ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেট ২০২৬-২৭ উত্থাপন আজ: আকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবতার টানাপোড়েন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে পৃথক অধিদপ্তরের আশ্বাস স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা! হরিণাকুন্ডুতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান সিলেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে প্রশাসনের অভিযান মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী: আইনমন্ত্রী বাংলা কিউআর: ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে নতুন বিপ্লব ভ্যানচালকের আর্জেন্টিনা প্রেম মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি? পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের ডিসি বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে চার স্তরে মজুত, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ভোটের দায়িত্বে মারা গেলে ১০ লাখ টাকা পাবে পরিবার মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পোশাক শিল্পের জন্য অশনি সংকেত: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে আলোচনা বিলম্ব করার ‘মূল্য দিতে হবে’: ট্রাম্প আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী আহত সিংগাইরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা
Nagad desktop

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সঙ্গে ‘সমঝোতার’ কথা ভাবছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৫, ০২:২৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৫, ০৪:২৩ পিএম
বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সঙ্গে ‘সমঝোতার’ কথা ভাবছে বাংলাদেশ
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যেসব ধনী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনেছে, তাদের সঙ্গে আর্থিক ‘সমঝোতা’ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকারের সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার নেতৃত্বদানকারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, কম গুরুতর মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ‘সমঝোতা একটি বিকল্প হতে পারে’।

মনসুর জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনার জন্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মামলা পরিচালনার জন্য তিনি ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য রেখেছেন।

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, তার (শেখ হাসিনা) সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দেশ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন।

এ সপ্তাহে অন্য সরকারি নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরের আগে ঢাকায় এক সাক্ষাৎকারে মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে, তা নির্ভর করবে তাদের কর্মকাণ্ডের ধরনের ওপর।’

তিনি বলেন, ‘যদি অপরাধের ধরন অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর হয়... তা হলে আমরা সিভিল মামলা করব এবং আর্থিক সমঝোতাও তার অংশ হতে পারে।’ 

যদিও তিনি এই পন্থায় যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তাদের নাম উল্লেখ করেননি।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১১টি মামলার তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশে কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এই সপ্তাহে লন্ডনে সফরের সময় ইউনূস যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে এসব তহবিল অনুসন্ধান ও ফেরতের বিষয়ে ‘আরও জোরালো সহায়তা’ কামনা করেন।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা চুরি করা টাকা’। 

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত ‘আইনি ও নৈতিকভাবে’ এসব অর্থ উদ্ধারে সহায়তা করা।

গত ডিসেম্বরে সরকার কর্তৃক প্রকাশিত একটি অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক কর্মকর্তা মনসুর এবং অন্য সরকারি নেতারা অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করে ভুয়া ঋণ নিয়ে এবং সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে টাকা আত্মসাৎ করে এসব অর্থ দেশ থেকে সরিয়েছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

মনসুর বলেন, তারা মামলা চালানোর জন্য তহবিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য তাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

এ ধরনের সংস্থাগুলো দেওয়ানি মামলা পরিচালনার খরচ বহন করে, যার মধ্যে আইনজীবীর ফি এবং আদালতের খরচ অন্তর্ভুক্ত। মামলা জিতলে তারা একটি নির্ধারিত অংশ পেয়ে থাকে।

মনসুর বলেন, ‘আমরা লিটিগেশন ফান্ডিং (মামলা-মোকদ্দমার তহবিল) নিয়ে কাজ করছি এবং ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। আমরা চাই, যতটা সম্ভব অর্থ এ ধরনের তহবিল থেকে আসুক।’

সিডনিভিত্তিক লিটিগেশন ফান্ডিং কোম্পানি ওমনি ব্রিজওয়ে (Omni Bridgeway) জানিয়েছে, তারা এই বছরের প্রথমার্ধে ঢাকায় এসেছিলেন এবং মনসুরসহ ১৬টিরও বেশি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘একাধিকবার আলোচনা’ করেছেন।

ওমনি ব্রিজওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইগার উইলিঙ্গা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে সহায়তা করতে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থসহ অপরিশোধিত ঋণের পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছি।’

অমিয়/

কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা!

