্বংস করে। চিকিৎসা না করালে রোগী এইডসে আক্রান্ত হয় এবং সাধারণ কোনো সর্দি-কাশি বা ইনফেকশনেই মারা যেতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে ‘অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল’ নামের ওষুধ আবিষ্কারের পর এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। এই ওষুধ ভাইরাসটির বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়, যার ফলে আক্রান্তরা কিছুটা সুস্থ জীবন পান। 

তবে সমস্যা হলো, এই ওষুধ সাধারণত ভাইরাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। এইচআইভি শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে রক্ত, লিম্ফ নোড, মস্তিষ্ক ও অন্ত্রে এর গোপন ভান্ডার বা ‘রিজার্ভয়ার’ তৈরি হয়। সুযোগ পেলেই সেখান থেকে ভাইরাস আবার সক্রিয় হতে পারে। এখানেই লোরিন বা এসপেরানজার মতো এলিট কন্ট্রোলারদের শরীর আলাদা।

২০২০ সালে অধ্যাপক শু ইউ ও তার সহকর্মীরা ৬৪ জন এলিট কন্ট্রোলারকে নিয়ে গবেষণা করেন। তারা দেখতে পান, এসব মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে ডিএনএর এমন কিছু এলাকায় আটকে রাখে, যেগুলোকে ‘জিন ডেজার্ট’ বলা হয়। আমাদের সবার জিনোমে এমন কিছু এলাকা থাকে যার কোনো কাজ নেই, এগুলো নিষ্ক্রিয়। এলিট কন্ট্রোলারদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসকে তাড়িয়ে ঠিক ওই নিষ্ক্রিয় এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। ফলে ভাইরাসটি সেখানে আটকা পড়ে যায় এবং বংশবৃদ্ধির জন্য শরীরের কোনো অংশ ব্যবহার করতে পারে না।

অধ্যাপক জু ইউ-এর ভাষায়, ভাইরাসগুলো শরীরে ঠিকই থাকে, কিন্তু সেগুলো এমন এক জায়গায় বন্দি থাকে যেখান থেকে আর কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের থাকে না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একই ঘটনা ‘পোস্ট-ট্রিটমেন্ট কন্ট্রোলার’ নামে পরিচিত আরেক গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। তারা শুরুতে দীর্ঘদিন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ নিলেও পরে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এর পরও তাদের শরীরে ভাইরাস আর সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুধু সিডি৮+ টি-সেল নয়, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আরেকটি অংশও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’।

গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হবে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে ন্যাচারাল কিলার সেলকে সক্রিয় করবে। এতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা সহজ হতে পারে।

গবেষণায় আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। অধ্যাপক জু ইউ জানান, এলিট কন্ট্রোলারদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। পুরুষদের চেয়ে নারীদের এলিট কন্ট্রোলার হওয়ার সম্ভাবনা দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। অথচ ঐতিহাসিকভাবে এইডসের বেশির ভাগ পরীক্ষামূলক গবেষণা পুরুষদের ওপরই করা হয়েছে। নারীদের ওপর আরও বেশি গবেষণা হলে এই রোগ নিরাময়ের পথ আরও দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে লোরিন উইলেনবার্গ এক আবেগঘন কথা বলেছিলেন, ‘আমি এই মহামারির শেষ দেখে যাওয়ার জন্য আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই। আমার অবদান যদি বিজ্ঞানকে একটুও এগিয়ে নিয়ে থাকে, তবে তা আমার জন্য অনেক বড় সম্মান।’

লোরিন হয়তো পৃথিবী থেকে এইডসের চিরতরে বিদায় দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্য তিনি যে আশার আলো জ্বেলে দিয়ে গেছেন তা কোটি কোটি মানুষকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা
ক্যানসারের ভ্যাকসিন নিয়ে ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন গবেষক। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারের চিকিৎসায় বিজ্ঞানীদের নিত্যনতুন আবিষ্কার এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসার সম্মেলন–আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (অ্যাসকো) ২০২৬ সালের বার্ষিক অধিবেশন। প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্য পেশায় নিযুক্তরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল–‘অনুবাদমূলক বিজ্ঞান ও অনুশীলন: বিশ্বব্যাপী ক্যানসারের ফলাফলের উন্নয়ন’। সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হচ্ছে– 

স্মার্ট ড্রাগের মাধ্যমে ক্যানসারের ‘অদৃশ্য পর্দা’ দূর

ইমিউনোথেরাপির ওষুধ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে টিউমার ধ্বংস করে। তবে ক্যানসার কোষ যখন লুকিয়ে থাকে, তখন এই চিকিৎসা কাজ করে না। বিজ্ঞানীরা এখন এমন একটি স্মার্ট ড্রাগ তৈরি করেছেন, যা লুকিয়ে থাকা ক্যানসার কোষ বন্ধ করে দেবে।

