ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যেসব ধনী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনেছে, তাদের সঙ্গে আর্থিক ‘সমঝোতা’ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সরকারের সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার নেতৃত্বদানকারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, কম গুরুতর মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ‘সমঝোতা একটি বিকল্প হতে পারে’।
মনসুর জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনার জন্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মামলা পরিচালনার জন্য তিনি ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য রেখেছেন।
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, তার (শেখ হাসিনা) সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দেশ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন।
এ সপ্তাহে অন্য সরকারি নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরের আগে ঢাকায় এক সাক্ষাৎকারে মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে, তা নির্ভর করবে তাদের কর্মকাণ্ডের ধরনের ওপর।’
তিনি বলেন, ‘যদি অপরাধের ধরন অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর হয়... তা হলে আমরা সিভিল মামলা করব এবং আর্থিক সমঝোতাও তার অংশ হতে পারে।’
যদিও তিনি এই পন্থায় যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তাদের নাম উল্লেখ করেননি।
ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১১টি মামলার তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশে কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এই সপ্তাহে লন্ডনে সফরের সময় ইউনূস যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে এসব তহবিল অনুসন্ধান ও ফেরতের বিষয়ে ‘আরও জোরালো সহায়তা’ কামনা করেন।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা চুরি করা টাকা’।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত ‘আইনি ও নৈতিকভাবে’ এসব অর্থ উদ্ধারে সহায়তা করা।
গত ডিসেম্বরে সরকার কর্তৃক প্রকাশিত একটি অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক কর্মকর্তা মনসুর এবং অন্য সরকারি নেতারা অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করে ভুয়া ঋণ নিয়ে এবং সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে টাকা আত্মসাৎ করে এসব অর্থ দেশ থেকে সরিয়েছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
মনসুর বলেন, তারা মামলা চালানোর জন্য তহবিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য তাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এ ধরনের সংস্থাগুলো দেওয়ানি মামলা পরিচালনার খরচ বহন করে, যার মধ্যে আইনজীবীর ফি এবং আদালতের খরচ অন্তর্ভুক্ত। মামলা জিতলে তারা একটি নির্ধারিত অংশ পেয়ে থাকে।
মনসুর বলেন, ‘আমরা লিটিগেশন ফান্ডিং (মামলা-মোকদ্দমার তহবিল) নিয়ে কাজ করছি এবং ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। আমরা চাই, যতটা সম্ভব অর্থ এ ধরনের তহবিল থেকে আসুক।’
সিডনিভিত্তিক লিটিগেশন ফান্ডিং কোম্পানি ওমনি ব্রিজওয়ে (Omni Bridgeway) জানিয়েছে, তারা এই বছরের প্রথমার্ধে ঢাকায় এসেছিলেন এবং মনসুরসহ ১৬টিরও বেশি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘একাধিকবার আলোচনা’ করেছেন।
ওমনি ব্রিজওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইগার উইলিঙ্গা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে সহায়তা করতে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থসহ অপরিশোধিত ঋণের পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছি।’
অমিয়/