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম
কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা!
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই চরম রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দলের একীভূত হওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে দলে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কংগ্রেসের নেতারা। 

অন্যদিকে একীভূত হওয়ার এই জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই জল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে তার প্রতি তৃণমূলের ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের দল কোনোভাবেই কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছে না। শুধু বিধায়ক নন, তৃণমূলের বহু সংসদ সদস্যও (লোকসভার এমপি) কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিপক্ষে বলে তিনি দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমপি এই মার্জারের (একীভূত) বিরোধী। দলটির এমপি, বিধায়ক, পৌর প্রতিনিধি, জেলা পরিষদ কিংবা পঞ্চায়েত সদস্য–কারও মধ্যেই কংগ্রেসে যাওয়ার কোনো চিন্তা নেই।

একই সুর শোনা গেছে তৃণমূলের নেতা (সাময়িক বরখাস্ত) ঋজু দত্তের কণ্ঠেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তিনি এই মার্জারের খবর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঋজু দত্ত লেখেন, এটি একটি আকর্ষণীয় পরিস্থিতি। তৃণমূলের ১৫ জনের বেশি বিদ্রোহী এমপি এবং ৬৪ জনের বেশি বিদ্রোহী বিধায়ক কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন না। তাহলে তৃণমূল থেকে আসলে কারা কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন বা মিশে যাচ্ছেন? 

এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তার একটি বৈঠক হয়, যা রাজনৈতিক মহলে দুই দলের একীভূত হওয়ার গুঞ্জন বাড়িয়ে দেয়। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম একান্ত বৈঠক। বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী তৃণমূল নেত্রীকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, সোনিয়া গান্ধী মমতাকে স্পষ্ট করে বলেছেন এই আহ্বান কোনো দলীয় মার্জার বা একীভূতকরণের জন্য নয়, বরং এটি বিরোধী জোটের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। এর আগে গত সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বৈঠক করেন। সেখানেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলগুলোর ঐক্যের ওপর জোর দেন। মমতা বলেন, জোটের শরিকদের উচিত অতীতের সব তিক্ততা ও ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এবার তিনি কংগ্রেসকে বিরোধী জোটের প্রধান নোঙর বা চালিকাশক্তি হিসেবে মেনে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল এমপি ও দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বৈঠকের ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সম্পর্কটি কয়েক দশকের জনসেবা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই চরম দুঃসময়ে মমতাকে ‘গ্রহণ’ করে, তাহলে প্রদেশ নেতৃত্ব কি আদৌ সেই সিদ্ধান্ত মানবে? রাজ্যের যে কংগ্রেস কর্মীরা এতদিন তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেত্রী হিসেবে মানবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সূত্রের দাবি, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মহাবিপর্যয়ের পর কংগ্রেসকে আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ও কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতোমধ্যেই দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত প্রদেশ নেতৃত্ব।

প্রদেশের একটি অংশ মনে করছেন, মমতাকে দলে নেওয়ার বা এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ধরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই সময় মমতাকে সঙ্গে নেওয়ার অর্থ, তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অপশাসনের দায় নিজেদের গায়ে মাখা। অধীর চৌধুরী ও আবদুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারা এই দলে রয়েছেন। আবদুল মান্নান যেমন সাফ বলে দিচ্ছেন, ‘আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপর আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ একই সুর শোনা গেছে অধীর চৌধুরীর গলাতেও।

তিনি বলছেন, ‘যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙিয়েছিলেন, তাকেই এবার গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতেপায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল ভোগ করতে হবেই।’ তবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সুর তুলনায় কিছুটা নরম। তিনি সাফ বলছেন, যদি কেউ দলে আসতে চান, তাহলে তাকে আগে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধীই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ।

শুভঙ্করের বক্তব্য, ‘রাহুল গান্ধীকে ভাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যারাই কংগ্রেসে আসবেন তাদের প্রত্যেককে স্বাগত।’ তবে অভিষেকের ক্ষেত্রে শুভঙ্করও বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তার সাফ কথা, ‘কারও গায়ে যদি দুর্নীতির দাগ লেগে থাকে, কেউ যদি নিজেকে বাঁচাতে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চান, তাহলে তার জন্য দরজা খোলা হবে না।