‘জিআরডব্লিউডি৫৭৬৯’ নামের এই পরীক্ষামূলক ট্যাবলেটটি ক্যানসার কোষের ‘অদৃশ্য পর্দা’ সরিয়ে দেয়। ফলে ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘সেমিপ্লিম্যাব’ ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার রোগীদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। যাদের অন্য কোনো চিকিৎসার উপায় ছিল না, তাদের ক্ষেত্রে এটি দারুণ কাজ করেছে। ৮৩ জন রোগীর মধ্যে ২৬ জনের টিউমার সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের টিউমার অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে।

ট্রায়ালের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ফিওনা থিসলথওয়েট বলেন, ‘ট্যাবলেটের জন্য এটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক বলা যায়। যদিও এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও গবেষণার প্রয়োজন, তবে এটি নতুন মেকানিজম, যা ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।’

অন্য একটি ট্রায়ালে ‘আইভোনেসিম্যাব’ নামের স্মার্ট ড্রাগ কেমোথেরাপির সঙ্গে ব্যবহার করে ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের আয়ু গড়ে ১৫ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ‘ওজেকিব্যার্ট’ নামের আরেকটি স্মার্ট ড্রাগ মলাশয়ের (বয়েল) ক্যানসারের ক্ষেত্রে ভালো ফল দেখিয়েছে।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় দৈনিক একটি বড়ি

সম্মেলনে জানানো হয়, একটি নতুন বড়ি বা পিল অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াটিক) ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক এই ক্যানসারের চিকিৎসায় একে ‘গেমচেঞ্জার’ ও কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

৫০০ জন রোগীর ওপর চালানো ট্রায়ালে দেখা গেছে, ‘ড্যারাক্সনরাসিব’ নামের এই পিলটি কেমোথেরাপির চেয়ে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ রোগীদের বেঁচে থাকার গড় সময় ৬ দশমিক ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ২ মাস করেছে।

এই গবেষণার বাইরে থাকা ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা ক্যানসার সেন্টারের অনকোলজি প্রধান ড. রচনা শ্রফ বলেন, ‘এই ফলাফলগুলো ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তনকারী। আমরা নজিরবিহীন বেঁচে থাকার হার দেখতে পাচ্ছি।’

ফলাফল দেখে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন বলেও জানান। এ ছাড়া ‘মেজিগডোমাইড’ নামের আরেকটি নতুন পিল ট্রিপল থেরাপির অংশ হিসেবে রক্তের ক্যানসারে (মাল্টিপল মায়লোমা) আক্রান্ত রোগীদের রোগহীনভাবে বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করেছে।

নিরাপদে কেমোথেরাপি ও সার্জারি এড়ানোর সুযোগ

চিকিৎসায় এখন কোন কোন উপাদান নিরাপদে বাদ দেওয়া যায়, এ নিয়েও চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। একটি যুগান্তকারী জিনোমিক টেস্টের মাধ্যমে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত লাখ লাখ নারী কেমোথেরাপি এড়াতে পারবেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চার হাজার রোগীর ওপর চালানো ‘অপটিমা’ ট্রায়ালে দেখা গেছে, জিনোমিক টেস্টে যাদের স্কোর কম এসেছে, তারা কেমোথেরাপি ছাড়াই শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে নিরাপদে সুস্থ থাকতে পারেন। একইভাবে মূত্রাশয়ের (ব্লাডার) ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সঙ্গে ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘ডারভালুম্যাব’ যোগ করলে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমে। ফলে রোগীদের জীবন পরিবর্তনকারী জটিল সার্জারি এড়ানো সম্ভব হয়।

ক্যানসার বৃদ্ধিতে সতর্কতা ও কর্মীসংকট

সব খবর ইতিবাচক হলেও কিছু সতর্কবার্তা এসেছে। ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যানসার শনাক্তকরণের রক্ত পরীক্ষা ‘গ্যালেরি’ একটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্তকরণের হার বাড়াতে পারেনি। একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘ট্রায়ালটি পরিষ্কারভাবে ফ্লপ করেছে।’

এদিকে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের গড় আয়ু বাড়ার কারণে ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিদিন এক লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন ও বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ দশমিক ৩ মিলিয়নে পৌঁছাবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিংয়ের গ্লোবাল ক্যানসার রিসার্চের পরিচালক ড. পিটার কিংহাম বলেন, ‘ক্যানসার মূলত বার্ধক্যজনিত রোগ। 

বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু বাড়ার কারণে আরও বেশি মানুষ ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই ডেমোগ্রাফিক শিফট কোনো ব্যর্থতা নয়, এটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে। তবে এর জন্য ক্যানসার চিকিৎসায় সমান উচ্চাভিলাষী সাড়া প্রয়োজন।’

লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও যোগব্যায়ামের ভূমিকা

সম্মেলনে জানানো হয়, গত তিন দশকে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্তের হার প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। দুটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত বা দুর্বল ঘুমের অভ্যাস তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অনিদ্রায় আক্রান্ত ৫০ অনূর্ধ্ব ব্যক্তিদের পাঁচ বছরের মধ্যে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কিছু ক্ষেত্রে তিন গুণ বেশি।

তবে ক্যানসার ধরা পড়ার পরও লাইফস্টাইল পরিবর্তন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইয়োগা ও রিল্যাং করা যোগব্যায়াম ক্যানসার রোগীদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও অনিদ্রা কমাতে ওষুধ ছাড়াই দারুণ সাহায্য করে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

‘বরফ চিবিয়ে’ দিন পার, হামাগুড়ি দিয়ে বেস ক্যাম্পে ফেরা, বেঁচে ফেরা পর্বতারোহীর রোমহর্ষক বর্ণনা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
‘বরফ চিবিয়ে’ দিন পার, হামাগুড়ি দিয়ে বেস ক্যাম্পে ফেরা, বেঁচে ফেরা পর্বতারোহীর রোমহর্ষক বর্ণনা
কাঠমান্ডুর হ্যামস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন দাওয়া শেরপার একটি ছবি দেখাচ্ছেন আত্মীয় কর্মা গ্যালজেন। —এএফপি

মাউন্ট এভারেস্টে নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন নেপালের এক পর্বতারোহী। হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বেঁচে থাকার জন্য কেবল ‘বরফ চিবিয়ে’ দিন পার করেছেন। এই অবিশ্বাস্য উদ্ধার অভিযান পুরো পর্বতারোহী মহলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

৫৭ বছর বয়সী প্রবীণ গাইড দাওয়া শেরপা গত ৩০ মে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের ওপরের ঢালে নিখোঁজ হন। তখন পর্বতচূড়ায় আর কোনো আরোহী ছিলেন না এবং তাঁর অক্সিজেনও সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না মেলায় তাঁর পরিবার বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে ধর্মীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রার্থনাও শুরু করে দিয়েছিল।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গত শুক্রবার বিবিসিকে দাওয়া শেরপা বলেন, ‘আমি ভাবিনি যে আর কখনো বেঁচে ফিরব। ভেবেছিলাম এভাবেই মরে যাব। আমি আসলে পথ হারাইনি। অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আমি দল থেকে পিছিয়ে পড়েছিলাম। আর অক্সিজেন ছাড়া আমি এক পা-ও হাঁটতে পারছিলাম না।’

এভারেস্টের অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অক্সিজেনশূন্য ‘ডেথ জোন’-এর তীব্র ঠান্ডার মধ্যে আটকা পড়েছিলেন তিনি। কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই সেখানে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁকে। দাওয়া বলেন, ‘প্রথম দুই দিন আমি কিছুই খাইনি। এরপর তৃষ্ণা মেটাতে শক্ত বরফ চিবানো শুরু করি। এতে আমার দাঁত খুব ব্যথা করছিল, তাও আমি জোর করে বরফ চিবিয়েছি।’ এ ছাড়া পকেটে থাকা সামান্য কিছু চকলেট ও স্ন্যাক্স পানিতে ভিজিয়ে খেয়েছিলেন তিনি।

পর্বতারোহী মহলে ‘হিলারি’ নামে পরিচিত দাওয়া শেরপা জানান, একপর্যায়ে তিনি বরফের গভীর ফাটলে পড়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নিজেই বেয়ে ওপরে ওঠেন।

আনন্দ ও ক্ষোভের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ফাটল থেকে বের হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে দাওয়া বলেন, ‘তুষারের ওপর পা রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম এবং ওপরের দিকে তাকালাম। মনে হলো আমি এখান থেকে বের হতে পারব। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি দড়ি পেলাম। সেটি ধরে ফাটল থেকে বেরও হলাম এবং নিচেও নেমে এলাম।’

বেস ক্যাম্পের উদ্দেশে তিনি দিন-রাত অবিরাম হাঁটতে থাকেন। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর গত ৪ জুন সকালে সাগরমাথা পলিউশন কন্ট্রোল কমিটির (এসপিসিসি) একটি পরিচ্ছন্নতাকর্মী দল তাঁকে বেস ক্যাম্পের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে আসতে দেখে। দলটির সদস্যরা মূলত পর্বত পরিষ্কার করতে ওপরে উঠছিলেন। তাঁরা দাওয়াকে উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তীব্র তুষারক্ষত, প্রচণ্ড পানিশূন্যতা এবং পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে দ্রুত হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুর হ্যামস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। তাঁর মেয়ে মেন্ডো লামু শেরপা এএফপিকে বলেন, ‘বাবা এখন ভালো আছেন। আমাদের মধ্যে কথাও হয়েছে।’

