উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় স্থল অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সমস্ত বন্দিকে মুক্তি না দিলে গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল দখল করবে ইসরায়েল।
শুক্রবার (২১ মার্চ) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এ কথা বলেন।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেন, ‘আমরা হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান তীব্র করব। একইসঙ্গে দক্ষিণ গাজার জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়া এবং গাজার বাসিন্দাদের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বেচ্ছায় অভিবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব সামরিক ও বেসামরিক চাপ প্রয়োগ করব।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুয়ায়ী, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীকে গাজার অতিরিক্ত এলাকা দখল এবং জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ইসরায়েলি জনগণ এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে সুরক্ষার জন্য গাজার চারপাশে নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
কটজ হামাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যতক্ষণ না তারা উপত্যকায় আটক থাকা সব বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল গাজার জমি দখল করবে।’
জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকায় কাটজকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘হামাস যত বেশি জিম্মিদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, তারা তত বেশি এলাকা হারাবে এবং এই অঞ্চলগুলো পরবর্তীতে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।’
মধ্যগাজা থেকে আল জাজিরার হিন্দ খোদারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইত লাহিয়া এবং রাফাহের বাসিন্দাদের ইসরায়েলি বাহিনী নতুন পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। ইসরায়েল এলাকাগুলি খালি করার জন্য কোনোও সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। হঠাৎ করেই ফিলিস্তিনিরা তাদের উপর অবিরাম বিমান হামলা এবং কামানের গোলাবর্ষণ দেখতে পায়।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর ইসরায়েল গাজায় স্থল অভিযান চালায়। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক আক্রমণ চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। এ অভিযানে প্রায় ২০০ শিশুসহ ৫৯০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
আল জাজিরার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন শুক্রবার গাজা শহরের উত্তরে জেইতুন পাড়ায় ইসরায়েলি বিমান প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়েছে।
সুমন/