সূত্র: এইটিন নিউজ

ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান

সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা তুরস্কের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এরদোয়ান বলেন, যারা ইসরায়েলের বিশৃঙ্খলার নৌকায় উঠে পড়েছে এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কিছু অবাস্তব স্বপ্নের পেছনে ছুটছে। 

ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্যই বিপদ এবং তা বন্ধ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

বুধবার (১০ জুন) এরদোয়ান এই মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করে দ্য জেরুজালেম পোস্ট এবং ডন।

এরদোয়ান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার নেটওয়ার্কের সহিংস কার্যক্রম লেবানন ও সিরিয়াকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে তা এখন তুরস্ককেও প্রভাবিত করছে। তিনি দাবি করেন, তুরস্কের নিরাপত্তা ওই দুই দেশের স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল আফ্রিকার দেশগুলো ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং সাইপ্রাস দ্বীপে বিভাজন উসকে দিচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক বা তুর্কি সাইপ্রিয়টদের অধিকার লঙ্ঘন করে তাহলে আঙ্কারার প্রতিক্রিয়া হবে খুব স্পষ্ট এবং খুব কঠোর।

তিনি বিশ্ব নেতাদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ইসরায়েলকে আরও উৎসাহিত করছে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এক্স (টুইটার) পোস্টে এরদোয়ানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক বলে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন যে তিনি কুর্দিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালাচ্ছেন ও রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করছেন।

এসএন/

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

বুধবার (১০ জুন) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেন ভুলে না যাই, একটি ছোট আগুন বড় আগুনে পরিণত হতে পারে, বা অন্য কথায় বলতে গেলে- পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ।’

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যেকোনো ভুল হিসাব বা ভুল পদক্ষেপ বড় ধরনের সংঘাত ডেকে আনতে পারে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।

বুধবার (১০ জুন) এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

সংস্থা্র পরিচালক কার্লো বুয়োনটেম্পো সর্বশেষ মাসিক এল নিনো পূর্বাভাস সম্পর্কে বলেন, ‘১ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সব মডেল কার্যত তাদের পূর্বাভাস ঊর্ধ্বমুখী করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ে শক্তিশালী বা সম্ভাব্যভাবে রেকর্ড ভাঙা মাত্রার এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং বিশ্বব্যাপী বাতাস, চাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন আসে।

সর্বশেষ হালনাগাদে কোপার্নিকাস জানিয়েছে, পূর্বাভাসে অংশগ্রহণকারী বৈশ্বিক আবহাওয়াবিদদের ৭৫ শতাংশ মনে করছেন নভেম্বরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বাড়তে পারে।

আধুনিক যুগে ১৮৭৭-৭৮ সালে প্রথম বড় এল নিনো রেকর্ড করার পর থেকে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালে মাত্র তিনবার তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করে।

নাঈম/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর ইরান জর্দান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বুধবার (১০ জুন) হামলা এ ঘটনা ঘটে।

এটি গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের একটি। পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদ প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

তেহরান থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)’র বরাতে জানা গেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ‘দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করেছে এবং আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি ও মার্কিন কমান্ড সেন্টারসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে।

জর্দানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এদিকে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি জানানো হলে সেখানে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বাজে বলে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কুয়েতের সামরিক বাহিনীও জানায়, তারা ‘শত্রুতামূলক আকাশ লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করছে, যদিও সরাসরি আক্রমণকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা
মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে।

তিনি এক্স-এ লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না।’

হামলার সময় ইরানের দক্ষিণ উপকূলে একাধিক বিস্ফোরণের খবরও পাওয়া যায় বলে দেশটির গণমাধ্যম জানায়।

শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এ জলপথে কার্যত অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তেলের দামও ওঠানামা করছে। বুধবার দাম কিছুটা বেড়েছে, যদিও আগের দিন সম্ভাব্য চুক্তির আশায় তা কমে গিয়েছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বিদেশি বাহিনীকে হরমুজ এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা সংঘর্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমা নয়, এটি ইরান ও ওমানের যৌথ এলাকা।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সীমানার কাছাকাছি থাকা বিদেশি বাহিনী সবসময় ঝুঁকিতে থাকবে।’ সূত্র: এএফপি

নাঈম/