মায়ানমারে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শাসক সামরিক জান্তা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪৪১ জন।
অপরদিকে ভূমিকম্পে থাইল্যান্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ৮০ জন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে-ইউএসজিএস) অনুমান করেছে যে প্রাথমিক মডেলিংয়ের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটির মতে, দেশটির আর্থিক, পরিবেশগত এবং সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘ বলছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে লোকজনের মৌলিক চাহিদা যেমন বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সরঞ্জাম সরবরাহ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অনেকে ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে রাস্তায় বা খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে ভূমিকম্পের ঘটনায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে। সামরিক বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং ভূমিকম্পের পরও বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে মায়ানমারের বহু ভবন, সেতু ও রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বিচ্ছিন্ন অনেক জায়গায়। ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মায়ানমারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন করেছে সামরিক সরকার।
গত ২৮ মার্চ (শুক্রবার) মিয়ানমারে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশে এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল মায়ানমারের সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর–উত্তরপশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ১০ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ, ভারত, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং চীনে।
সিফাত/