বিখ্যাত সংবাদ মাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা ও রেডিও ফ্রি এশিয়াকে দেওয়া অর্থ সহায়তা কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের নেওয়া আলোচিত সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মিডিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপের কারণে ‘পশ্চিমা ষড়যন্ত্র’ নাস্তানাবুদ হয়েছে বলে দাবি তাদের।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বার্তা সংস্থা দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
এ প্রসঙ্গে বামপন্থি চীনা সংবাদ মাধ্যম দ্য গ্লোবাল টাইমসের দাবি, ভয়েস অব আমেরিকা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকর লঙ্ঘনের পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সমুদ্রে বেইজিং প্রশাসনের আগ্রাসন নিয়ে মিথ্যা খবর প্রকাশ করে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। সংবাদ মাধ্যমটির সম্পাদকীয় অংশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চীনের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ ভুয়া খবরই ভয়েস অব আমেরিকা প্রকাশ করেছে।’
এদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কারণে ইউএস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়ার দেওয়া ভয়েস অব আমেরিকাকে সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য, ভয়েস অব আমেরিকা ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ ও ‘ট্রাম্পবিরোধী’। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের সমর্থনে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘মার্কিন জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের কোনো ভাগ যেন প্রতিক্রিয়াশীল গুজব ছড়াতে কাজে না লাগে- তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনাও হয়েছে প্রচুর। ভয়েস অব আমেরিকার অভিজ্ঞ প্রতিনিধি ব্রায়ান প্যাডেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান কখনোই গুজব ছড়ানোতে সম্পৃক্ত ছিল না।’
এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের বিবৃতির জবাবে রেডিও ফ্রি এশিয়ার বক্তব্য, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে জিতিয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হাতে আধিপত্য হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এই প্রশাসনিক বিরুদ্ধাচারকে সংবাদ মাধ্যমের ‘অন্ধকার যুগে প্রবেশের’ দ্বার বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে ট্রাম্পের নির্দেশে ভয়েস অব আমেরিকার ১ হাজার ৩০০ কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নাইমুর/