দাওয়ার এই বেঁচে ফেরা যেমন সহকর্মী পর্বতারোহীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে, তেমনি তাঁর পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ–উদ্ধারকারী দল সময়মতো খোঁজাখুঁজি করেনি। নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফুর গেলজে শেরপা একে একটি বিরল অলৌকিক ঘটনা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া উদ্ধার অভিযান নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাউকে এভাবে পাহাড়ে ফেলে আসা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অমানবিক কাজ। এর পেছনে কার গাফিলতি ছিল তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’

উল্লেখ্য, চলতি মরসুমে এভারেস্টে রেকর্ড ১,০০০-এর বেশি আরোহী চূড়ায় পৌঁছালেও অন্তত পাঁচজন পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমাবেশ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২১ এএম
দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমাবেশ
ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে গতকাল শনিবার দিল্লিতে ভারতীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃত্ব দেন সংগৃহীত

সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শত শত শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

গতকাল শনিবার সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা কাগজের তৈরি তেলাপোকার মুখোশ ও লিফলেট হাতে নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রযুক্তিগত ত্রুটিসহ নানা অনিয়মের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক ও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন।

মেডিকেল কলেজে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী উৎকর্ষ রাজ এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সরকারের জবাবদিহি চাই। এই দেশে কীভাবে বারবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়? এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?’ 

রাজ আরও বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামসহ মোতায়েন পুলিশ সদস্যদের কড়া নজরদারির মধ্যেই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবারই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে আসেন অভিজিৎ দিপকে। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘দেশের তরুণরা আর কাউকে ভয় পাবে না, তারা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করবে।’

বিরোধী দল আম আদমি পার্টির সাবেক রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ দিপকে বলেন, ‘তেলাপোকা ভয় পায় না, আর সহজে মরে না।’ এ সময় উপস্থিত সমর্থকরা একযোগে তার স্লোগানে সাড়া দেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, তরুণদের ক্ষোভের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

২০ বছর বয়সী সার্থক বলেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো পরিচালনায় সরকারের আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা প্রয়োজন। ভারত এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।’ গত মাসে তদন্তকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়ার পর দেশব্যাপী মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি এনট্রান্স টেস্টসংক্রান্ত এই কেলেঙ্কারির পর কয়েকজন কিশোর আত্মহত্যা করেছে। এর আগে প্রায় ২০ লাখ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও আরেকটি বিতর্ক দেখা দেয়।

দুই ছেলেকে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৫২ বছর বয়সী স্বপন জ্ঞান বলেন, ‘তরুণদের এসব পরীক্ষা দিতেই হবে। কিন্তু তারা এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে পারে না, যেখানে পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই হারিয়ে যায়।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ভারতে সংগঠনটির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দিল্লির একটি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছেন, সংগঠনটি পাকিস্তান ও তথাকথিত ‘ভারতবিরোধী গোষ্ঠী’ থেকে সমর্থক সংগ্রহের চেষ্টা করছে। মে মাসের মাঝামাঝি যাত্রা শুরু করার পর সংগঠনটির ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মোদির ১২ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অনলাইন প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

তরুণদের উচ্চ বেকারত্ব, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লাখো শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে পড়ার মতো বিষয়গুলো সংগঠনটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে মোদির দল জয় পেলেও সংগঠনটির উত্থান তার জনপ্রিয়তায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও গ্যাস সংকট নিয়ে জনঅসন্তোষও বাড়ছে।

ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও তাদের জন্য কৃষিখাতের বাইরে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি এখনো দেশটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এপ্রিল মাসে শহরাঞ্চলের তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ১৪ শতাংশ ছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, অনেক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীও কম বেতনের বা অনিশ্চিত চাকরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সূত্র: ডন

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন
ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ গাজায় গত ৪৮ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫ জন।

গুরুতর আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ।

 খবরটি নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনার ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছে মাত্র ৭ মাস বয়সী এক শিশু। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার বাবা ও মা।

 অবশ্য ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, সৈন্যদের দিকে একটি গাড়ি এগিয়ে আসতে দেখেই নিরাপত্তার স্বার্থে গুলি ছোড়ে তারা।

গেলো বছরের অক্টোবর থেকে কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলে অব্যাহত হামলায় প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ১ হাজার মানুষের।

গুরুতর আহত হয়েছে প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি।

এসএন/